• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
  • ||

প্রত্যাশিত এসিইএম ও এসএসসিইএম কোর্স (নায়েম) এবং অপ্রত্যাশিত ফলাফল বিপর্যয়

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০২১, ০০:৩৩
অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী

অগত্যা কলম হাতে বসতেই হলো। গত জুলাই সন্ধ্যা গোধূলি থেকেই মনের ভেতরে একটা চাপা অভিমান আর ক্ষোভ জমে জমে অস্থির রাত্রি জাগরণের ধকলে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বুকের ভেতরে পুরো SSCEM কোর্সের সময়গুলো ঘুরেফিরে কুণ্ডলীর মতো করে আহত আক্রোশে আছড়ে পড়ছে। তাই নিজেকে খানিকটা হালকা করার প্রয়াস।

যেকোনো প্রশিক্ষণ মানুষকে দক্ষ করে তোলে, পূর্ণতা এনে দেয় ; মর্যাদার উচ্চ আসনে আসীন করে মানবিক মূল্যবোধের বিচ্ছুরণ ঘটায়। সে অনুযায়ী সিনিয়র স্টাফ কোর্স অন এডুকেশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট (sscem) কোর্সটি পেশাগত জীবনের একাডেমিক স্ট্যাটাসে সর্বশেষ সংযোজন বলেই বিবেচিত। যেটিতে আমরা ২২তম SSCEM কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে একসূত্রে এক ছাতার তলে একই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছিলাম। পাশাপাশি ACEM কোর্সটিও আনুষ্ঠানিকভাবে একই আনুষ্ঠানিকতায় স্বশরীরে সকলের উপস্থিতিতে ছোটোখাট এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে শুরু হয়েছিলো। অনুভূতি ব্যক্ত করতে যেয়ে আমিই মঞ্চে বলেছিলাম, পরিবারের শতমুখী বাধা সত্বেও অদম্য সাহসিকতা, একনিষ্ঠতা আর শিক্ষানবীশমুখীনতা মনোবৃত্তি নিয়েই প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছি। সেইসাথে কভিডকালীন অতিমারীর মাঝে এসব কোর্সের আয়োজকবৃন্দকেও তাদের নিষ্ঠা আর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছি।

সম্পর্কিত খবর

    ২৪ মে, ২০২১ থেকে শুরু হওয়া কোর্সটিতে ভোরের পাখি হয়ে পিটিতে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন গেমসে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, দৌড়ঝাঁপ করে স্নানাহার শেষে প্রাত্যহিক সেশন যেনো উপভোগ্য নিয়মিত এক রুটিনে পরিণত হয়েছিলো। জীবনের এই গোধূলি বেলায় একঝাঁক তারুণ্যদীপ্ত মন মানসিকতার সমবয়সী সাথী-বন্ধুদের পেয়ে আবার সেই কিশোরবেলার স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলাম আমরা। মনেই ছিলো না বয়স বেড়েছে। পিটির লাইনে দাঁড়িয়ে খুনসুটি, রসালাপ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে সিরিয়াস পড়াশোনার বিষয়গুলো নিয়মিত আবাসিক হলের পড়ার টেবিল পর্যন্ত গড়াত। অংকেতে মাথা নেই এমন আমরা অনেকেই সেশনের প্রথম পরীক্ষার আগে এর কাছে তার কাছে সহসাই অংক করতে বসে যেতাম; হলে ছেলেদের রুমেও গিয়েছি একাজ করতে। নিজে বুঝে, অন্যকে বুঝিয়ে তবেই না উঠে আসা হতো।

