• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||

মফিজের করোনাকাল

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১০ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ২২:১৩
ফাত্তাহ তানভীর রানা
ফাত্তাহ তানভীর রানা

মফিজ হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল সে বুঝে উঠতে পারেনি। মফিজ কিছুতেই করোনা-জ্বর টেস্ট করাবে না। তার একাধিকবার জ্বর এসেছে এবং জ্বর যথারীতি সেরেও গিয়েছে। মফিজ বেসরকারি চাকুরি করে, তার করোনা রোগ হয়েছে শুনলেও অনেক সমস্যা। আক্রান্ত সেই মাসে তার বেতন বন্ধ হয়ে যাবে! বেসরকারি চাকুরি তো আর বসিয়ে বেতন দেবে না। যাই হোক, এই নিয়েই করোনাকালে আমাদের মফিজ।

আবার, মফিজ মাস্ক পরবে না। কারণ, মাস্ক পরলে তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সে বেশিক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে পারে না। যখন সে বেশি তদারকি দেখে ,তখন সে মাস্ক পরে; আবার সুযোগ বুঝে মাস্ক খুলেও ফেলে! অনেকেই এই একই কাজটি করে বলে মফিজ শুনেছে এবং দেখেছে।

সম্পর্কিত খবর

    মফিজ টাকা দিয়ে মাস্ক কিনতে নারাজ। তাই, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি করলে সে নির্দিধায় অংশগ্রহণ করে মাস্ক গ্রহণ করে। মাস্ক শুধু কি নিজের জন্য? এই মাস্ক দিয়েই সবার চলে। তার পরিবারের কারও আর মাস্ক কেনার প্রয়োজন হয়নি। মাস্ক নেয়া তার ভালোলাগার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

    এই মাস্ক গ্রহণের স্বভাব তার কিভাবে হল পাঠকের তাও জানা উচিৎ। মফিজ কিছুতেই মাস্ক পরবে না। একদিন লকডাউনে মফিজ পুলিশের সামনে পড়লো! এবার মফিজকে দেখে কে! তর্ক করতে গিয়ে প্যাদানি খেয়ে মফিজ মাস্ক খোঁজা শুরু করলো। তারপর না মফিজ মাস্ক পরলো। যাই হোক, এভাবেই চলছিল মফিজের করোনাকাল।

    একদিন মফিজ অফিসের কাজে অফিস শেষে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। সে দেখল কয়েক যুবক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে মাস্ক বিতরণ করছিল। অনেকেই মাস্ক নিচ্ছেন; মফিজ কি আর ফ্রি পাইলে কিছু মিস করবে? মফিজ হলেও সে সেয়ানা! মফিজ যথারীতি লাইনে দাঁড়িয়ে মাস্ক নিল এবং মাস্ক পরে রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করলো।সেদিন ছিল মাসের শেষ দিন। বেতনের টাকাটাও ছিল তার সাথে। মফিজ হাঁটছে রাস্তা দিয়ে তারপর!

    বউয়ের কান্না শুনে মফিজের ঘুম ভাঙলো। কিন্তু, মফিজের এমন লাগছে কেন? সে কোথায়? কি হয়েছিল তার? মফিজ নিজকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলো! হঠাৎ মনে হলে সে পকেটে হাত দিয়ে দেখলো কিছুই নেই! তার বেতনের টাকা গেল কোথায়! মফিজ আর কিছুই ভাবতে পারছে না।

    রাস্তার পাশে বস্তির মানুষেরা মফিজকে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। আর, দুই দিন সে বাড়িতে না গেলে সবাই বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে তাকে অবশেষে হাসপাতালে পেয়ে যায়। হুম মফিজের মনে পড়েছে! সে মাস্ক পড়ে রাস্তায় হাঁটছিল; তারপর তার আর কিছুই মনে নেই। মাস্কে কিছু মেশানো ছিল না তো!

    মফিজ মনে মনে বুদ্ধি আঁটলো, এরপর কেউ কিছু জিনিস ফ্রি দিলে সে নেবার আগে শতবার ভেবে দেখবে; সেটা নেয়া যাবে কি না। মফিজের মনে পড়লো, মুরুব্বিরা বলতেন সস্তার বারো অবস্থা! অথচ এই কথাটি মফিজের আগে মনে হলে এত বড় সর্বনাশ হতো না। এখন মফিজের সাড়া মাস কি দিয়ে চলবে?

    লেখক: কবি ও ব্যাংকার

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

    ফাত্তাহ তানভীর রানা
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close