• মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

শাকিব কি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ছিলেন?

প্রকাশ:  ১৯ আগস্ট ২০২২, ১৪:৫৫
সোহেল অটল

শাকিব কি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ছিলেন? প্রশ্নটা এ জন্য আসছে, নয় মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরার পর দেশীয় চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খানের ভক্তরা দিনটিকে ‘শাকিব খানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ নাম দিয়েছেন। পোস্টার-প্লাকার্ড তৈরি করে ভক্তকূল বিমান বন্দরে ভিড় জমিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও চলছে একই প্রচারণা।

আপামর বাঙালি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বলতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফিরে আসাকে বোঝে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি শাসকেরা তাকে গ্রেফতার করে তত্‌কালীন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী রাখে। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

দিনটি আপামর বাঙালির কাছে একটি বিশেষ দিন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। দিনটিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে আমরা পালন করি।

শাকিব খানের তথাকথিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মাজেজা কী?

দেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষ এই অভিনেতা জীবনে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি যারপরনাই আহ্লাদিত হয়েছিলেন। প্রকাশও করেছিলেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে।

তার ফেসবুকের সেসব পোস্ট নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি। আমরা সবাই জানি, শাকিব খান ‘ইংরেজি’ বস্তুটা কম বোঝেন। কিন্তু ‘ইংরেজি দেশে’ গিয়ে এক-আধটু ইংরেজি না লিখলে কেমন দেখায়? তাই তিনি ইংরেজিতে নিয়মিত পোস্ট লিখতেন ফেসবুকে। সেটা দেখে দেশের আরেক চলচ্চিত্রাভিনেতা ওমর সানী শাকিবের পোসে্ট কমেন্ট করে বসলেন— তুই তো ইংরেজি জানিস না, ইংরেজি লিখলি ক্যামনে?

শাকিব খানের ইংরেজি লেখা এবং ওমর সানীর মন্তব্য— দুটোর কোনোটাই কম বিনোদন ছিল না।

যাহোক, শাকিব খান ওই যে যুক্তরাষ্ট্রে পা ফেললেন, আর ফেরার নাম নেই। শোনা গেল ওখানে কোনো এক মুভিতে শুটিং করছেন। না, হলিউডের কোনো মুভি না। দেশের মুভি-ই।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নাটক-সিনেমার কোনো শুটিং হচ্ছে শুনলে মনে পড়ে যায় হুমায়ূন আহমেদের কথা। প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিক একবার চ্যানেল আইয়ের প্রযোজনায় যুক্তরাষ্ট্রে একটা নাটক কিংবা টেলিফিল্ম এর শুটিং করছিলেন। বলা বাহুল্য, শুটিংয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই তারা কাজ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ম আছে, অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শুটিং করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

হুমায়ূন আহমেদ এবং তার টিম পুলিশ দেখলেই শুটিং গুটিয়ে ফেলতেন। কোনোরকম পিঠ বাঁচিয়ে ওই টেলিফিল্ম এর শুটিং করে এসেছিলেন।

আত্মকথায় হুমায়ূন আহমেদ এ কথা বলে গিয়েছেন।

শাকিব খান কোন পদ্ধতিতে, কিসের শুটিং করেছিলেন তা জানি না। তবে শুটিং-টুটিং এর আড়ালে তার আরেকটা উদ্দেশ্য ছিল— গ্রিন কার্ড পাওয়া।

গ্রিন কার্ড হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র। নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অবস্থা। গ্রীন কার্ডধারীরা মার্কিন নাগরিকত্ব তথা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

শাকিব খান দীর্ঘ নয়মাসের চেষ্টা-তদবির শেষে একখানা গ্রীন কার্ডের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন বলে জানতে পেরেছি।

শাকিব খানের মতো টপ সেলিব্রিটি, টাকা-পয়সাওয়ালা মানুষের মার্কিন গ্রীন কার্ড পাওয়া বিশেষ কোনো ঝক্কির ব্যাপার না। মার্কিনিরা চায় বিশ্বের সব দেশ থেকে সম্পদশালীরা তাদের দেশে বসবাস করুক। নিজের দেশের সম্পদ নিয়ে তাদের দেশ সমৃদ্ধ করুক।

গ্রীন কার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিব। তার কার্যকলাপ দেখে সেটা বোঝা যায়। অবশ্য উচ্ছ্বসিত হওয়ারই কথা। ঝা-চকচকে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর অনেকেরই বাংলাদেশকে আবর্জনা মনে হয়। আবর্জনা ছেড়ে থাকতে পারলে কার না উচ্ছ্বাস হয়।

তবে কথা হচ্ছে, শাকিব আবারো যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। খুব শিগগিরই যাবেন। কেবল গ্রীন কার্ড পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে— সম্পদশালী শাকিব খানকে অতি দ্রুতই পাসপোর্ট দিয়ে দিবে যুক্তরাষ্ট্র। তখন তিনি পুরোদস্তুর মার্কিন নাগরিক হয়ে যাবেন। আর তখন নয় মাস নয়, হয়তো টানা নয় বছরও যুক্তরাষ্ট্রে কাটাতে পারেন।

সেটা যদি হয়, তবে ‘শাকিব খানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ এর কী হবে? এই যে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ভক্তকূল তাদের গাঁটের পয়সা খরচ করে শাকিব খান নামক এক সম্পদশালী মানুষ তৈরি করলেন, সেই মানুষটি যদি একদিন আর দেশে না ফেরেন? এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটির তখন কি হবে?

লোকজন ভাড়া করে মিছিল-মিটিং করার সংস্কৃতি আমাদের পুরনো। আমাদের রাজনীতিতে এই ‘ভাড়া-কৌশল’ ওপেন-সিক্রেট। বিমান বন্দরে শাকিব খানকে অভ্যর্থনা জানানো শত শত মানুষ, তাদের হাতে পোস্টার-প্ল্যাকার্ড দেখে অনেকে সন্দেহ করছেন— শাকিবও কি রাজনীতির চিরাচরিত কৌশল অবলম্বন করলেন?

নিতান্তই ব্যক্তিস্বার্থে একটা লোক বিদেশে আরাম-আয়েশ করে একদিন দেশে ফিরল, আর হুট করে শত শত মানুষ সেখানে ভীড় জমালো তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য? দেশের মানুষ এতই আত্মভোলা, এতই পাগল? ধারণা করছি, এটা একটা পূর্ব-পরিকল্পিত ইভেন্ট।

পিআর এজেন্সিগুলো আজকাল অনেক কিছুই সহজ করে দিয়েছে। লোকজন ভাড়া করে একটা ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ পয়দা করার চেষ্টা তারা করতেও পারে।

সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছা অনেক সেলিব্রিটির মধ্যেই দেখছি আমরা। শাকিবের মনে তেমন ইচ্ছা আছে কী-না, বলতে পারব না। যদি থাকে, সন্দেহ নেই এই ইভেন্ট বিশেষ কাজে লাগবে।

সোহেল অটল: সাংবাদিক ও লেখক [email protected]

পূর্বপশ্চিম- এনই

সোহেল অটল,শাকিব খান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close