• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

করোনাকালে ছাত্রলীগ

প্রকাশ:  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:৫৮
নাসরুল্লাহ শাকুরি

চীনের উহান থেকে ইউরোপ আমেরিকা ঘুরে প্রতিবেশী দেশ ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে মহামারি করোনাভাইরাস। বিশ্বব্যাপী জেঁকে বসা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ফলে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যাও। প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। রোগীর সেবা ও মৃতদেহ দাফনেও যখন স্বজনেরা কাছে ভিড়েনি ঠিক তখনই আক্রান্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

কোভিড-১৯ এর ক্রান্তিলগ্নে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কাফন-দাফন, আক্রান্তদের আইসোলেশনে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতকরণ ও করোনায় অসহায় হয়ে পড়া মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে অবিচলভাবে মাঠে ময়দানে কাজ করে ছাত্রলীগের মানবিক টিম। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আগে থেকেই জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে করোনাকালীন কার্যক্রম শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এ ছাত্র সংগঠনটি।

ঢাকাসহ সারাদেশে সাধ্যমতো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুধু খাদ্য সামগ্রীই নয়, চিকিৎসকদের নিয়ে টিম গঠন করে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা, অসুস্থ মানুষের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেন তারা। ক্যাম্পাস, মসজিদ, বাজার ও মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার জন্য সাবানপানির ব্যবস্থাও করা হয়। মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে রাতভর খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটের উপর ঘুমিয়ে পড়ছেন ছাত্রলীগ নেতা- এমন ছবিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই দুর্যোগে ছাত্র সংগঠন হিসেবে এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছে ছাত্রলীগের মানবিক কর্মকাণ্ড।

ছাত্রলীগের মানবিক কাজের প্রশংসা করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগ স্যানিটাইজার তৈরি করছে। ফর্মূলা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে তৈরি শুরু করে। বিনা পয়সায় বিলি করে। বিভিন্ন জায়গায় তারা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার বিতরণ করছে। আমাদের সংগঠনের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে খাবার নেই সেখানে খাবার দিতে হবে।

বতর্মানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে সম্মেলন হলেও ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদেরকে অপসারণ করে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর জয়-লেখককে দায়িত্ব দেওয়া হয় ছাত্রলীগের।

দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে মানবিক সংকটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর গত এপ্রিলে কৃষকের ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। তখন কৃষকের পাশে এগিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখক নিজেও ধান কাটতে মাঠে নামেন।

করোনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্যানিটাইজার তৈরি করে ছাত্রলীগ। ফর্মলা অনুযায়ী দলীয় নেতাকর্মীরা স্যানিটাইজার বানিয়ে রাজধানী ও জেলা পর্যায়ে তা বিতরণ করে । মানুষকে করোনার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্কও বিতরণ করা হয়।

গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দেয় বন্যা। বন্যায় ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণে কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগ। জামালপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, মুন্সিগঞ্জ, পাবনা, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও শেরপুরে বন্যার্তদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

শুধু তাই নয়, করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা গ্রামে ফিরে যায়। কিন্তু দীর্ঘসময় বন্ধের কারণে মেস কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে সংকট দেখা দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে সংকট নিরসনেও কাজ করেছেন ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অ্যাসেম্বলি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতির ক্রান্তিকালে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এ সংগঠনটি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সর্বশেষ আমরা দেখতে পাই যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে যখন মাকে জঙ্গলে রেখে চলে যায় তার প্রিয় সন্তান, স্বামীকে ছেড়ে চলে যায় তার প্রিয়তমা স্ত্রী। বাবা-মা-ভাই-বোনের লাশ নিতে যখন কেউ আসে আসে না হাসপাতালে, দাফন-সৎকারে লাশের পাশে যখন থাকে না তার আত্মীয়-স্বজন— জাতির এমনই ক্রান্তিকালে আবারো মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এভাবেই সর্বদা মানবতার পাশে থেকে কাজ করবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই ছাত্র সংগঠন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

ছাত্রলীগ,নাসরুল্লাহ শাকুরি,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close