• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

প্রতিবাদী নেত্রী এ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি

প্রকাশ:  ০২ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪৩
ড. আবুল আজাদ
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি

জনদরদী রাজনীতিক, সমাজ সেবক, অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং টেলিভিশন টকশোর তুখোড় বক্তা এ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার। গতবছর এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৪ দিনের হাসপাতাল জীবনে ৩ দিনই কোমায় ছিলেন। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে এই প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিকের জীবনাবসান ঘটে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে দুই মেয়াদে তিনি এমপি ছিলেন। সংসদে যাওয়ার আগে তিনি সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল, কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত এ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম মহিলা প্রসিকিউটর এবং সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। এছাড়াও অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন সংগঠনসহ মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং রাইটার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ট্রেজারারসহ বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

    মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছিলেন। স্কুল ও কলেজ জীবনে সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রথম পুরস্কার পেতেন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাতেও প্রথম হয়েছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলে সূর্যাস্ত আইনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য সন্ত্রাসীরা তাকে শারীরিকভাবে হামলা ও নির্যাতন করে। কিন্তু কোন অত্যাচার ও নির্যাতনই তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে নিবৃত করতে পারেনি। স্বৈরতন্ত্র ও নিপীড়ন, নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিরোধী দল হিসাবে আওয়ামী লীগের সংসদ অভিমুখী বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তাকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে রাপা প্লাজার পাশের ড্রেনে ফেলে রাখা হয় এবং তাকে উদ্ধার করতে বাধা দেয়া হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সংসদে ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির ভাষণগুলো ছিল হৃদয়স্পর্শী। সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনাকে অসামাজিক ভাষায় আক্রমণ করা হলে ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি প্রতিবাদে জ¦লে ওঠতেন। তার ভাষণ স্বদলীয় সাংসদদেরও মুখ রক্ষা করত। জাতীয় সংসদে বাপ্পিই প্রথম বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াফত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। মাত্র ৪৯ বছরের জীবনে তার অর্জনের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ হলেও তিনি কখনও সেদিকে তাকাননি।

    অবিরাম কাজ করে গেছেন। অনাথ-এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের তিনি দু’হাত উজাড় করে দান করতেন। রুচিশীল মনন-মেধায় পরিপূর্ণ করে রেখেছিলেন জীবন। তিনি ভারত, ভিয়েতনাম, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মান, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও কানাডাসহ বহু দেশ সফর করেন।

    ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি দেশে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন তার প্রমাণ ২ জানুয়ারি ২০২০ দেশের সকল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ৩ জানুয়ারি সকল প্রিন্ট মিডিয়া তার মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার ও প্রকাশ করে। আজ তোমাকে স্মরণ করি হে মমতাময়ী। সেই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

    লেখক: চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

    ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    cdbl
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close