    সেশনের প্রথম কার্যদিবসেই কোঅর্ডিনেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন বলে দেয়ার পাশাপাশি ডিজি অ্যাওয়ার্ড ও চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির ঘোষণাটি দেয়া হয়েছিলো। সেমতে লোভনীয় আকর্ষণীয় অ্যাওয়ার্ড দুটো নিজের ঝুলিতে পূরণসহ ফলাফলের মানসম্মত একটা পর্যায়ে অবস্থান করতে সকলেরই চেষ্টা চলেছিলো নিরবে নিভৃতে গোপনেও। সম্মানিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-অর্ডিনেশন হয়তো প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দের সহজাত পরীক্ষাভীতি আর বাহ্যত নিস্পৃহতা পর্যবেক্ষণ করেই যেনতেন একটা রেজাল্ট দাঁড় করিয়ে তাদের পর্বত প্রমাণ দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। কিন্ত অত্যন্ত বিনয় এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ২২তম SSCEM কোর্সের সম্মানীয় কো-অর্ডিনেশনকে জানাতে চাই, দেখে শুনে, জেনে বুঝে, সহানুভূতি সহকারে আপনারা পুরো দায়িত্বটা কী আদৌ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পেরেছেন? যোগ্যতার সব নির্ধারক ও মাপকাঠি বিচার বিশ্লেষণ করে যথাযথ ধৈর্য ও আন্তরিকতা সহকারে ফলাফলটা তৈরি হয়েছিলো কী! সুপ্রিয় কো-অর্ডিনেশন, SSCEM কোর্সে যে চল্লিশটি প্রাণ এবং ACEM কোর্সে একইভাবে আরো যে চল্লিশটি প্রাণকে একত্রে মিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদের সকলের মেধা, যোগ্যতা, মেজাজ, বয়স, মানসিক বয়স, সুস্থতা, সামর্থ্য সবকিছু কিন্তু সমান নয়; যেমন বাবা মায়ের পাঁচটা সন্তানের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে মতদ্বৈততা রয়েছে তেমনি মানুষের পাঁচটা আঙুলও কিন্ত সমান নয়। এতোগুলো বৈচিত্র্যেভরা প্রাণের মধ্যে স্বভাবে ব্যবহারে উনিশ বিশ হতেই পারে। কিন্ত অর্জনের জায়গাটিতে সকলেই অভিন্ন সমমনা।

    শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ সম্মানিত পর্যায় থেকে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে এসেছেন তাদের পরীক্ষার ফলাফল এবং পরীক্ষা নিয়ে মর্যাদাবোধের জায়গাটাও কিন্ত বড় পরিচ্ছন্ন, অনঢ় অচল। ছাড় দেওয়ার বিষয়টা আত্মঘাতী। সেদিক থেকে সামগ্রিক মূল্যায়নের বিষয়টিতে যেমন মাইক্রো টিচিং এর ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারিত করা হয়েছে তেমনি বয়োবৃদ্ধ কিশোরেরা সবকিছুতেই সমানভাবে আগ্রহী এবং মনেযোগী ফলাফলের বিষয়েও। তাই তো লক্ষ্য করা গিয়েছে, আত্ম অতিক্রম করে ক্লাস, খেলাধুলা, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, গ্রুপওয়ার্ক, ওয়ার্কশপসহ সবকিছুকে নির্ধারিত সময়ের ফ্রেমে ফেলতে গিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে কোনো কোনো প্রশিক্ষণার্থীকে হাসপাতালে কেউ বা ল্যাব এইডে ভর্তিও হয়েছিলেন। এসবকে যেমন খাটো করে দেখা ঠিক হবে না তেমনি প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে তারা নিজেদের সবটুকু সামর্থ্য আন্তরিকভাবে দেননি সেটা বলাও সঙ্গত হবে না। আর কভিডকালীন যুদ্ধ উৎরাতে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানজনক একটা strategy প্রয়োগ করলে দিনশেষে হাসিমুখে সকলের ঘরে ফেরা সফল হতো বলেই আমার মনে হয়।

    দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আমরা ক্যাডারের শীর্ষ প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ সংসার কর্মক্ষেত্রের বাইরে, অনবদ্য আনন্দধামে মত্ত হয়ে নিজেদের মতো করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গ্রুপগুলোকে পাখির কলকাকলিতে সরব মুখর সংগঠিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলেছিলাম সেই সকলের আনন্দ আকাঙ্ক্ষার গ্রুপগুলো বেদনার ভারে আজ দীর্ণ, ছিন্নভিন্ন। হতাশার দীর্ঘশ্বাস সবাইকে আচ্ছন্ন করে মৌনতার চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছে। (হয়তো সকলেরই নয়)।

    ৭ জুলাই প্রায় সমাগত সন্ধ্যায় ২২তম SSCEM এবং ৩৫তম ACEM কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দের ফলাফল ঘোষণার পর পরই আমাদের কিছু সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীর সব আনন্দ উচ্ছ্বাস যেনো হঠাৎ করে কর্পূরের মতো উবে গেলো। অনেকের leave নেয়া দেখে আমিও leave নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বলতে পারিনি; ওভাবেই বসেছিলাম। মনে হলো অযোগ্যতার চরম পারাকাষ্ঠায় বিচরণ করছি। এই শেষবেলায় পরিবারের সদস্যদের কাছেও, অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম হওয়ায় সবই যেখানে ওপেন। এক বিব্রতকর অনাসৃষ্টি। ভাবলাম, অধিকতর যোগ্য হতে গিয়ে অযোগ্যতার গ্লানি নিয়ে ফিরে আসা বড় কষ্টকর বড় বেদনার।

