• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭
  • ||

‘ঘোড়ার আগে গাড়ি চলে, উল্টোরথে পথে পথে’ 

প্রকাশ:  ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪৩
অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী
অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী। ফাইল ছবি

সদ্য বৈধব্য* তালিকায় অর্ন্তভূক্তি পেয়েছি। বাঙালি মুসলিম জীবনাচরণে বিধবাদের প্রতি পাড়া প্রতিবেশী, নিকট ও দূরাত্মীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি সমবেদনার চেয়ে কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক এবং কখনও কখনও সেটি সমালোচনামুখরও হয়ে থাকে। এই যেমন মৃতের বিধবা পত্নী নাকের ফুলটা খুলেছে কিনা, মাথায় ঘোমটা টানা আছে কি না, রঙিন শাড়ি পরেছে কিনা অথবা কাঁদলে তার পরিমাণই বা কতোটুকুন; এই বিষাদগ্রস্ত পরিবেশেও এসব মুখরোচক গল্পে মেতে থাকা মানুষের অভাব নেই মোটেও।

প্রসঙ্গক্রমে কথাগুলো চলে এলেও আসলে বাস্তবতা তেমনি। সদ্য স্বামী হারিয়ে যন্ত্রণা কাতর বুকের গভীরে একতাল ঘন অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে, বের হয়ে আসতে পারছি না কিছুতেই ; কিন্ত সময় তো থেমে থাকেনি, কষ্টের চাপা পাথরটা বুকে বেঁধেই সামনে এগুতে হচ্ছে একটু একটু করে। অনেক দিন পর জামালপুরের বাসায় একাধারে বেশকিছু দিন অবস্হানের সুযোগে আবারও নতুন করে আত্মীয় পরিচতজনদের পরিবেশ - প্রতিবেশ বিশ্বাস জীবনধারা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি।

ব্যক্তিজীবনে আমি সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম ঘরের সন্তান। পরবর্তীতে যে ঘরে বৌ* হয়ে এসেছিলাম সেই পরিবারটিও পুরনো ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত, অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ এক মুসলিম পরিবার। পরিবারটিতে ধর্মচর্চা রয়েছে কিন্ত ধর্মীয় উগ্রতা বা বাড়াবাড়ি নেই।

স্কুলপড়ুয়া কিশোরী বেলায় বান্ধবীরা দলবেঁধে জামালপুরের বিখ্যাত দয়াময়ী মন্দিরের ভেতরে তল্লাবাঁশের ঘের দেয়া সীমানায় দাঁড়িয়ে ঠাকুরের হাতে নিপুণ শৈলিতায় নিবিষ্ট চিত্তে মূর্তিগড়া দেখেছি, পূজোর প্রসাদও খেয়েছি। মন্দিরের সুস্বাদু প্যারার স্বাদ পেতে আজও অনেকেই লোভাতুর হন।

মন্দিরের উত্তর পাশেই মসজিদ যেটি এখন কাচারী শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মন্দিরের খানিকটা দক্ষিণে মুসলিম মহিলাদের জন্য ছিলো " মোজাদ্দেদ মিশন দরবার শরীফ” ; অবাধে মা - খালাদের সাথে সেখানেও গিয়েছি, নামাজও পড়েছি। সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় মেলবন্ধন যেনো। কিন্ত অনেকটা সময়ের ব্যবধানে এবারের অভিজ্ঞতা খানিকটা তিক্ততায় রুপ নিয়েছে। পরিচিতজনদের মুখেই কথায় কথায় জানলাম, অমুক ভালো দোয়া পড়ে, মোনাজাতও করে তবে সমস্যাটা অন্যত্র ( ব্যক্ত না করাই বাঞ্ছনীয়) , মাদরাসার ক্ষুদে হাফেজ সাহেবেরা একযোগ সুর করে কোরআন পাঠ করেন কিন্ত জানা যায়, ক্ষুদে হাফেজদের খাবারের দায়িত্বে যারা থাকেন তারাই তাদের বঞ্চিত করেন। সম্মানিত মাওলানা সাহেব যিনি নামাজে ইমামতি করেন তাঁর বিরুদ্ধেও নানামাত্রিক অভিযোগ তবুও ওই মানুষটির পেছনেই নামাজ আদায় করতে হবে। অসংখ্য অবিন্যস্ত - স্ববিরোধী কার্যকলাপ যেটি ধর্মভীরু প্রকৃত মুসলিমদেরকে বিভ্রান্তিতে নিপতিত করে।

