• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

আমাদের পুলিশ আমাদের হয় না কেন?

প্রকাশ:  ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩২ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৫
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল। ফাইল ছবি

পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করা রায়হানের মৃত্যু শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাক্তার। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হয়েছে। নিহত রায়হানের চাচার দাবি রায়হানের দু’পায়ের তলায় হাঁটুর নীচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার আঙ্গুলের নখ উঁপড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলেছিলো, ‘কাষ্টঘরে ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে পড়েছিল রায়হান’। কিন্তু এলাকার মানুষ তা মানতে নারাজ। তারা বলেন, ‘এখানে কোনো গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। সিসি ক্যামেরাও ধরা পড়েনি’।

প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, রায়হানকে ধরে এনে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এসআই আকবর। সকালে তাকে অসুস্থ অবস্থায় অর্থাৎ গুরুতর অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ এবং রায়হানের এ অবস্থা করেছে এসআই আকবর (বরখাস্ত, বন্দর বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ)।

আমরা এমন সংবাদ যখন পত্র-পত্রিকায় পাঠ করি, তখন নিজেকেই প্রশ্ন করি কোথায় আছি এবং নিজেই উত্তর খুঁজে নিই। আমরা এমন এক অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে প্রতিনিয়তই অনেক ঝুঁকি নিয়ে এদেশের মানুষকে তার প্রতিদিনের জীবনযাপনের দিনগুলো অতিবাহিত করতে হয়। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, দেশের মানুষ এখন প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত থাকে এই ভেবে যে, কখন সে সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়ে যাবে।

মূলত কেউ আমরা নিরাপদ নই। একটা নিরাপত্তাহীনতার মাঝে আমরা যেন বসবাস করছি। সব কথা মন খুলে বলা যায় না। বললেই কর্তাব্যক্তিরা কিংবা সন্ত্রাসীরা যদি আবার রাগ করে বসেন। কর্তাব্যক্তিরা কিংবা সন্ত্রাসীরা কারো প্রতি বিরক্ত হলে তার তো আর দুঃখের শেষ থাকবে না।

যারা সংবাদপত্র পাঠ করেন কিংবা প্রতিদিনের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবরাখবর শোনেন তারা নিশ্চয়ই জানেন নিকট অতীতে একজন গারো তারুণীকে দুর্বৃত্তরা কিভাবে চলন্ত মাইক্রোবাসের মধ্যে ধর্ষণ করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেছে। এই তরুণী একজন কর্মজীবী মহিলা। তিনি রাতে তার কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য যখন বাসের অপেক্ষা করছিলেন, তখন একটি মাইক্রোবাস এসে তরুণীটির সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ঐ মাইক্রোবাস থেকে দুর্বৃত্তরা নেমে তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে এবং শেষে দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণ করে।

গারো তরুণীটি নিজেকে রক্ষা করার জন্য চিৎকার দিলে কিংবা দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কাকুতি মিনতি করলেও দুর্বৃত্তরা তার কথা শোনেনি। বরং তাকে উল্টো বলেছে যে তাদের কথামতো না চললে কিংবা বেশি বাড়াবারি করলে অর্থাৎ শোর-চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলবে। তখন অসহায় গারো তরুনীটির কিছু করার ছিল না। সে একে একে পাঁচজন দুর্বৃত্ত দ্বারা ধর্ষিত হতে থাকে। ঠিক যেমন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে নারীরা যেভাবে অসহায় অবস্থায় পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলো, ঠিক তেমনি ভাবে গারো তরুণীটি যেন কতগুলো জানোয়ার দুর্বৃত্ত দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে। এই সংবাদটি যখন প্রতিদিনের পত্রপত্রিকায় কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় আসতে থাকলো, তখন কর্তাব্যক্তিদের যেন টনক নড়ে। দেশের বিবেকবান মানুষসহ বিভিন্ন সংগঠন ধর্ষিত গারো তরুণীটির পাশে এসে দাঁড়ায় এবং মানুষ দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে।

দেশের সকল বিবেকবান মানুষ যখন আরো জানতে পারলো যে, ধর্ষিতা নারীটি যখন থানায় মামলা করতে গেলো, তখন নাকি থানা কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা নিতে চায়নি।

