• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বই বাঙ্গালীদের একটি জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩৬
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

প্রত্যেক সমাজের মানুষের কাছে অহংকার করার মত কিছু বিষয়-আশয় থাকে। সমাজের মানুষ নিঃশর্ত ভাবে তাদের পক্ষের শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজেদের বাঁচার তাগিদে। এদেশের মানুষ যখন ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম দেয়, তখন তারা ভেবেছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ছায়াতলে বসবাস করেই তাদের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু দিন কয়েক পরেই তারা বুঝতে পারলো পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি মূলত পঙ্গু ও মানুষ নির্যাতনকারী একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা। সেখানে পূর্ববঙ্গের মানুষের অর্থাৎ বাঙ্গালীদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে না। এই পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি শুধু পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের চাওয়া-পাওয়া গুলো মেটাবে। বাঙ্গালীদের ভবিষ্যত বলতে পাকিস্তানে কিছুই থাকবে না। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা বাঙ্গালীদেরকে বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ রেখে চরম এক অব্যবস্থার মধ্যে নিক্ষেপ করবে। বাঙ্গালীরা বৈষম্যের যাঁথাকলে পিষ্ঠ হয়ে সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। ঘটনাও তাই ঘটল। দেখা গেল রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের যে অধিকারটুকু সংরক্ষিত থাকে, তাদের সেই অধিকারটুকু পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র দ্বারাই বার বার পদদলিত হচ্ছে। পূর্ববঙ্গের একশ্রেণির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিজেদের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে শুধু পাকিস্তানের নেতাদের কথামত এদেশের মানুষের উপর শাসন-শোষন শুরু করে। এ দেশের মানুষ ১৯৪৮ সালেই বুঝল অনেক সংগ্রাম আন্দোলন আর রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা তারা পেয়েছে, তাতে তারা শুধু লোভী মেরুদন্ডহীন নেতাদের ক্ষমতায় যাবার হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া আর কিছুই পাবে না। ১৯৪৮ ইংরেজীতেই মানুষ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ব্যবস্থার নির্যাতনে স্টীমরোলার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনের শেষ পরিণতি হচ্ছে আমাদের আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

