• সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

চিকিৎসা শেষে দোস্ত তুই ফিরে আয় পূর্ণ প্রাণশক্তিতে

প্রকাশ:  ২৩ আগস্ট ২০২১, ০০:২০ | আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ০১:৫২
এবিএম জাকিরুল হক টিটন

উজানে সাতাঁর কেটে সাফল্যের তীরে ভেড়া এক কলমযোদ্ধা বন্ধু পীর হাবিবুর রহমান। আমরা উভয়ে উভয়কে হৃদয়ের গভীর থেকে সন্মোধন করি দোস্ত বলে সেই পরিচয়ের প্রথম দিন থেকে। আবেগ, যুক্তি, অপ্রিয় সত্য ও তথ্যনির্ভর কলাম লেখায় এক দ্রুতিময়, ছান্দিক সাবলীল ওর পথচলা।

সংবাদ লেখায়, কলামে, গদ্যে, সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় লিখবার রুচী ও রসবোধ, শব্দ নিয়ে খেলা তার লেখাকে করে তোলে সুখপাঠ্য। তার হাতে শব্দ বাজে ঘুঙুরের মতো। কারো ভাবা-না ভাবা মাথায় নিয়ে কখনো কলম ধরে না। হিসেবের খাতা বাইরে রেখে দেশ, মানুষ ও উদার অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন মাথায় রেখে ও কলম চালায়।

সম্পর্কিত খবর

    সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে। কোনো ভনিতা ছাড়াই নিজের বিশ্বাসকে সোজাসাপ্টা লেখে ফেলে। রাখঢাক না করে মনের তাগিদে লেখে যায় নিরন্তন। হটাৎ রেগে যাওয়া, হটাৎ আবেগে ভাসা পীর হাবিব বিশ্বাস করে দ্বিধাহীন চিত্তে নিজের বিশ্বাস লেখে সর্বদা। ওর বিশ্বাসে সৃষ্টিশীল মানুষের ক্ষরণ, অন্তহীন হাহাকার, অতৃপ্তি ও দহন দ্রোহ থাকে, যা ওর নিজেরও বর্তমান।

    তার রোমান্টিক প্রেমিক হৃদয়ের সবটা জুড়ে আছে রবীন্দ্রনাথ। সত্যের পক্ষে বিদ্রোহ করে উঠে নজরুল। হৃদয়ের গহীনে লুকানো এক লালন। মনের ক্ষত নিয়ে চরম প্রেমিক ও কবি হতে হয় যেমন বিশ্বাস থেকে, তেমনি ও জানে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ না হলে লেখক-সাংবাদিকও হওয়া যায় না। তার এই মন তাকে টেনে নিয়ে যায় তার প্রথম প্রেম জন্মশহর জল-জোছনার সুনামগঞ্জে।

    প্রকৃতি আর সুন্দরের পুজারি পীর হাবিব ভরা পূর্ণিমার রাতে হাওড়ের নৌবিহারে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার সুখ খোঁজে। জোছনার গাহনে শরীর ধুয়ে ধুয়ে বিশুদ্ধ হতে জানেও। বৃষ্টি, কাদা, ধুলিমাখা স্মৃতির সুনামগঞ্জ শহরে, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে ফেরা কিংবা অচেনা ছুটি ঘোষণা করে বিরতিহীন আড্ডার নস্টালজিক ওকে ভীষণ ভাবায়। ইচ্ছা ও মনের বিরুদ্ধে চলতে বললে ওর শরীর অবশ হয়ে আসে।

    চোখে মুখে নামে বিষন্নতা। বৈরি স্রোতের বিপরীতে সাতাঁর কেটে অর্ধেকের বেশি জীবন পার করা পীর হাবিব জীবনের পরতে পরতে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। তবু মাথা নত করেনি এখন পর্যন্ত।

    দোস্ত পীর হাবিব বেশ কিছু দিন হলে জটিল রোগে ভুগছে। যদিও ওর মনোবল, চলাফেরা কথাবার্তায় তা বুঝবার উপায় নেই। তার পরেও চিকিৎসা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চুড়ান্ত চিকিৎসার মাঝ পথে বাধাগ্রস্ত হয় করোনার কারণে। সব যোগাযোগ বন্ধ ছিলো বলে।

    অবশেষে ঢাকার সঙ্গে ভারতের আকাশ যোগাযোগ শুরু হওয়াই রোববার ২২ আগষ্ট বন্ধু পীর হাবিব ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে মুম্বাই যাচ্ছে ওর বোনমেরু ট্রান্সপ্লানটেশনের জন্য। মে মাসেই করার কথা ছিলো। করোনার প্রলয় যোগাযোগ ছিন্ন হওয়াই দেরি হয়ে গেলো। ওর চিকিৎসক যাকে ভারতের মানুষ অনকোলজির ভগবান বলে সেই সুরেশ আদবানি জাসলুক হসপিটালে বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্টে ওর শরীরের টিস্যুই ব্যবহার করবেন। গত ডিসেম্বরে ওর মালটিপল মায়োলমা নামের ক্যানসার ধরা পরলে মুম্বাই যায় চিকিৎসার জন্য। মোট ২২টি কেমো ইনজেকশন নিয়েছে। ওরাল কেমো চলছে। ভিডিও কনফারেন্সে আদবানির চিকিৎসা। কিছু টেস্ট দিলে রিপোর্ট দেখে বলেছেন ডিজিজ কন্ট্রোলে।

    এ রোগকে তারা ডায়াবেটিসের সাথে ধরেন। যা নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়। অনেকে কেমো নিয়ে মেডিসিন নির্ভর জীবন কাটালেও এর চুড়ান্ত চিকিৎসা বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট। এতে শরীর বিষমুক্ত হয়। দোস্ত সেটিই করবে। জীবনে যখন যেটির মুখোমুখি হয়েছে মানসিক শক্তিতেই মোকাবেলা করেছে তখন।মানসিক শক্তি হারায়নি ও মোটেই। হার্টে তিনটি রিং আছে ওর। ৬ বার এনজিওগ্রাম করিয়েছে তবু অদম্য গতিতে ছুটে চলা থামেনি ওর।

    বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করার পর ওকে একমাস হসপিটালে আইসোলেশনে রাখা হবে। এটা ওর জন্য হবে কষ্টের। তারপর কিছুদিন মুম্বাই শহরে থাকতে হবে ওকে পর্যবেক্ষনে। ওর সাথে ছোট ভাই সেন্টু ও ওর ছেলে অন্তর গেছে। ফিরে এসে বন্ধু আবার সেই আগের গতিতেই ছুটতে চায়। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর আমাদের সকল আনুগত্য ও ভরসা। তিনি দয়ালু। ওর ও আমাদের আত্নীয়, স্বজন, বন্ধু, ওর পাঠকরা শুরু থেকেই দোয়া করছেন। আশা করি এই দোয়া অব্যাহত রাখবেন সকলে। ওরা ৮ভাই বোন ছিলো। ৪ ভাইবোন অকালে চলে গেছেন পরপারে। আপনাদের সকলের দোয়াই বন্ধু এবার সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে আসবে আমাদের মাঝে। আল্লাহ মেহেরবান।

    লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ।

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close