অভিযোগ আছে, গারো তরুণীটি যখন বিচারের আশায় বিভিন্ন থানায় মামলা করার জন্য গেলো, তখন কোনো থানা কর্তৃপক্ষই কোনো মামলা নিতে চায়নি। থানা কর্তৃপক্ষ গারো তরুণীটির মামলা না নেয়ায়, মেয়েটি যেন দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রের আইন-কানুনের দরজায় গিয়ে মানসিকভাবে ধর্ষিত হলো।

বলা হয়ে থাকে অর্থাৎ অভিযোগ করা হয়, আমাদের পুলিশ বাহিনী নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। যদিও আমাদের পুলিশ বাহিনী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। যা ভুলবার নয়। ২৫ মার্চের কালোরাত্রিতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রমণ করে অনেক পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে। তখন পুলিশ সদস্যরা তাদের সীমিত শক্তি দ্বারা পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন। অথচ সেই পুলিশ বাহিনীর উত্তরসূরীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা নাকি নিপীড়নকারীদের পক্ষে থাকে।

কয়েক বছর আগে বর্ষবরণ উৎসবে কতগুলো মানুষরূপী পশু দ্বারা অনেক মা-বোন লাঞ্চিত হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে সেখানেও নাকি যথার্থভাবে দায়িত্বরত পুলিশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। বলা হচ্ছে, যেসব দুর্বৃত্ত মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে তাদের ধরতে বা প্রতিরোধ করতে পুলিশ এগিয়ে আসেনি।

অথচ দেখা গেলো, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যারা মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে তাদের গ্রেপ্তার কিংবা বিচারের দাবিতে যারা আন্দোলন করেছে, তাদের ওপর নির্দয়ভাবে আমাদের পুলিশ বাহিনী চড়াও হয়েছে। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি ছাত্র ইউনিয়নের এক ছাত্রীকর্মীকে পুলিশ কিভাবে অত্যাচার করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে পরে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এখানে সবারই প্রশ্ন পুলিশ বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যারা মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে অর্থাৎ যারা মেয়েদের শ্লীলতাহানি করেছে, সেই বর্বর পশুদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিচারপ্রার্থীদের ওপর নির্মমভাবে কেন আক্রমনাত্মক হলো। পুলিশ যদি প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমনাত্মক না হয়ে দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা করতো, তাহলে আর দুর্বৃত্তরা সাহস পেত না এসব কর্মকাণ্ড চালাতে।

পুলিশ একজন প্রতিবাদকারী মেয়েকে চুলে ধরে টেনে এনে যদি মারপিঠ করতে পারে, (ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী, যে মেয়েটি নিজেকে রক্ষা করার জন্য একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিলো) সেই পুলিশ কেন যেসব অসভ্য বখাটেরা বর্ষবরণের উৎসবে মেয়েদের শ্লীলতাহানী করেছে তাদের প্রতি এমনভাবে আক্রমনাত্মক হতে পারলো না। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদেরকে আরো গভীরে যেতে হবে। সমস্যার মূলে যেতে না পারলে আমরা কখনো মূল সমস্যার যথার্থ সমাধান করতে পারবো না এবং অনেক প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাবো না।

আমরা এমন কথাও শুনে থাকি যে, কোনো পুলিশের লোক যদি নিজেও কোনো কারণে বিচারপ্রার্থী হয়, সেও নাকি বিচার পায় না। একবার শুনেছিলাম কোনো এক পুলিশ অফিসারের মেয়ের স্বামীর বাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে, পুলিশ অফিসার পিতা তার মেয়ের মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেননি। স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি ছিলো তাদের ছেলের বউ আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পুলিশ অফিসার পিতার বক্তব্য হলো, ‘আমার মেয়ে কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে তার স্বামী নিজে কিংবা বাড়ির লোকজন মিলে হত্যা করেছে।’ তাই তিনি মেয়ে হত্যার বিচার চান। পুলিশ অফিসার পিতা যখন তার কন্যা হত্যা বিচারের আশায় থানায় মামলা করতে গেলেন, তখন দেখা যায় থানা কর্তৃপক্ষ সেই অফিসারের কন্যা হত্যার মামলাটিও নিতেও চাইছে না।