পশ্চিম পাকিস্তানীরা বুঝতে পেরেছিল পূর্ববঙ্গের বাঙ্গালীদের শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ঠ করতে হলে প্রথমেই তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত করতে হবে। শুধু লাঠিপেটা করে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা জানি একটা জাতি তখনই দেউলিয়া হয়ে পড়ে, যখন সে তার ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে উৎখাত হয়ে যায়। ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে একটা জাতিকে উৎখাত করতে পারলে তখন তাকে মনের ইচ্ছে মত চালনা করা যায়। তাই দেখা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে চিরকালের জন্যে পদানত করে রাখার অভিপ্রায়ে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে উৎখাত করার জন্যে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুই পাকিস্তানের মধ্যে বাঙ্গালীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালীদের মুখের ভাষা বাংলাভাষার কোনো ধরনের মূল্যায়ন না করে, পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা না হওয়া সত্বেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা রূপে এদেশের সংস্কৃতিকবান বাঙ্গালীদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইল। পশ্চিম পাকিস্তানীরা ভেবেছিল বাঙ্গালীরা ওদের চোখ রাঙ্গানি দেখে তাদের অন্যায় আচরণ মেনে নেবে। এখানেই পাকিস্তানীরা তাদের সরল অংকে বিরাট ভুল করেছিল। বাঙ্গালীদের মুখের ভাষারূপে অর্থাৎ পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চাইলে এই দেশের বীর বাঙ্গালী অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গর্জে উঠে বলল মানি না, মানি না। আমাদের আলাদা সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বাংলাভাষা থাকতে আমরা কেন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মেনে নেবো। শুরু হল বিক্ষোভ, আন্দোলন সংগ্রাম। সেই বিক্ষোভ আন্দোলনের পথ ধরে আমাদের ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত প্রচ্ছদপট যেমন আমাদের ভাষার দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করল, তেমনি করে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন আমাদেরকে এতোটাই উজ্জীবিত করল যে, আমরা আমাদের মনের সকল ভয় দ্বিধা ভুলে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালাম নতুন দিনের নতুন সূর্য্যরে স্বপ্নে। ৫৪ এর নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর চরম বিপর্যয় ঘটল। আর ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সমস্ত আন্দোলনে এদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল সৎ সাহস নিয়ে। ১৯৬৯ এর সনের গণজাগরণের মাধ্যমে এদেশের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ও তাদের এদেশীয় দালালদের বুঝিয়ে দিলো, এই বঙ্গীয় বদ্বীপে তাদের দিন শেষ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ব্যাপক বিজয়ের মাধ্যমেই পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যায়। মূলত বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ববাঙ্গালীদেরকে একটি জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার রক্তিম চেতনায়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু সকল নির্যাতন সহ্য করে বাঙ্গালীকে দিয়ে গেছেন যোগ্য নেতৃত্ব। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের জন্যই বাঙ্গালী ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছিল। বার বার তাঁকে কারাবরণ থেকে শুরু করে অকথ্য নির্যাতন পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও তিনি বাঙ্গালীর স্বাধীনতার ব্যাপারে একবারও আপোষ করেননি। তিনি আপোষ করেননি বলেই বাঙ্গালী একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পেরেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বললেও শেষে দেখা যায়, এই ছয় দফা আন্দোলনই ছিল এ অঞ্চলের বাঙ্গালি জনমানুষের প্রাণের দাবী নিয়ে গড়ে উঠা একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। অনেক সমালোচনা এসেছে। অনেকে অনেক কিছু বলেছেন বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল বঙ্গবন্ধুর এই ছয় দফা আন্দোলনই আমাদের মুক্তি সংগ্রামকে তরান্বিত করেছে নির্ভুল ভাবে। কোনো ধরনের ভুল ভ্রান্তি এই আন্দোলনকে বিপথগামী করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে এদেশের মানুষ সাড়া দিল। মানুষের প্রাণের দাবী নিয়ে বঙ্গবন্ধু এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে ছিলেন বলেই মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছিল। মানুষও চাইছিলনা পাকিস্তান নামক পঙ্গু ও অথর্ব একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে থাকতে। তার প্রমাণ পাই আমরা যখন দেখি মানুষ ১৯৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগকে ভোটাধিকারের মাধ্যমে একক ভাবে বিজয়ী করে আনে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা মানুষের এই ভোটের ভাষাকে বুঝতে পারেনি। যার জন্যে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, শোষকরা কোনো সময় মানুষের অন্তরের ভাষা বুঝতে পারে না। ভাবে লাঠি, গুলি, টিআর গ্যাসের মাধ্যমেই মানুষকে দমন করা যায়। পশ্চিম পাকিস্তানিরা যখন বিজয়ী বাঙ্গালীদের হাতে ক্ষমতা দিতে চাইল না তখনইতো বিপত্তি দেখা দিলো। বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে বাঙ্গালীর অধিকারের প্রশ্নে কখনো একচুলও আপোষ করেননি। তাঁর কথায় এদেশের মানুষ আস্থা রেখে তিনি যা বলতেন তাই শুনতো। আমরা দেখতে পাই ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দেন, তা এদেশের মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল। মানুষ বুঝে নিয়েছিল তাদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে হলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ছায়াতলে দাঁড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো গত্যন্তর নাই। মানুষ এটাও বুঝেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা রাষ্ট্রের সবকিছু নিজেদের করে নেবে। ব্যবসাপাতি, ভাল চাকুরী সবকিছু পাকিস্তানিরা নিজেদের দখলে নিয়ে নিবে। তাই মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নেতা বানিয়েছিল নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার তাগিদে।

