• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

মার্কেটে ব্রেস্টফিডিং সেন্টার এবং মহিলা শৌচাগারের ব্যবস্থা জরুরি 

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২২, ২০:৫৩
যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ

করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর ঈদ বাজার তেমন জমেনি। মহামারী করোনার কারণে করোনার প্রথম বছর মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি বললেই চলে। গত বছর তাও হালকা পাতলা ঈদের বাজার করেছেন অনেকেই।তবে এ বছর করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে ঈদ বাজার স্বাভাবিক হতে চলেছে। যার ফলে এবারের ঈদ বাজার স্বাভাবিকভাবেই আগের বছরগুলির তুলনায় বেশ জমজমাট হয়ে উঠবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোজার শুরুর আগে থেকেই অনেকেই ঈদ কেনাকাটা শুরু করেন। বিশেষত যারা সেলাই করা কাপড়ে ঈদ করেন তারা রোজা শুরুর আগেই থান কাপড় কেনে সেলাই করতে দিয়ে দেন। কিন্তু মূলত ঈদ বাজার জমে উঠে ১৫ রমজানের পর থেকে।

সম্পর্কিত খবর

    চাকরিজীবীদের অনেকের বেতন হয়ে থাকে ১৫-২০ রমজানের ভিতর। মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীও মধ্য রোজা থেকে পরিবার পরিজনের জন্য ঈদ বাজার করতে বের হন। যার ফলে ১৫ রমজানের পর সর্ব শ্রেণী পেশার মানুষের আনাগোনায় ঈদ বাজার বেশ জমজমাট হয়ে উঠে।

    ঈদ বাজারে এমনিতেই অনেক ভীড় থাকে। তাছাড়া ঈদের কেনাকাটায় মহিলা ক্রেতাদের সমাগম থাকে চোখে পড়ার মতো। কারণ, বাঙালি সমাজ ব্যবস্থায় পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজনের কেনাকাটার ভার থাকে মূলত পরিবারের মহিলাদের উপর। যদ্দরুণ মহিলাদের নিজেদের কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার আত্মীয় স্বজনের কেনাকাটাও করতে হয়।

    যার ফলে তাদের বারবার ছুটতে হয় ঈদ বাজারে। আর যেসব মহিলা ছোট বাচ্চা নিয়ে যান, তাদের কষ্ট হয় অনেক।

    কারণ, দেশের মার্কেটগুলো এখনো মহিলা বান্ধব হয়ে গড়ে উঠেনি। বাচ্চা নিয়ে যাওয়া মহিলাদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। মার্কেটগুলোতে নেই কোন ব্রেস্টফিডিং সেন্টার। এমনকি নামি দামি ব্র্যান্ডশপগুলোতেও নেই কোন ব্রেস্টফিডিং সেন্টার এবং মহিলা শৌচাগার।অধিকাংশ মার্কেটে অপর্যাপ্ত মহিলা শৌচাগার। যাও যে ক'টা থাকে সেগুলো নোংরা ময়লায় ভরপুর এবং আলোহীন। যা অনেকক্ষেত্রে নিরাপত্তাহানিকর।

    তাছাড়া যখন কোন মহিলার তার বাচ্চাকে ব্রেস্টফিডিং করাতে হয়, তখন কোন দোকানের পিছনে চিপাচাপায় বসে সেই মহিলাকে বাধ্য হয়ে ব্রেস্টফিডিং করাতে হয়। যা একজন মহিলার জন্য অসম্মানজনক এবং অস্বস্তিকরও বটে। অনেক সময় সেই মহিলা তিক্ত বিরক্ত হয়ে কেনাকাটা না করেই বাসায় চলে যেতে বাধ্য হন।

    এসব বিষয় মার্কেট পরিচালনা কমিটি এবং ব্র্যান্ডশপ মালিকগণ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মহিলা ক্রেতাদের বিড়ম্বনা এবং কষ্ট লাঘব হবে এবংদেশের মার্কেট ব্যবস্থা মহিলা বান্ধব মার্কেট হিসেবে গড়ে উঠবে।

    লেখক: সংগঠক ও কলামিস্ট

    পূর্বপশ্চিম-এনই

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close