যে মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার পিতা নিজে একজন পুলিশের লোক। অথচ তিনি নিজে তার কন্যা হত্যার মামলাটি থানায় দায়ের করতে প্রথমে পারেনি। তার কন্যার স্বামীর বাড়ির লোকজন এতোটাই প্রভাবশালী যে, একজন পুলিশ অফিসার পিতা তার কন্যা হত্যার বিচারপ্রার্থী হয়ে থানা মামলা দায়ের করতে প্রথমে পারেন নি। শেষে এ ব্যাপারে জনমানুষের মাঝে হৈ চৈ পড়ে গেলে এবং পত্রপত্রিকায় খবরটি আসলে মানুষ সব ঘটনা জেনে যায়। তারপর থানা কর্তৃপক্ষ জনচাপে মামলাটি নিতে বাধ্য হয়।

উপরের উল্লেখিত ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তাহলে কি এটা বুঝা যায় না যে, আমাদের পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সবকিছুর অবস্থান হচ্ছে এমন একটি সিস্টেমের মধ্যে, যা ভাষায় ব্যাখ্যা করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এদেশের অসহায় মানুষ এমন একটি শূন্যতার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে যেখানে ক্ষমতাবানরাই শুধু লাভবান হন। যেখানে কর্তার ইচ্ছা ছাড়া কোন কাজ হয় না। সেই কর্তা একজন ব্যক্তি হতে পারেন কিংবা হতে পারে কতকগুলো ব্যক্তির সমষ্টিগত ইচ্ছার অভিপ্রায়। সেখানে গোষ্ঠী স্বার্থ এবং দলীয় স্বার্থও আছে। সেখানে ক্ষমতাই বলেন আর যা-ই বলেন না কেন, সবই নির্ভর করবে সিস্টেমের ওপর।

চলমান সিস্টেমে কর্তাব্যক্তিরা যদি মনে করেন তার কিংবা তাদের কোন ক্ষতি হবে না, তবেই দেখা যাবে রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা নির্যাতিত মানুষের জন্য এগিয়ে আসছেন। তার আগে নয়।

অনেকেই বলে থাকেন, আমাদের পুলিশ কেন আমাদের হয় না। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে যারা আছে তারা অন্য কোন গ্রহের প্রাণী নয় কিংবা তারা মঙ্গলগ্রহ থেকেও আসেনি। ওরা আমাদেরই আত্মীয়-স্বজন। হয়তো কারো ভাই, কারো ভাতিজা কিংবা কারো ভাগ্নে কিংবা কারো কাকা কিংবা কারো মামা কিংবা কারো জেঠা। তারপরও আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ কেন। এমন প্রশ্নের উত্তরও আছে। অনেকেই মনে করে থাকেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন, তারাই দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করেছেন।

পুলিশ কোনো না কোনো ভাবে বাধ্য হয়েছে দলীয় ক্যাডারের মতো কাজ করতে। এমন কথাও বলা হয়ে থাকে যে, পুলিশ না-কি তার পাশের পুলিশটাকে ভয় পায়। কারণ সে পুলিশের লোক হয়ে জানে পুলিশের ক্ষমতা কতোটা জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে, যে পুলিশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিলো, যে পুলিশ দেশের মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে নিজেই ভিকটিম হয়, সেই পুলিশ কেন মানুষের হবে না। এমন প্রশ্নের যথার্থ উত্তর অবশ্যই আছে। আমরা যদি সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাবো আমাদের পুলিশ আমাদের হয় না, হয়ে যায় ক্ষমতাবানদের। ক্ষমতাবানরা দেশের পুলিশ বাহিনীকে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন অর্থাৎ যে সরকারই ক্ষমতায় আসেন না কেন তাদের দলীয় স্বার্থে এবং গোষ্ঠীর স্বার্থে পুলিশ সদস্যদেরকে দলীয় ক্যাডারে পরিণত করে ফেলেন। আমরা যদি এসব বিষয় বিচার-বিবেচনায় নেই, তাহলে দেখবো গারো তরুণীটি চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষিত হলে কিংবা বর্ষবরণের মতো সেক্যুলার কোনো অনুষ্ঠানে মেয়েরা বখাটে দ্বারা লাঞ্ছিত হলেও আমাদের পুলিশ বাহিনীর লোকজন ইচ্ছে থাকলেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে পারে না। যদি সংশ্লিষ্ট মেয়েটি কোনো পুলিশ সদস্য কিংবা পুলিশ অফিসারের কন্যাও হয়। আমাদের পুলিশ সদস্যরা যেন তখন আর মানুষ থাকে না হয়ে যায় একেকটা যান্ত্রিক রোবট। চলমান সিস্টেম যদি তাদের মানুষের জন্য এগিয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়, তবেই তারা এগিয়ে যাবে। যদি আদেশ না দেয় তারা এগোতে পারবে না।