    উল্লেখ্য, ACEM এর ফলাফলে ক্যাটাগরি A+,A,A- এভাবে করা হলেও তাদের মাঝে যেমন অসন্তোষ বিরাজিত তেমনি ২২তম SSCEM কোর্সটির ফলাফলেও নানামুখী অসন্তোষের জমাট বাঁধা অন্ধকার মলিন করে তুলেছিলো পুরো অনুষ্ঠানের বর্ণিল আবহটিকে। লজ্জায় দ্বিধায় অনেকে টু শব্দটি করেননি। ২২ তম কোর্সের ফলাফলে সবাইকে গড়ে 'A' ক্যাটাগরিতে রাখলেও এরই মাঝে আবার ভিন্ন এক ক্যাটাগরিতে ০১ থেকে ১০ পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে রাখা হয়েছে বিশেষ মর্যাদায়। ডিজি অ্যাওয়ার্ড, চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড যারা অর্জন করলেন অন্তত তারা কী A+ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না? বিষয়টা আমাদেরকে হতাশ করেছে, মর্মাহত করেছে। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, মূল্যায়ন কমিটি ফলাফল তৈরির কাজটি সম্পন্ন করেছেন। কিন্ত যৌক্তিক দিক থেকে চিন্তা করলে স্বাভাবিকতা হলো, যে বা যারা কোনো নির্ধারিত কমিটির দায়িত্ব নেন, দেখভাল করেন, আগমণ প্রস্থান সময় জ্ঞান, সার্বিক পারফরম্যান্সের স্বতঃস্ফূর্ততা, অংশগ্রহণ অভিযোজন; সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকেন তারাই মূল্যায়নের কাজটি করবেন মানে কাজটা তাদের জন্য সহজ এবং সঠিক হয়। কিন্তু এর বাইরে যদি কোনো আলাদা কমিটি এই মূল্যায়নের কাজটি করেন তাহলে এর যথার্থতা কতোটুকুন বিচার্য বা গ্রহণযোগ্য? বলাই বাহুল্য।

    নায়েম (জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্হাপনা একাডেমি) শিক্ষা ক্যাডারের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য অনন্য এক প্রতিষ্ঠান। যার সাথে ক্যাডারের সর্বস্তরের কর্মচারীদের পেশাগত জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবেগমথিত স্নিগ্ধ সৌরভ ছড়িয়ে রয়েছে। পেশাগত জীবন মানের উন্নয়নের জন্য, শিক্ষার্থীদের মানব সম্পদে উন্নয়নের লক্ষ্যে যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সাম্যতা, ন্যয্যতা, দক্ষতাসহ সাম্প্রতিক বিশ্বের নব নব আবিষ্কার উদ্ভাবনের সাথে সম্পৃক্ত করানো হয় সেই প্রতিষ্ঠানে যদি প্রথাগত প্রবাদ প্রবচন অনুযায়ী সারা ঘর লেপে দুয়ারে কালির মতোন ফলাফল বিপর্যয়ের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে প্রশিক্ষণার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েন তাহলে এটি ক্যাডারের জন্য যেমন লজ্জার তেমনি প্রহসনের বিষয়ও বটে।

    রেকর্ড রয়েছে, ৩৩ তম ACEM কোর্সের এক প্রশিক্ষণার্থী এরকম ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে তার কষ্টার্জিত সার্টিফিকেটটি সকলের উপস্থিতিতেই অভিমানে রাগে দুঃখে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। নিয়ম রীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত ব্যাচে অন্য ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্তি তো বটেই নানান ধরনের বিচ্যুতি সত্বেও ১ম, ২য় ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণের বিষয়টাও পরিলক্ষিত হয়।

    কথার কথা অনেকেই বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকেন, নায়েমের সার্টিফিকেট দিয়ে কী হয়? আমরা তো কোনো নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাবো না অথবা ইত্যাদি ইত্যাদি। কথাটা সর্বাংশে সঠিক নয় বলে অনেকেই মনে করেন। পড়াশোনা প্রশিক্ষণ দক্ষতা ক্যারিয়ার attitude চলমান জীবনের বাঁকে বাঁকেই প্রয়োজন। ঘরে বাইরেও প্রয়োজন। আর আত্মসম্মানের জায়গাটিতে তো আপোষহীনভাবেই অপরিহার্য ।

    মানুষের জীবন তো ক্ষণস্থায়ী। সে তাঁর কর্মের মাঝে সার্বিক অর্জনের মাঝেই বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে ফেরে। তাহলে কেনো এমন অর্জন মূল্যহীন বিবেচিত হবে! শেষ পাশাদারিত্ব সময়ের সর্বশেষ অনন্য এক অর্জন SSCEM কোর্সের সার্টিফিকেট। নগণ্য নয় তো কোনো বিবেচনাতেই। অবশ্যই অর্জনের ঝুলিতে সর্বশেষ হিরণ্ময় সংযোজন পালক। সর্বোত্তম সে অর্জন। সর্বোত্তম সে সাধনা।