নিজে দর্শন* বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, সেকারণেই হয়তো দৃষ্টিভঙ্গিটাও খানিকটা প্রচলিত ধ্যান ধারণার চেয়ে ভিন্ন। দর্শন মানুষকে বৌদ্ধিক মুক্তি দিয়েছে, চিন্তার স্বাধীনতায় বিচারিক ক্ষমতার অধিকারী করেছে। দার্শনিক হতে না পারলেও দর্শনের সার্বজনীন মূল্যবোধে জীবনকে নিজস্ব আঙ্গিকে গড়ার চেষ্টা করে চলেছি অবিরত। দর্শন থেকেই জেনেছি নৈতিক মূল্য আর ধর্মীয় মূল্যের পারস্পরিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য এক নয় ; একজন সাধারণ মানুষ ধার্মিক না হয়েও নৈতিক মূল্যে বিশ্বাসী হতে পারেন। ধর্মটা যার যার বিশ্বাসপ্রসূত বিষয়, সামাজিক জীবনের ক্রমবিকাশের ধারায় ধর্মীয় চেতনার বিকাশ ঘটে।

সামাজিক স্তরায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যেমন রয়েছে তেমনি বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষও রয়েছে। আচার অনুষ্ঠানের দিক থেকে সনাতন ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ঢঙে - রঙ্গে নিয়ম বিধি মেনে ধর্মচর্চা করে থাকেন। ইসলামকেও বলা হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শান্তির ধর্ম ; আল কোরআন হলো পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্হা। ইসলামের বিধান সহজ সরল জীবনঘনিষ্ঠ, ইসলাম জীবনের সাথে, সময়ের সাথে আপোসকামী - গতিশীল এবং প্রাণসঞ্চারী। সমাজে অগণিত প্রকৃত ধার্মিক - ধর্মভীরু আলেম ওলামা রয়েছেন। পাশাপাশি আবার ধর্ম ব্যবসায়ী, উগ্রপন্থী ধর্মান্ধ, জঙ্গিগোষ্ঠীও কম নেই। ২০০৮ সালের আগে ইসলামের ব্যানারে নামে বেনামে অনেক জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব এবং প্রমাণ মিলেছে।

প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, উগ্র ধর্মীয় সংগঠনে যারা জড়িত - যারা বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে অবমাননা করে,ভেঙ্গে ফেলে, গুঁড়িয়ে দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে সাহস পায় তারা ধর্ম বিশ্বাসী নয়, ধর্ম ব্যবসায়ী । মাদরাসার কেমলমতি শিশুদের মননে - মস্তিষ্কে এসব পরাজিত শক্তি প্রতিশোধের বিষবাষ্প ঢেলে "তাওহীদী জনতা " শব্দটি ব্যবহার করে, আবেগপ্রবণ করে সাধারণ ধর্মপরায়ণ মানুষদের ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ইসলামের নামে ক্ষমতার মসনদ আর পার্লামেন্টের চূড়ান্ত সভ্য হয়ে রাজত্বের স্বপ্ন দেখে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, জাতির পিতার রাজনৈতিক মুক্তি সাধনার দুর্গম আলোকবর্তিকা। স্বাধীনতার মহান চেতনাকে এই অপশক্তির হাতে তুলে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া যাবে না।