আবার তার মধ্যে আছে কিছু অতি উৎসাহী লোকজন। তারা প্রত্যেক জায়গায়ই থাকে। তেমনি পুলিশ বলেন কিংবা প্রশাসনের যেকোনো জায়গার কথাই বলেন না কেন, সব জায়গার মধ্যেই এই অতি উৎসাহীরা আছে। যাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কর্মরত অন্যান্যরা খুবই লজ্জা পেয়ে থাকেন। দেশের সচেতন গোষ্ঠী মনে করে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যদি কোনো সরকার নিজেদের ক্যাডারে পরিণত না করে জনগণের সেবকে পরিণত করেন, তাহলেই দেখা যাবে আমাদের সমাজ জীবনে শান্তি বিরাজ করছে। বর্ষবরণের মতো অসাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানে মেয়েদের শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটানোর সাহস করছে না দুর্বৃত্তদের দল। কোনো গারো তরুণীকে ধর্ষিত হয়ে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য থানায় থানায় ঘুরতে হচ্ছে না।

মূলত বিশ্বায়নের যুগে সবকিছুতে পঁচন ধরেছে। পুঁজিবাদ তার শেষ লগ্নে এসে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পুঁজিবাদ তার পঁচন রোধ করার জন্য আজ দিশেহারা। কিভাবে সে নিজেকে রক্ষা করবে সে নিজেও জানে না। যে ব্যবস্থায় একজন পুলিশ অফিসার পিতা কন্যা হত্যার মামলা দায়ের করতে গেলে থানা থেকে ফিরে আসতে হয়, সেই ব্যবস্থায় কোনো একজন গারো তরুণী ধর্ষিত হয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে কেন পারে না, আমরা কি তা বুঝতে পারি না। আমরা এটা ভালো করে বুঝতে পারি, আজকের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সিস্টেম ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের পক্ষ হয়ে কাজ করে বলেই, একজন গারো তরুণী পাঁচজন দুর্বৃত্ত দ্বারা ধর্ষিত হয়েও কিংবা একজন পুলিশ অফিসারও নিজ কন্যা হত্যার মামলা দায়ের করতে পারেন না। তাই বলছিলাম, আমরা যদি মানুষের মঙ্গল চাই কিংবা সমস্ত অন্যায়ের বিনাশ চাই, তাহলে সবার আগে চলমান সিস্টেমের পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই আমাদের মঙ্গল হবে। এমনকি কোনো পুলিশ অফিসার পিতাকে তখন কন্যা হত্যার মামলা দায়ের করতে গিয়ে থানা থেকে বিফল হয়ে ফিরত আসতে হবে না। দেখা যাবে থানাও তখন আন্তরিক ভাবে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ভয়হীন ভাবে মামলা নিচ্ছে। কোনো গারো তরুণীকেও দুর্বৃত্ত দ্বারা গণধর্ষিত হয়ে বিচারপ্রার্থী হয়ে স্বাধীন দেশের থানায় থানায় ঘুরে ঘুরে মামলা দায়ের করতে না পেরে হতাশ হয়ে মনের দুঃখে ঘরে ফিরতে হচ্ছে না।

পুলিশী নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু দেশের মানুষ ভালভাবে নেয়নি। সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এসআই আকবরের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। এসআই আকবর যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ বলছে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে অর্থাৎ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসআই আকবর পালায় কিভাবে?

লেখক: কবি, গল্পকার ও আইনজীবী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close