    সেদিন ০৭ জুলাই /২০২১ এর সন্ধ্যে আয়োজনে যে সমাপনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছিলো সেখানে দুই কোর্সের কো-অর্ডিনেশনের সাথে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মানিত শিক্ষা সচিব মহোদয় জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন; মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েমের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেনসহ নায়েমের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মহোদয় জনাব ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। আপনারা আমাদের শিক্ষা পরিবারের এক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমাদের আশ্রয় আস্থার নিরঙ্কুশ জায়গা। যাদের সাথে নিজেদের অব্যক্ত কষ্টগুলো শেয়ার করা যায় অনায়াসে । তাই বলছি স্যার,সেই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ রুদ্ধশ্বাসে দুরুদুরু বক্ষে অপেক্ষা করছিলেন সফল সমাপ্তির সেই অমিয় উচ্চারণটি শ্রবণের জন্য অকস্মাৎ ড. তাহসিনা ম্যাডামের কণ্ঠে উঠে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মোহন মূহুর্তটি। দেখা গেলো প্রত্যাশার জায়গাটি অনেকেরই আশানুরূপ নয়। বড় দুঃখজনকভাবেই সর্বোত্তম সাধনার ফসল সকলের ঘরে ওঠেনি। শরীর স্বাস্থ্য বয়স সু্স্থতা ভেদে অনেকেই যার যার মতো করে মিইয়ে পড়লেন, মুষড়ে পড়লেন। জীবনের এই প্রান্তবেলায় এমন ক্যাটাগরিক্যাল রেজাল্টের বাড়াবাড়িটা না থাকলেই কী নয় স্যার! বিনয়াবনত চিত্তে বলতে বাধ্য হচ্ছি স্যার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং সর্বশেষ বক্তা সম্মানিত সচিব স্যারের কণ্ঠ নিঃসৃত আশ্বাসের বাণীটিও আহত অন্যদের জন্য বয়ে এনেছে গভীর শূন্যতা হতাশা, মর্যাদাহানিকর তো বটেই।

    ফলাফল বিপর্যয়ের প্রায়শই এমন ঘটনা ঐতিহ্যবাহী নায়েমের প্রতিষ্ঠিত সম্মানকে ক্ষুন্ন করে ক্ষুন্ন করে প্রশিক্ষণার্থীদের অহমবোধ মূল্যবোধসহ প্রত্যাশার নির্মল অবস্থানটিকে। সম্মানিত শিক্ষা সচিব মহোদয়সহ সেদিনের সমাপনী সন্ধ্যায় উপস্হিত শিক্ষা পরিবারের অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আমার সবিনয় নিবেদন, কোনো সাফাই সংস্কৃতি নয় নির্মোহ হৃদয়বৃত্তির নিরিখে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার অব্যাহত রেখে নায়েমের এসব অসঙ্গতি সামঞ্জস্যহীনতার নিরসন ঘটিয়ে নায়েমকে সুষ্ঠু পরিবেশ তথা স্বমহিমায় স্হাপন আজ সময়ের দাবি। ক্যাডারের কোমলমতি প্রশিক্ষণার্থী থেকে শুরু করে পৌঢ়ত্বের ভারে ন্যুজ প্রশিক্ষনার্থীদের আস্থার গৌরবের জায়গাটি প্রতিস্থাপিত হোক।

    হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে যে ঐক্যের শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় দেশে আজ গ্লোবাল সিটিজেনশিপ অর্জনের লক্ষ্যে জ্ঞান দক্ষতা, সক্ষমতা গণতান্ত্রিকতা, গুণাবলি, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধের উৎকর্ষ সাধনে পরিবর্তনের যে অব্যাহত কর্মযজ্ঞ চলছে সেই কর্মযজ্ঞকে বাস্তবায়ন করতে হলে ঠুনকো স্বার্থ, স্বজনপ্রীতি, প্রিয়তোষণ ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সবাইকে একযোগে কাজ করে প্রগতির লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

    বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে, দরদী মনের ঔদার্যে, পরমতসহিষ্ণুতায়, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ দেশ প্রিয় মাতৃভূমি আরও সমৃদ্ধ হবে কভিডকালীন দুর্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতায় অতিমারী উত্তর বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আপন মহিমায় এগিয়ে যাবে এটাই হোক আজকের লিখনির সফল সার্থকতা।

    লেখক: দর্শন বিভাগ এবং সাবেক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close