উগ্রবাদী , ধর্মান্ধ মুষ্টিমেয় জনতা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সচেতনভাবে - সূক্ষ্মকূটচালে জড়িয়ে তাদের দলে টানার চেষ্টা করছে। নিজ দেশ তো বটেই শ্রীলঙ্কার উগ্রবাদী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়ার ইতিহাসও আমাদের জানা। ধর্মীয় উগ্রবাদে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্টতা নয় বরং তাদের বাড়তে না দেয়ার কৌশল অবলম্বন জরুরী। ধর্মান্ধ জনতা মানুষের মন - মনস্তত্ত্বকে রিড করে সুযোগ বুঝে আঘাত হেনে নিজেদের কার্যোদ্ধার করে থাকে।

মানবতার এদেশে, সম্প্রীতির এ সোনার বাংলায় মূর্তি আর ভাস্কর্য নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না যেমনটি নেই পৃথিবীর অন্যকোনো মুসলিম দেশ তথা যে কোনো সভ্য দেশে। কবি নজরুলের সেই মহান বাণীর বাস্তবায়ন আজ বড়ো প্রয়োজন -----

*তসবির মালা আরতির থালা

লাগিবে না কোনো কাজে

মানুষ করিবে মানুষের সেবা

আর সবকিছু সব বাজে ---"

মানবধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সংবেদনশীলতা - সহিষ্ণুতা মানবধর্মকে অবিরাম উচ্চতায় স্হাপন করে। সভ্যতার বাহন হয়ে সম্প্রীতির উষ্ণতা ছড়ায়। বিশ্বাসভ্যতা একদিনে হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। সময়ের প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে সব দেশের শিক্ষা, - সংস্কৃতি - সভ্যতা - অভিজ্ঞতার অভিযোজনে গড়ে উঠেছে বিশ্ব মানচিত্র। কারো ইচ্ছে অনিচ্ছার বিষয় নয় যে, ইচ্ছে করলেই ভেঙ্গেচুরে একাকার করা যাবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন কোনোভাবেই বিসর্জিত হতে দেয়া যাবে না।

সবার ওপরে মানুষ সত্য "প্রত্যয়টিকে ধারণ করেই শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইসহাক তাঁর *বিশ্বপ্রেমিক রুমি* গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেন ----

“আফসোস হে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ! আমার সঠিক পরিচয় উদঘাটনে আমি নই পরিপূর্ণরুপে সমর্থ।

আমি মুসলিমও নই, ইয়াহুদীও নই, নই আমি খ্রীস্টান কিংবা অন্যকোনো ধর্মাবলম্বী।

প্রাচ্য কিংবা প্রাতীচ্য নয় আমার জন্মভূমি।”

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় যে কোনো দুর্যোগে অন্যান্যের পাশাপাশি ওলামায়ে একরামদের সাথে বৈঠকে বসেন, পরামর্শ নেন। দেশের সকল মাদরাসাকে আধুনিকায়নের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে কিছু দুষ্টুবুদ্ধিসম্পন্ন চরম ধর্মান্ধ জনতা ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা এঁকে যাচ্ছেন।

এদেশে বারবার আঘাত এসেছে শুধুই ধর্মানুভূতিকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ধর্মের নামে খুন - ধর্ষণ চালিয়েছে নির্বিচারে। দেশ তো ভাগ হয়েছিলো ধর্মকে ইস্যু করেই, তারপরও তো পাকিস্তানি হায়েনাদের রক্তলোলুপতা আর হিংস্র থাবা থেকে বাঙালি রেহাই পায়নি। সম্প্রতি যে খবরটিতে ভারতের সুধীমহলসহ সাধারণ মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভারতীয় গণমাধ্যম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বলিষ্ঠ বক্তব্যকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন সেটি হলো ----- পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীকে এক সাক্ষাৎকারে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “১৯৭১ এর ঘটনা আমরা কখনও ভুলতে পারবো না। আমাদের হৃদয়ে সেই যন্ত্রণা চিরকাল রয়ে যাবে ”। মুক্তিযুূদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যার এ ভাষ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দূরদৃষ্টিসম্পম্ন। স্যালুট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনার সাহসী নেতৃত্বে সোনার এ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে অমলিন এক কোহিনূর হয়ে দ্যুতি ছড়াবে।

