• সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

কবি শঙ্খ ঘোষ, শ্রদ্ধা জানবেন

প্রকাশ:  ২১ এপ্রিল ২০২১, ২০:০৩
শেখ ফিরোজ আহমদ
কবি শঙ্খ ঘোষ

“লেখো আয়ু লেখো আয়ু চুপ করো, শব্দহীন হও”- শঙ্খ ঘোষ।

না, বাড়তি আয়ু লিখলেন না সৃষ্টিকর্তা। তাঁর আয়ুর বরাদ্দ এদিক ওদিক হলো না। তিনি কবি শঙ্খ ঘোষের জন্য ৮৯-কেই ফাইনাল রাখলেন। করোনার উসিলায় অন্যভুবনে নিয়ে গেলেন জীবনানন্দ পরবর্তী সবচেয়ে পরিশীলিত এই কবিকে।

শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন- বাবরের প্রার্থনা, মহা নিমগাছ, যমুনাবতী ইত্যাদি। ধুর , কোনটা রেখে কোনটার নাম বলি, সম্ভব না। এতো এতো লেখা, সবই ভালো। তাই ওই চেষ্টা বাদ দিয়ে বরং তাঁর একটি কবিতা পড়া যাক-

“হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়

সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়

এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে

সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়।

পায়ের ভিতর মাতাল, আমার পায়ের নিচে

মাতাল, এই মদের কাছে সবাই ঋণী ––

ঝলমলে ঘোর দুপুরবেলাও সঙ্গে থাকে

হাঁ-করা ওই গঙ্গাতীরের চণ্ডালিনী।

সেই সনাতন ভরসাহীন অশ্রুহীনা

তুমিই আমার সব সময়ের সঙ্গিনী না?

তুমি আমায় সুখ দেবে তা সহজ নয়

তুমি আমায় দুঃখ দেবে সহজ নয়।”

সঙ্গিনী/ শঙ্খ ঘোষ

২.

“নির্বাচিত ভাষণমালা”- কবি শঙ্খ ঘোষের বক্তৃতার বই। গত বছর বইমেলায় ‌যুক্ত বের করেছে। আমার দায়িত্ব ছিল পান্ডুলিপি মুদ্রণ উপযোগী করে গুছিয়ে দেওয়া। অনেক হ্যাপা গেছে, কমপ্লিট পান্ডুলিপি একবারে আসেনি। মিনিমাম ক্লু সম্বল করে কিছু লেখা বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্ৰহ করতে হয়েছে। অনেক গুলো বক্তৃতার ম্যাটার কম্পোজ করে পেইজ মেকআপ করে পশ্চিম ‌বঙ্গে শঙ্খ ঘোষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থতার কারণে উনি সরাসরি প্রুফ দেখতেন না। দীর্ঘদিন তাঁকে সাহচর্য দিয়েছেন, এরকম একজন সুহৃদ শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে কথা বলে বলে ‌প্রুফ ঠিক করতেন। কিছু বানান আমাদের ডিকশনারিতে একরকম, ওনাদের প্র্যাকটিশে‌ আরেক রকম। বানান নিয়ে কনফিউশন যখনই হয়েছে। যুক্ত প্রধান কবি নিশাত জাহান রানাকে ম্যাসেঞ্জারে দিয়েছি। রানা তাদের কাছে পাঠাতেন। তারা অভিমত দিতেন। এভাবেই কাজ এগিয়েছে। শঙ্খ ঘোষ তালিকা থেকে কিছু বক্তৃতা কমিয়েছেন। উনি ফাইনালি হার্ডকপি দেখে দেন। এভাবেই বইটি ছাপা‌ হয়।

বইটি খুব সুন্দর হয়েছে। আমিও কিছু জিনিস শিখেছি। তার মধ্যে একটি হলো সবসময় বানানের ব্যাপারে সিরিয়াস থাকা। অপরটি হলো কীভাবে তিনি তাঁর কথাগুলোকে বক্তৃতা বা ভাষণ করে তুলতেন। দেখেছি, যে বিষয়টির ওপর তাঁর বলবার কথা-তার ওপর তিনি একটা দার্শনিক ভাবনা স্থির করে রাখতেন। তারপর অসামান্য যুক্তি ব্যাখ্যার রূপ রসে রঞ্জিত করে উপসংহারে পৌঁছাতেন। যুক্তর নিশাত জাহান রানা একজন কমপ্লিট পাবলিশার অ্যান্ড এডিটর। কবি শঙ্খ ঘোষের “নির্বাচিত ভাষণমালা” করতে‌ গিয়ে আরেকবার বুঝলাম।

প্রিয় কবি শঙ্খ ঘোষ, আপনার পারলৌকিক মঙ্গল কামনা করি। সৃষ্টিকর্তা আপনার আয়ু হয়ত বাড়ান নি। কিন্তু আপনি আমাদের বাংলা কবিতার আয়ুষ্মান কন্ঠ। আপনি বেঁচে থাকবেন। আমি কখনো ইন্ডিয়ায় যাইনি। গেলে আপনার সঙ্গে দেখা করতাম- এই নাম ছিল লিস্টের এক নম্বরে। আপনি নেই, আপনার লেখাগুলো রইলো, এটাই এখন সান্তনা।

২১ এপ্রিল ২০২১

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শেখ ফিরোজ আহমদ,কবি শঙ্খ ঘোষ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close