• মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

৪২ নাগরিকের চিঠি ও আমাদের সুশীলরা!

প্রকাশ:  ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:৫২
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

আমাদের দেশে একশ্রেণির সুশীল ব্যক্তিরা আছেন, যাদের কাজই হলো বর্তমান সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে, শুধু নেতিবাচক সমালোচনায় ব্যস্ত থাকা। তাদেরকে মানুষ দেশের দুর্দিনে পাশে পায় না কিংবা তারাও মানুষের পাশে যেতে চান না। তাদের কাজই হলো দেশের প্রতিক্রীয়াশীল বিরুদ্ধবাদীদের মতো সরকার কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ছিদ্র অন্বেষন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জনসমুদ্রে হেয় প্রতিপন্ন করা। তাদের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দ্ধারা গঠিত সরকারের সমালোচনা করতে করতে, তারা বুঝতেই পারছেন না কখন কোথায় কি বলতে হবে এবং তারা এটাও বুঝতে পারছেন না তাদের কথাবার্তা কখন যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। অনেকেই বলে থাকেন তাদের অর্থ্যাৎ সুশীলদের কথাবার্তার ধরন দেখে মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি দ্বারা গঠিত সরকারকে কোনো ভাবে বিপদে ফেলতে পারলেই তারা খুব শান্তি পাবেন। এই শ্রেণির অসুশীলরা দুধ ভাতেও মাছের কাঁটা খুঁজতে থাকেন।

নির্বাচন কমিশনের চলমান কর্মকান্ড নিয়ে ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক আমাদের দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা বলছেন সুশীলরা আসলে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সব পথ হারিয়ে, এখন ইসির বিরুদ্ধে লেগেছেন মূলত বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার জন্য। দেশের সুনাগরিক থেকে শুরু করে সবার বক্তব্যই হলো, আজকে যারা ইসির কর্মকান্ডের তদন্তের জন্য আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন, তাদের নাম দেখলেই বুঝা যায়, তারা কেন দেশের এই কোভিড-১৯ মহামারির ক্রান্তিকালে হঠাৎ করে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। তাদের কথাবার্তা নাকি দেশের একটি বিশেষ দলের কথার্বাতার মত মনে হয় বলে দেশের প্রগতিশীল সচেতন মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয়। দেশের সচেতন মানুষ মনে করে ইসির কর্মকান্ডের মধ্যে যদি কোনো রকম ভুল থাকে, তাহলে অব্যশই তার তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তাদের অভিযোগ পত্রের ড্রাফট যদি দেশের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অফিসে করা হয়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবেই। এসব কথা আসে তখনই যখন দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে এই শ্রেণির লোকরা রাত দিন সকল সময়ই বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে থাকে। সকল সময় বর্তমান সরকারের গঠনমূলক আলোচনা সমলোচনা না করে তারা শুধু মাত্র নেতিবাচক কথাবার্তা বলে নিজেদেরকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে ফেলেন। আবার অনেকে মনে করে আমাদের দেশে একশ্রেণির সুশীল নাগরিকের বক্তব্য একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের কথাবার্তার মত। তাদের চাল চলন কথাবার্তার ধরন দেখলে মনে হয় তারা যেন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে এসে সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আবার যে শ্রেণির সুশীলরা আমাদের দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ইসির কর্মকান্ডের তদন্তের জন্য চিঠি দিয়েছেন, তাদের দৌড়ঝাঁপ দেখলে অনেকেই মনে করে ওরা যেন সরকারের প্রতিপক্ষ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য। দেশের মানুষ যদি আমাদের দেশের একশ্রেণির সুশীলদের কর্মকান্ড দেখে মনে করে, তারা বর্তমান সরকারের প্রতিপক্ষ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য, তাহলে কি মানুষকে দোষ দেয়া যাবে?