বঙ্গবন্ধু যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনে কোনো রকম সহিংসতা ছিল না। অসহেেযাগ আন্দোলনের কোথাও কখনোই সহিংসতা দেখা যায়নি। আন্দোলনের মূলমন্ত্রই ছিল অসহিংসতা। বঙ্গবন্ধু সেই অসহিংস আন্দোলন শত্রুপক্ষের দিক থেকে কখনো আঘাত না আসা পর্যন্ত সহিংসতার রূপ নেয়নি। ২৫শে মার্চের গণহত্যার পূর্ব পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন কখনো সহিংসতার রূপ ধারণ করেনি। কেননা এই আন্দোলনের উপর বঙ্গবন্ধুর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল। বঙ্গবন্ধুর তাঁর অসহযোগ আন্দোলনকে অসহিংস রূপ দিতে পেরেছিলেন তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতার প্রখরতার জন্যে। এই অসহযোগ আন্দোলনের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে হায় পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি। ২৫শে মার্চের কালরাত্রির গণহত্যার কথা সকলেই জানেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাঙ্গালীর নয়মাসের মুক্তিসংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই বঙ্গবন্ধু ওয়ার্লেসের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলেন। এদেশের মুক্তিপাগল মানুষ নয়মাস মুক্তিসংগ্রাম চালিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর নামের ওপর। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও এদেশের তাদের দোসর অর্থাৎ দালালরা বাঙ্গালির ওপর চালালো হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষনসহ এককথায় যত প্রকার নির্যাতন করা যায়, তার সবকিছুই তারা নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর সংঘটিত করেছিলো। তারা ভেবেছিল হত্যা, লুঠপাট, ধর্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে এদেশের মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে। কিন্তু মুক্তিপাগল বাঙ্গালি সকল প্রকার ভয়-জুলুম উপেক্ষা করে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তারা বিজয়ী হল। এদেশের বাঙ্গালিরা জানতো ও বিশ্বাস করতো তাদের একজন নেতা আছেন। তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি বাঙ্গালির সুখ, শান্তির জন্য সকল প্রকার নির্যাতন সহ্য করে যান হাসিমুখে। যাঁর নেতৃত্ব এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বিকাশমান শ্বাশত সত্য সুন্দরের দিকে। যেখানে সবকিছুর উর্ধ্বে থাকবে মানুষ। মানুষ কেবল সুন্দরের কথা বলবে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সেই বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একদল মানুষ আরেক দল অসহায় মানুষকে শোষনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ করবেনা। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল উগ্রদক্ষিণপন্থীরা এবং এদেশের তৎকালীন সময়ের নকশালপন্থী উগ্র বামধারার একটা মহল বঙ্গবন্ধুর প্রার্থীত স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপর ৭৫ এর পটপরিবর্তন আমাদের দেশমাতৃকার প্রগতিশীল ধারাকে লন্ডভন্ড করে দিল। যে পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানি উগ্র সাম্প্রদায়িক ধারায়।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীন দেশের সংবিধান থেকে শুরু করে সবকিছুতেই পাকিস্তানি আমলের বৈষম্যকে আবার পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শুরু হয়। সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে বাদ দেয়া হল। সংখ্যালঘুদেরকে পরোপক্ষভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় তখন থেকেই। এককথায় যে স্বপ্ন আর আশা নিয়ে আমাদের দেশের অসম্প্রদায়িক জনগণ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের মূল্যে স্বাধীন সেক্যুলার রাষ্ট্র ব্যবস্থা অর্জন করেছিল, সেই সেক্যুলার রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রগতির চাকাকে আবার পিছনমুখী করতে মরিয়া হয়ে উঠে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। কিন্তু আমাদেরকে মনে রাখতে হবে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি এখনও খুব সচেতন বলেই আজও দেশের মানুষ সুন্দরের স্বপ্ন দেখে থাকে। সাময়িক ভাবে দেশের প্রগতিশীল জনগোষ্ঠী কিছুটা আশাহত হলেও, তারপরও তারা নতুন করে জয় বাংলা স্লোগানের মন্ত্রে আবার জেগে উঠেছে। শাহবাগ থেকে জয় বাংলা স্লোগানের সাথে সাথে যখন স্লোগান উঠে “তুমি কে? আমি কে? বাঙ্গালী, বাঙ্গালী” তখন আমরা প্রগতিশীল জনগোষ্ঠীর লোকেরা সহজেই বুঝে নিতে পারি, এদেশের সেক্যুলার বাঙ্গালী এখনও আগের মতোই তাদের সেক্যুলার নীতি আদর্শকে বুকের গভীরতর গভীরে ধরে রেখেছে। ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর থেকে যতোই চেষ্টা করা হয়েছে পাকিস্তানি উগ্র সাম্প্রদায়িক ধারা এদেশে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে ততোবারই উগ্রবাদীরা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ব্যর্থ হয়েছে এই জন্য যে, এদেশের অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালিকে তাদের অসম্প্রদায়িক চেতনা থেকে বিন্দুমাত্রও উগ্রপন্থীরা সরাতে পারেনি বলে। তাদেরকে অর্থাৎ স্বাধীনতার পক্ষ শক্তির মানুষকে যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, তখনই সেক্যুলার বাঙ্গালি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের মধ্যে আরও বেশি করে ধারণ করে রেখেছে। এদেশের প্রগতিশীল মানুষের রক্তের ধারায় অগ্নিবীণার মত সকল সময় বেজে উঠেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গান। তাই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী যে কোন কর্মকা-কে মনে প্রাণে ঘৃণা করে থাকে। বিরুদ্ধবাদীরা চেষ্টা করেছে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু বিরুদ্ধবাদীদের অপপ্রচারের ফাঁদে পা না দিয়ে, আমাদের দেশের মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের রুখে দাঁড়িয়েছে নিজেদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রগতিশীল স্বপ্ন নিয়ে। বাঙ্গালির সেই প্রগতিশীল সেক্যুলার স্বপ্নকেই ভয় পায় বিরুদ্ধবাদী চরম প্রতিক্রীয়াশীল দক্ষিণপন্থীরা। তাই অসম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রে বলীয়ান আমরা দেশবাসীর ভয় পাবার কিছু নেই। কেননা আমরাতো জানি ও বিশ্বাস করি এবং স্বগৌরবে চিৎকার করে স্লোগান দিয়ে থাকি, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।

লেখক: কবি, গল্পকার ও আইনজীবী

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close