মনে পড়ে, হেফাজতের সেই শাপলা চত্বরের দিনভর - রাতভর তান্ডবনৃত্য আর ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতার কথা। আমি তখন বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনিতে বাচ্চাদের নিয়ে থাকি। দীর্ঘ সে ইতিহাস।

আবার সেই হেফাজতের সচিব মামুনুল হক এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ফয়জুল কবিরেরা সংঘবদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য ইস্যুতে মাথা চারা দিয়ে হুংকার দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে আরও বহুবিধ ইস্যু পড়ে রয়েছে, ---- ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক, রোড অ্যাক্সিডেন্ট, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, নারীর ন্যায্যতা - সাম্যতা - মর্যাদা, মসজিদে শিশু নির্যাতন, সিরিজ ধর্ষণের উদগাতাদের বিচার চান না তারা, প্রতিকার চান না তারা, এমনকি ফাঁসির দাবিতে রাস্তায়ও নামেন না। তীব্র উত্তাপ নিয়ে স্বাধীনতা - সার্বভৌমত্বের প্রতি নিষ্ফল আক্রোশ একদিকে আর মূর্তি -ভাস্কর্য নিয়ে সম্ভব - অসম্ভবের বাড়াবাড়িতে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উপায় খুঁজতে থাকেন। অথচ ভাস্কর্য শিল্প যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত সুনিপুণ সৃষ্টিশীলতায় দৃষ্টিনন্দন স্হাপনা। এসবে একটি দেশের, একটি জনপদের অতীত ইতিহাস - ঐতিহ্য, সর্বজয়ী বীরত্বগাঁথা, বীরদের কৃতিত্ব - সৌন্দর্য আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়। পর্যটন বিশ্বে এর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে ভাস্কর্য প্রতিযোগিতার বিশাল আয়োজন করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় বালির তৈরি ভাস্কর্য প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। স্যান্ড স্কাল্পচার ফেস্টিভাল নামের এ উৎসবে ব্যাপক জনসমাবেশ ঘটে। সময় প্রবাহ যেমন গতিশীল, সভ্যতা - সংস্কৃতি, শিক্ষা - প্রযুক্তি, মানব অনুভূতিসহ সৌন্দর্য পিপাসু মনও তেমনি নিত্য গতিশীল। এটাকে রুখে দেয়া যাবে না। বিশ্বায়নের এই মহাসংকটকালে কভিড অতিমারী যেমন দেশ - জনপদ - ভূখণ্ডের সীমানাকে এক করে দিয়ে মানুষকে *মানুষ* রুপে চিনতে -, স্বীকৃতি দিতে শিখিয়েছে তেমনি সব বিভেদ ভুলে ক্ষুদ্রচিন্তা চেতনাকে পেছনে ফেলে আধুনিক অগ্রসরমান বিশ্বকে সমৃদ্ধ এবং উন্নত করার মানসে পুরনো অচলায়তন ভেঙ্গে দিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে পৃথিবীর পথে।

আত্মপ্রত্যয়ী এমন দায়বদ্ধতা থেকেই জন্ম নেবে মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্হা এবং বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিবাদী ধ্যান - ধারণা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন; স্বাধীনতায়, উজ্জীবিত চেতনায়, মর্যাদায়, মননে - মজ্জায়। জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব ততোধিক শক্তিশালী ; নবযুগের নবমন্ত্রের এক অনন্য দ্রষ্টা ঋষি তিনি। বাংলার অকুতোভয় বীর বাঙালি চিরকালই স্বমহিমায় সকল প্রকার অপশক্তিকে রুখে দেবে।

পরিশেষে, বিদ্রোহী কবি নজরুলের উজ্জীবনীমূলক *রক্তাম্বরধারিনী মা* কবিতার কয়েকটি চরণ তুলে ধরে লিখাটি শেষ করছি ------

“রক্তাম্বরধারিনী মা

ধ্বংসের মুখে হাসুক মা তোর

সৃষ্টির নব পূর্ণিমা ”

লেখক: সাবেক সম্পাদক, শিক্ষক পরিষদ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close