সম্পর্কিত খবর

    দেশের সচেতন মানুষ মনে করে থাকে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই এবার মাঠে নেমেছেন। কোভিড-১৯ ভাইরাসের মহামারিতে দেশের মানুষ যখন আতংকের মাঝে বসবাস করছে, তখন এই শ্রেণির লোকেরা কেন কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে, হঠাৎ করে ইসির ভালমন্দ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ অর্থাৎ দেশের সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকরা আমাদের দেশের নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন সুশীলদের কার্যকলাপ দেখে তাতে যেন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। আবার এমন অভিযোগও করা হচ্ছে, যারা আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন তাদের মধ্যে এক/এগারোর সুবিধাভোগী ব্যক্তিরাও আছেন। আবার তাদের অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির কাছে যারা ইসির কর্মকান্ডের ব্যপারে চিঠি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা চাচ্ছেন দেশের মধ্যে এক অস্থিতিশীল অবস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করে, এক/এগারোর মতো অসাংবিধানিক সরকার দেশে আনতে। অভিযোগ আছে তারাই নাকি অসাংবিধানিক এক/এগারোর সরকারকে দীর্ঘায়িত করতে মরণপন চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অর্থাৎ এক/এগারোর অসাংবিধানিক সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও আছে, তারা নাকি কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখেন না। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস রাখেন না বলেই এই শ্রেণির সুশীলরা ব্যস্ত থাকেন দেশের মাঝে এক/এগারোর মতো অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে নিয়ে আসতে। সচেতন মানুষেরা এমন কথাও বলে থাকেন আমাদের দেশের সুবিধাভোগী এই শ্রেনীর সুশীলরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও, বাস্তবে তারা চরম গণতন্ত্র বিরোধী ফ্যাসিস্ট শক্তির সমর্থক ও ধারক বাহক। তারা কেবল নিজেরটা বুঝেন। নিজেরটা বুঝতে গিয়ে সুবিধাভোগী সুশীলরা গণতন্ত্রকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। গণতন্ত্রের পক্ষ শক্তির লোকেরা মনে করে রাষ্ট্রপতির কাছে যারা ইসির কর্মকান্ডের ব্যপারে চিঠি দিয়েছেন, তারা মূলত অগণতান্ত্রিক শক্তিকে দেশের শাসন ক্ষমতায় বসাবার জন্য নতুন নতুন বুদ্ধি বের করছেন, যাতে বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে ফেলে দেশের মানুষকে দুর্ভোগের মাঝে ফেলা যায়। যারা সবকিছু ধুম্রজালের মধ্যে ফেলে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন, তারা কেন যে ভুলে যান এদেশের মানুষ কখনো কোনো সময় অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ইতিহাস ঘাটলেই আমরা তার প্রমাণ পাব।

    বেরসিকরা বলে থাকেন আমাদের দেশের সুবিধাভোগী অগণতান্ত্রিক মনোভাব সম্পন্ন সুশীলরা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এই জন্য সমর্থন করে থাকেন, অগণতান্ত্রিক এক/এগারোর মত অবস্থা দেশের মাঝে সৃষ্টি হলে তাদের দাম বাড়ে। সুবিধাভোগী সুশীলদের কোন দাম কিংবা মূল্যায়ন থাকে না, যদি দেশের মধ্যে এক/এগারোর মতো অগনতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকে। আমাদের দেশের গণতন্ত্র বিরোধী সুশীলরা কখনো জনগণের কাছে যান না। কোনো দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ালে তারা ভোট পান না। আবার অনেক সময় ভোটে দাঁড়ালে তাদের জামানতের টাকা ফিরত আনতে পারেন না। কেননা ভোটে দাঁড়ালে তারা এত কম ভোট পান যে, যার জন্য তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এই যে ভোটে দাঁড়িয়ে ভোট না পেয়ে আমাদের হীনস্বার্থ উদ্বারকারী সুবিধাবাদী সুশীলদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়, তাতে কিন্তু তারা লজ্জা পান না। এই সুশীলদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও আছে, তারা আমাদের গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল যখন দেশ বিদেশে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছিল, তখন এই সুশীলরা আমাদের নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা বলে চেয়েছেন, আমাদের অবাধ ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। কিন্তু তারা আমাদের গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কোন ভাবেই তাদের কার্যকলাপ দ্বারা বিন্দু মাত্রও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেননি। সুশীলরা আমাদের গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তাদের মিথ্যাচার দিয়ে দেশের বাইরে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেননি এই জন্য যে, দেশের ও দেশের বাইরের লোকজন আমাদের গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দুর ও কাছে থেকে পর্যবেক্ষন করে বুঝতে পেরেছেন, আমাদের গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর ও অবাধ হয়েছে। তাই সুশীলদের মনে হয় বিদেশীদের ওপর রাগও আছে। এক সংবাদ ভাষ্যে বলা হয় যে, এই শ্রেনীর সুশীলরা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পঞ্চাশটি আসনের ফলাফল নিয়ে সাত দিনে তাদের গবেষণা শেষ করেছিল। মাত্র সাত দিনে পঞ্চাশটি আসনের ফলাফল গবেষণা করা যায় বলে কেউ বিশ্বাস করে না। সাত দিনে জাতীয় সংসদের পঞ্চাশটি আসনের ফলাফলের গবেষণাকে অনেকেই অবাস্তব ও অসম্ভব বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমন গবেষণা তারাই করতে পারে, যারা মূলত কোনো গবেষণা না করেই গবেষণার ফলাফল দিয়ে থাকেন। তাই এক/এগারোর পক্ষ শক্তি সুশীলদের মিথ্যাচার কেউ বিশ্বাস করেনি। কেউ কেউ বলেছেন পঞ্চাশটি আসনের নির্বাচনের ফলাফলের সাতদিনের গবেষণা অবাস্তব ফলাফল তারাই বিশ্বাস করতে পারে, যারা বিশ্বাস করে গাঁজার নৌকায় উঠে পাহাড় অতিক্রম করা যায়।

    আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকায় এমন কথা ও বলা হচ্ছে, যারা আমাদের দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ইসির কর্মকান্ডের ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন লোকজনও আছেন যার নিজেরাই নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধে নিজেই অপরাধী। তাদের একজন অপকর্মের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। আবার পরে নিজের চাকরিচ্যুতির কথা গোপন রেখে আরেকটি বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধের কারণে সিলেকশন কমিটি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সুশীলের নিয়োগ সুপারিশ বাতিল করা হয়েছিল। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিলিয়ার পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আছে, তারা যখন অন্য কারো কর্মকান্ডের ভালো মন্দের ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, তখন মানুষ না হেসে পারে? যারা নৈতিক ভাবে শুদ্ধ নন, তারা কেন যে মানুষের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মানুষ তা ভেবে কোনো উত্তর খোঁজে পায় না। উত্তরটা কি নৈতিকতা বর্জিত সুশীলদের দেয়া উচিত নয়? একজন সৎ ব্যক্তিই অধিকার রাখেন নৈতিকতা বর্জিত অসৎ ব্যক্তির ভালোমন্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলার।

    মানুষ যখন কোভিড-১৯ ভাইরাসের তাণ্ডবে খেয়ে না খেয়ে কর্মহীন অবস্থায় ঘর বন্দী ছিল, তখন আমাদের হীনস্বার্থ উদ্বারকারী সুশীলরা খেয়ে না খেয়ে কর্মহীন ঘর বন্দী কর্মহীন মানুষের খোঁজ খবর কি নিয়েছিলেন? তারা কেমন আছে। এখন দেশের অবস্থা যখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে খুবই ভালো জায়গায় আছে, তখন কেন দেশের ৪২ জন বৈশিষ্ট নাগরিক ইসির কর্মকান্ডের ব্যাপারে এতটা উতলা কিংবা অসময়ে কেন তৎপর হয়ে উঠলেন, তা কি আমাদের দেশের সচেতন নাগরিকের দেশের স্বার্থে ভেবে দেখা উচিত নয়। যারা মানুষের দুঃখের দিনে মানুষের পাশে থাকে না, তারা কি মানুষের কথা ভেবে কাজ করতে পারে। এমন কথা সচেতন মানুষের মনে আসতেই পারে। কোনো মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে যদি আমাদের দেশের ইসির গ্রহণ যোগ্যতাকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, সে কি মানুষের কথা চিন্তা করে মানুষের পাশে দাঁড়ায়? পাঠক/পাঠিকা আমার, আপনারা সবাই নিশ্চয়ই বলবেন এই শ্রেণির লোকেরা নিজেরদের স্বার্থেই মাঠে নেমে থাকে।

    লেখক: শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল আইনজীবী, কবি ও গল্পকার


    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

    শরদিন্দু ভট্টাচার্য টুটুল
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    cdbl
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close