• বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

আমাদের দেউলিয়া নেতাদের নিয়ে কিছু কথা 

প্রকাশ:  ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:২৪
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

আমাদের দেশের এক শ্রেণির অতিউৎসাহী রাজনীতিবিদদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন আছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাদের কথাবার্তার অসামঞ্জস্যতা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, যা শুনে অনেকেই বলছেন আমরা যেন এক ভবঘুরে রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে জীবন যাপন করছি। দেশের কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদরা আমাদের দেশের রাজনীতিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন যে, যা দেখে কোন সচেতন জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিরা রাজনীতির মাঠে এখন খেলতে আসবেন বলে মনে হয় না। আমাদের দেশের এক শ্রেণির রাজনীতিবিদরা এমনই দেউলিয়া হয়েছেন যে, যার জন্যে আজ তাদের কথাবার্তার মাঝে কোন ধরনের গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা আছে বলে দেশের মানুষ মনে করে না।

আমরা সবাই জানি এখন আমরা কোভিড-১৯ ভাইরাসের তান্ডবে আক্রান্ত হয়ে এক ভয়াবহ জীবন-যাপন করছি। যেখানে আজ স্বাভাবিক জীবন যাপন করাই যেন আমরাসহ পৃথিবীর সকল মানুষের দায় হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে দেশের দেউলিয়া মেধা শূন্য রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা শুনে মানুষ আরো বেশি করে ভয়ার্ত হয়ে উঠছে। মানুষকে নিয়ে এমন ইঁদুর বিড়াল খেলায় দেশের দেউলিয়া রাজনীতিবিদরা এতটাই সক্রীয় রয়েছেন যে, তাদের কথাবার্তায় এবং আচার-আচরণে দেশের মানুষের জীবন যাপনে কতোটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তারা অর্থাৎ দেশের একশ্রেণীর দেউলিয়া মেধা শুন্য রাজনীতিবিদরা একবারের জন্যও ভেবে দেখছেন না। কেননা দেশের মানুষের অবস্থা কি হয়, তা দেউলিয়া রাজনীতিবিদরা ভেবে দেখতে কখনও উৎসাহী হন না। তারা অতিউৎসাহী হন রাজনীতির মাঠে উল্টা-পাল্টা কথা বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তির মাঝে ফেলে নিজেদের রাজনৈতিক কিংবা দলীয় এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধার করতে। তাই আজ দেখা যায় অতীতে দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের যেরকম ভাবে সম্মান করত, এখন আর আগের মত তেমন সম্মান করতে দ্বিধাবোধ করে থাকে। এখন দেশের অসহায় মানুষ একশ্রেণীর রাজনীতিবিদদেরকে, মানুষ বাঘ-ভাল্লুককে যেমন ভয় পায়, তেমনি করেই ভয় পেয়ে থাকে। জানিনা আমাদের দেউলিয়া মেধা শুন্য অকৃতজ্ঞ রাজনীতিবিদরা তা জানেন কিনা।

আমাদের দেশে একশ্রেণীর নেতারা আছেন, যারা দায়িত্ব-জ্ঞানহীন মানুষের মত এমন সব রাজনৈতিক বিচার বিশ্লেষণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করে থাকেন, যা দেখে দেশের কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভয়ে আক্রান্ত অসহায় মানুষ কি করবে না করবে, তা নিয়ে চিন্তা করে কিছুই বের করতে পারছে না। কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে দেশের মাঝে নেতিবাচক কথাবার্তা কম হয়নি। কেউ কেউ বুঝে কিংবা ইচ্ছে করে না বুঝে অনেক কথাবার্তা বলেছেন। তার মধ্যে দেখা গেছে কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এমন সব মানুষ দেশের মানুষের সামনে হাজির হয়েছেন, যারা ডাক্তারও নন কিংবা যারা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিও নন। দেশের মানুষ এসব জ্ঞনহীন মানুষের কথাবার্তাও বিপদে পড়ে মন দিয়ে শুনেছে। তারমধ্যে আবার বিরুদ্ধ মনোবৃত্তি সম্পন্ন ব্যাক্তিরা, দেশের মানুষের ভাল-মন্দের কথা চিন্তা-ভাবনা না করে অনেক গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বার বার বিভ্রান্ত করেছেন, শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে।

