• সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

শেখ হাসিনা ম্যাজিকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ১৩ বছর

প্রকাশ:  ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:২০
ড. কাজী এরতেজা হাসান

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ছিল- সমৃদ্ধির পথে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল করা। গ্রাম হবে শহর- সেøাগানে জনগণকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে- প্রতিটি গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, আত্মকর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি অর্জনে নিশ্চয়তার। এসব প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সফল শেখ হাসিনার সরকার? গত তিনটি বছর সরকার পরিচালনার অনুভূতি-ই বা কী ক্ষমতাসীনদের? বিগত তিনটি বছর খুব যে স্বস্তিতে গেছে- তা বলা যাবে না।

এই তিন বছরের দু’বছর চলে গেছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে। আছে নানা অতৃপ্তিও। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে দলের তৃণমূলের দ্বন্দ্ব, কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি-নেতার হঠকারী কর্মকাণ্ডে নীতি-নির্ধারকরা বিব্রত হয়েছেন বারবার। অবশ্য শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপে তা সামালও দেওয়া গেছে। তবে মৌলবাদ তোষণের কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্ষমতাসীনদের। আবার এ বছরের শেষার্ধে এসে শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে বর্বর সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দলের ভূমিকাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। এ নিয়ে ভাবমূর্তির সংকটে পড়ে দেশ, সরকার ও দল- তিনটিই।

সম্পর্কিত খবর

    সব হিসাব মিলিয়ে বিগত তিন বছরের অর্জন ও ঘাটতির হিসাব মেলাচ্ছেন দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা। হাতে আছে আরও দুই বছর। এই সময়ে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করে অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ভোটের বিষয়টি মাথায় রেখে দল গোছানোয় মনোযোগ দেবে ক্ষমতাসীনরা। বিশেষত বিগত নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের অপপ্রচার ও ক্ষেত্র বিশেষে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কারণে দেশে-বিদেশে নানা সমালোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যাতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়; সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবে সরকার ও দল।

    ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৯-এর ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ৭ জানুয়ারি তিন বছরপূর্তি হলো। তিন বছর সময়কালে সরকারের সাফল্য অর্জন অনেক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতির পিতার হাতে গড়া সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়েই এ দেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। আবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষও উদযাপন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বেই। মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন এ সরকারের একটি বড় অর্জন। গত কয়েক বছরে মাথাপিছু গড় আয় অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৭০৯ মার্কিন ডলার। এখন তা ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। এখন তা বেড়ে ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। একসময় বিদ্যুতের ব্যাপক সংকট ছিল। প্রতি ঘণ্টায় একাধিকবার লোড শেডিং হতো। দেশে এখন বিদ্যুতের সেই সংকট নেই। বাংলাদেশ এখন ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের আরেক নাম বাংলাদেশ। দেশের আট বিভাগকেই ফোর লেন সড়ক যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী বছরে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে বাংলাদেশ। পেয়েছে টেকসই (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রার অগ্রযাত্রার পুরস্কারও। দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ। গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৮ বছর হয়েছে। অন্যদিকে দেশে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

    নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে এ বছরের ডিসেম্বরে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ আরো কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগান্তকারী প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে এ বছরই গাড়ি চলবে। এরই মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত টানেলের কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৬ শতাংশ। ব্যয়বহুল প্রকল্প মেট্রোরেলের আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি স্টেশনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেল উদ্বোধন হবে। আগামী জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে, এরপর কর্ণফুলী টানেলের উদ্বোধন হবে এবং বছর শেষে মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গত তিন বছরে সরকার মেগা প্রকল্পে যতটা গুরুত্ব দিয়েছে স্থানীয় উন্নয়নে ততটা নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন আশানুরূপ হয়নি।

    এ সরকারের সামনে বর্তমানে সরকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সর্বদলীয় সংলাপও করছেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এছাড়া শেখ হাসিনার ম্যাজিকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ১৩ বছরে যারাই এ সরকারের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে নিজের জীবনমান উন্নয়ন করেছেন, তারা আবারো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। কেননা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি সরকার পরিচালনা করলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

    লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম্/ সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ

    পূর্বপশ্চিম-এনই

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close