• রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

মহান সংস্কারক মুহাম্মদ (সা:)

প্রকাশ:  ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৮:১২ | আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৮:১৩
এইচ এম জসীম উদ্দীন

পরম শত্রুরাও তাকে ‘আল আমিন’ সত্যবাদী বলে ডাকতো।আমানতদারীরা মুগ্ধ হয়ে তারকাছে মূল্যবান জিনিষপত্র গচ্ছিত রাখতো। একটু ভাবুন শত্রুরা তার প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করে, এমন দৃষ্টান্ত একমাত্র আমাদের প্রিয় রাসুলের বেলায়ই হয়েছিলো। এ কারনেই তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ তথা সর্বোত্তম আদর্শের অধিকারী। এটা তো কোনো মানুষের কথা না, স্বয়ং আল্লাহই মানুষকে বলে দিয়েছেন ‘‘তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনেই আছে সর্বোত্তম আদর্শ’’।

যেখানে অন্যায়, যেখানে অনিয়ম, যেখানে অবিচার, সেখানেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন, মানুষকে বুঝিয়েছেন, দাওয়াত দিয়েছেন, আবার কখনো কখনো সংগ্রাম করে নিজের রক্তও ঝরিয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজে রক্তাক্ত হয়েছেন, অনেক সাহাবায় কেরাম শহীদ হয়েছেন। যুদ্ধে জয়লাভ করেও প্রতিপক্ষের প্রতি সামান্য প্রতিশোধটুকু নেননি বরং আল্লাহর কাছে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করেছেন। আমাদের জন্য একটা সুন্দর জীবন ব্যবস্থার রূপরেখা আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে আমাদের প্রিয় নবী দেখিয়ে গেছেন। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ রাষ্ট্র অর্থাৎ রান্নাঘর থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত কিভাবে চলবে রাসুল তা দেখিয়ে গিয়েছেন। মদীনার সনদ, হুদায়বিয়ার সন্ধি ইত্যাদির মধ্যেমে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন রূপরেখা প্রণয়ন করে গেছে। মক্কা বিজয়, মদীনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এসব তার চমৎকার নেতৃত্বের বহিঃ প্রকাশ।

আজ মানব জাতি বিভিন্ন সংকট অতিক্রম করছে। এই সময়ে রাসুলের জন্ম মৃত্যুর দিন পবিত্র মিলাদুনবী পালন করতে গিয়ে কেবলমাত্র বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, মিছিল, জশনে জুলুস, তবারক বিতরণ, এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না বরং এগুলো করতে গিয়ে মনের অজান্তেই আমরা বিভিন্ন শিরক করে ফেলি। সুতরাং রাসুলের আদর্শ মনে প্রাণে ধারণ করার মাধ্যমেই রাসুলের সত্যিকারের উম্মত হওয়া যায়, আলোকিত মানুষ হওয়া যায়।

সমাজের মানুষগুলো যদি আলোকিত হয় , তবেই সমাজ থেকে হত্যা, ধর্ষণের মত জঘন্য কর্মকাণ্ড চিরবিদায় নিবে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনা মহামারিতে লন্ডভন্ড। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন রোগব্যাধি, দুর্যোগর জন্য পরিবেশের ভারসাম্য হীনতাকে দায়ী করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেন। রাসুলের একটি হাদিস ‘তুমি যদি মনে করো কাল নিশ্চিত কেয়ামত হবে, তোমার হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, তা তুমি রোপন করে যাও’ অর্থাৎ আজকে পরিবেশবাদীরা যা বলেন, আমাদের নবী দেড় হাজার বছর পূর্বে তা বলে গিয়েছেন। জাবির ( রা:) থেকে বর্নিত আছে ‘আমি একদিন জোৎসনা রাতে একবার চাঁদের দিক তাকাচ্ছিলাম আরেকবার রাসুলের দিকে তাকাচ্ছিলাম। অত:পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম রাসুল (সা:) চাঁদের চেয়ে সুন্দর।’ তিরমিজি ।

মনে রাখতে হবে আমরা সেই সুন্দর নবীর উম্মত, প্রিয় নবী মদীনায় শুয়ে এখনো উম্মতের চিন্তা করতেছেন। রাসুলের সুপারিশ পেতে হলে অবশ্যই রাসুলের আদর্শ ধারণ করতে হবে। কাজেই মিলাদুন্নবী (সা.) এ আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে রাসুলের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রতি গুরত্ব বেশি দিতে হবে, যার মধ্যে বিশ্ব মানবতার মুক্তি নিহিত।

লেখকব: প্রধান শিক্ষক, আছমত আলী খান (একে) ইনস্টিটিউশন, বরিশাল।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

এইচ এম জসীম উদ্দীন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close