দেশের মানুষ কোভিড-১৯ ভাইরাসের অস্বাভাবিক অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যখন নিজেদের সাহসটুকু ধরে রাখার জন্যে বারাবার চেষ্টা করেছে, তখন জ্ঞানপাপী কিংবা জ্ঞানহীন (দুটির একটি হবে) আমদের দেশের একশ্রেণীর মাথামোটা অতিউৎসাহী রাজনীতিবিদরা জনগনকে ইচ্ছে করেই বিভ্রান্ত করেছেন। দেশের মানুষকে অতিউৎসাহী জ্ঞানহীন জ্ঞানপাপী মাথামোটা একশ্রেণীর রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এই জন্য যে, প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ভাবে রাজনীতির গ্যাড়াকলে ফেলার জন্য। তাতে দেশের মানুষের ক্ষতি হল না লাভ হল, তা উপরের উল্লেখিত রাজনীতিবিদরা ভেবে দেখতে কখনো চান না। আমাদের মত অসহায় জনগণের তখনই কষ্ট হয়, যখন দেখি আমাদের একশ্রেণীর নেতারা শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য উল্টা-পাল্টা কথা বলে আমাদেরকে এমন এক বিভ্রান্তকর অবস্থার মধ্যে ফেলেন, যে অবস্থায় আমরা দেশের অসহায় জনগন দিকভুল করা মানুষের মত চরম এক বিভ্রান্তকর অবস্থার মধ্যে পড়ে কি করব না করব তা ভেবে পাই না।

আমাদের দেশের একশ্রেণীর রাজনীতিবিদরা নিজেদের অনৈতিক কর্মকান্ড ঢাকার জন্য এমন সব কথাবার্তা বলেন, যা শুনলে মনে হয় আমাদের স্বার্থবাদী নেতারা আমাদেরকে হয় মানুষই মনে করেন না, নতুবা ভাবেন দেশের জনগনও মনে হয় তাদের মত অর্থাৎ দেশের স্বার্থবাদী নেতাদের মত জ্ঞানবোধহীন জড়বস্তু।স্বার্থবাদী নেতারা নিজেদের দুষ্কর্ম অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে চান নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে সুখে-শান্তিতে থাকতে। সরকার কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্য যখন ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে একশ্রেণীর হীনস্বার্থ উদ্ধারকারী রাজনৈতিক নেতারা মানুষকে বিভ্রান্তির মাঝে ফেলার জন্য এমন সব কথাবার্তা বলছেন, যা তাদের বলা শোভা পায় না। যে কোন দায়িত্বশীল পদে থেকে অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি দায়িত্বহীনদের মত কথা বলেন, তা হলে মানুষ কোন দিন এটা ভালভাবে নেবে না।

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে সমষ্টির আশা আখাংকা কিংবা সমষ্টির ভাল মন্দের ব্যাপার গুলো ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে কিংবা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে চলে না। দেশের স্বাস্থ্যগত সামগ্রীক বিপর্যয়ের মাঝে কেউ যদি দলীয় রাজনৈতিক খেলা খেলতে চান, তাহলে আমাদের জাতীয় স্বার্থ এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে, যেখানে মানুষের ভাল কিছু তখন আশাই করা যাবে না। মানুষের হাহাকারকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করেন, তারা কি মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। তারা নিজেদের স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুর বিচার বিশ্লেষণ করে কথাবার্তা বলেন। যে কথাবার্তায় মানুষের মৌলিক স্বার্থের কথা থাকে না, সেই কথাবার্তা মানুষকে আরো ভয়াবহ এক অন্ধকারের দিকে টেনে নিয়ে যায়। রাজনীতির মধ্যে যদি জনগণের মঙ্গল সাধনের মনোবৃত্তি না থাকে, তাহলে এমন রাজনীতি করার কি দরকার আছে। আলু-বেগুনের ব্যবসা করলেইতো চলে। আমাদের রাজনীতিবিদদের জেনে রাখা উচিত (তিনি যেকোন দল কিংবা আর্দশের ধারক বাহক হোন না কেন) মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে যদি সবকিছু নেতিবাচক বিশ্বাস থেকে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে এমন বিশ্বাস থেকে মানুষের কোন মঙ্গল সাধন কখনো হবে না। আমাদের রাজনীতিবিদদের আরো একটি কথা মনে রাখা উচিত, বিপর্যয়কালীন সময়ে সবকিছুই রাজনীতির ব্যাপার হতে পারে না। আবার মানুষের বিপর্যয় নিয়ে যারা রাজনীতির মাঠ গরম করেন, তারা নিশ্চয়ই ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা করতেই পারেন না। যার জন্য সককিছুতেই তারা দলীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে সবকিছু গ্রহণ করতে চান। তাতে যে দেশের অসহায় মানুষের চরম সর্বনাশ ঘটে, তা তারা একবারও চিন্তা করে দেখেন না।

রাজনীতি করতে হয় মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে। একথা নতুন কথা নয়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তা অবশ্যই জানেন। কি দিয়ে মানুষের মঙ্গল হবে কিংবা কি দিয়ে মানুষের অমঙ্গল হবে না, তা ভেবে যদি কেউ রাজনীতি না করেন, তাহলে তাদের উচিত হবে রাজনীতির মাঠ থেকে অবসর নেয়া কিংবা বিভিন্ন গুণীজনদের বক্তব্য কিংবা তাদের লেখা বই-পুস্তক পড়াশুনা করে রাজনীতির মাঠে পদচারণা করা। মানুষকে গুরুত্বহীন করে রাজনীতি করলে সেটা আর রাজনীতি থাকে না। সেটা হয়ে যায় রংবাজী। রংবাজী দিয়ে রাস্তাঘাটে শোর-চিৎকার করা যায়। কিন্তু মানুষের মঙ্গল সাধন করা যায় না। কথাটা দেশের যেকোন স্বার্থবাদী নেতাদের জেনে রাখা উচিত। ভ্যাকসিন দেয়া নিয়ে আমরা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের দায়িত্বশীলতার যে পরিচয় পাচ্ছি, তাকে আর যাই বলা হোক না কেন, তাকে দায়িত্বশীলতার নিদর্শন বলা যায় না। তাদের বক্তব্যে মানুষ শুধু আতংকিতই হচ্ছে। আতংকিত মানুষ হয় ভয়াবহ। আতংকিত মানুষ দুঃচিন্তা ও ভয় থেকে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে।

ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষকে দ্বিধায় ফেলে এক শ্রেণির নেগেটিভ মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিরা আমাদের রাজনীতির মাঠে যেভাবে ঘৃনা ছড়াচ্ছেন, তা কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে, বিশেষ করে কোন রাজনৈতিক দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে মানুষ আশা করে না। আমাদের নেতাদের ভাব এখন এ রকম, যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। আমাদের দায়িত্বশীল নেতাদের উচিত হবে ভ্যাকসিন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে একবার চিন্তা-ভাবনা করা। তাদেরকে ভাবতে হবে তারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা দেশের মানুষ কি ভাবে নেবে। কেননা এখনো দেশের মানুষ জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের কথাবার্তার গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নেতারা যদি নিজেদের আচরণ এবং বক্তব্যের জন্য নিজেদেরকে গুরুত্বহীন করে ফেলেন, তা নিজেদের জন্য যেমন সুখকর হবে না, তেমনি দেশের সামগ্রীক ভাল-মন্দের ব্যাপারেও তা মঙ্গলজনক হবে না। আমাদের একশ্রেণীর জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তাদের বক্তব্য আর ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে যেন কোন পার্থক্য নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য আর জাতীয় পর্যয়ের নেতাদের বক্তব্যে যদি কোন পার্থক্য না থাকে, অর্থাৎ উভয়ের বক্তব্য যদি দায়িত্ব-জ্ঞনহীন লাগাম ছাড়া হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের সর্বক্ষেত্রেই অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচার করে মানুষের কি লাভ হবে, এটা নেতিবাচক নেতাদের উচিত দায়িত্বশীল মনোবৃত্তি নিয়ে মানুষের কাছে তুলে ধরা। তাই বলছিলাম আমদের (নেতারা তিনি যে কোন দলই করেন না কেন) তাদের বক্তব্য যেন মূল্যহীন না হয়। নেতাদের কথাবার্তা যদি মূল্যহীন হয়ে যায়, তাহলে দেশের মানুষের অবস্থা কি হবে, তা যেন আমাদের জাতীয় পর্যায়ের নেতিবাচক চিন্তা-চেতনায় আচ্ছন্ন নেতারা একবার ভেবে দেখেন। আমাদের নেতাদের প্রধান কাজ হবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করার ব্যাপারে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করা। মানুষ তাদের কথাবর্তার প্রভাবে যেন কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা না করে, সেদিকে নেতাদেরকেই লক্ষ্য দিতে হবে। দেশের মানুষ চাইবে, নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণ। নেতাদের দায়িত্বশীলতার জন্যে মানুষ কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে সাদা মনে আগ্রহী হয়ে ওঠবে। জনগণ বিশ্বাস করে আমাদের নেতারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। কেননা একশ্রেণীর নেতারা যদি কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হন, তাহলে দেশের মানুষেরই অমঙ্গল হবে। কথাটা আমাদের আতœস্বার্থবাদী নেতাদের অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে।

লেখক: আইনজীবি, কবি ও গল্পকার

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close