• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

মন্দ লোকেরা যা ক্ষতি করার তা নিমেষেই করে ফেলে

প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২০
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস নিয়ে যারা গুজব ছড়ায় তারা কেমন মানুষ? তারা কি ভালো মানুষ? ঐ শ্রেণীর লোকেরা কি মানুষের মঙ্গল কামনা করে। নাকি মানুষের অসুখ-বিসুখ নিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ উদ্বারের জন্য মরণ খেলায় মেতে উঠে।

আমাদের গ্রামগঞ্জের মুরুব্বীরা বলেন, ‘কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ।’ ব্যাপারটা এরকমই। দেশের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আতঙ্কিত, যখন দেশের মানুষ এই জীবনঘাতী ভাইরাসের ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না, বাজার হাটে যেতে ভয় পাচ্ছে কিংবা আপন প্রিয় মানুষের হাতে হাত মিলাতে ভয় পাচ্ছে কিংবা অনেকেই যখন মনে করছেন এই ভাইরাস থেকে বাচঁতে হলে কিছু দিনের জন্য হলেও সামাজিক বিচ্ছিনতা প্রয়োজন। তখন এক শ্রেণীর নষ্ট মানুষ জীবনঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়িয়ে নিজেদের লাভ ঘরে তুলতে

চাচ্ছে।

প্রত্যেক সমাজেই এক শ্রেণীর মানুষ থাকে, যারা তাদের মনগড়া কথা বলে কিংবা গুজব ছড়িয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ উদ্বার করতে চায়। এই শ্রেণীর লোকেরা সমাজ জীবনে কখনো মানুষের বন্ধু হয় না কিংবা হীনমানসিকতা সম্পন্ন মানুষেরা কখনো ভালো মানুষ হয় না। যতই তারা মানুষকে সুন্দর সুন্দর কথা বলে নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য মিষ্টি কথা বলুক না কেন। গুজব সৃষ্টিকারীরা হয় চরম বিপদজনক চরম স্বার্থান্বেষী অর্থ পাগল মানুষ। চরম স্বার্থান্নেষী বিপদজনক লোকেরা কেবল নিজেদের ভালোটাই বুঝে। তারা নিজেদের পাশের অন্যান্য মানুষের বিষয়-আশয় কিংবা ভালো-মন্দ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না।

তাই গুজব সৃষ্টিকারী মন্দ লোকেরা রাষ্ট্র, সমাজ, সমষ্টি কিংবা ব্যক্তির যে কোনো সমস্যাকে পুঁজি করে চায় নিজেদের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করে তুলতে। যারা আমাদের ভালো মন্দের দেখা শুনা করেন অর্থাৎ রাষ্ট্রের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কর্তাব্যক্তিরা অনেক সময় তা বুঝতে পারেন না। এই সমাজের স্বার্থান্বেষী মানুষরা গোপনে অতিসংগোপনে রাষ্ট্র ও সমাজের কত বড় ক্ষতি করে ফেলে।

অনেক সময় পরে যখন তা বুঝতে পারেন, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। মন্দ লোকেরা যা ক্ষতি করার তা নিমেষেই করে ফেলে।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয় যে, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দেশের আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী গুজব সৃষ্টিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। যারা রাষ্ট্র ও মানুষের বিপদ নিয়ে গুজব ছড়ানোর মত কাজে নিয়োজিত হয় তারা কোনো না কোনো হীনউদ্দেশ্যে নিয়ে গুজব ছড়ানোর মতো আগুনের খেলায় মেতে উঠে। তারা চায় না রাষ্ট্রের যারা ক্ষমতায় থাকেন, তারা তাদের কর্মকাণ্ড দায়িত্বশীল মন নিয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে চালিয়ে যাক। কেননা রাষ্ট্রের ক্ষমতাশীল ব্যক্তিরা যদি তাদের কাজ মন দিয়ে ঠিক মতো সুন্দর করে এবং সু-সম্পন্নভাবে করে যান, তাহলে সেইসব ব্যক্তিদের অর্থাৎ যারা চায় না আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রের মানুষের কল্যানময় যথাযথ ভাবে চলুক। সেইসব হীনস্বার্থ উদ্বারকারী নষ্ট মানুষের স্বার্থে আঘাত পড়ে।

আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরের মানুষ যখন এই মরণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে চিন্তা ভাবনায় ব্যাস্ত, তখন এই করোনাভাইরাসের ওপর ভর করে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা এমনসব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা শুনলে যে কেউ ভাবতে বাধ্য হবে এসব দেউলিয়া রাজনৈতিক নেতারা কি এতটাই দেউলিয়া হয়েছেন যে, যেখানে তাদের হাতে কি রাজনীতি করার মত কোন ইস্যু নেই। একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেই ফেললেন করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ি। যিনি একথা বলেছেন তিনি আবার একটা বড় দলের উচ্চ স্তরের দায়িত্বশীল পদে আছেন।

কোনো বড় দলের দায়িত্বশীল পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা যদি দায়-দায়ত্বহীন ভবঘুরে ব্যক্তিদের মত কথা বলেন, তখন আমাদের মত সাধারণ মানুষের দল সহজেই বুঝতে পারে আমাদের রাজনীতি কোন পর্যায়ে গিয়ে থেমেছে। আবার দেশের মানুষের একথাও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, রাজনীতির কোন কোনা থেকে হীনস্বার্থ উদ্বারকারীরা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।

প্রত্যেক সমাজ এবং রাষ্ট্রে বিভিন্ন মত এবং বিভিন্ন দলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী লোকজন বাস করে। কিন্তু দেশের মানুষের উপর যখন বিপদ আপদ আসে, তখন সমাজবদ্ধ মানুষ বিপদ থেকে উদ্বার পাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। মানুষ একত্রিত হয়ে তার সকল বিপদ আপদ, দুর্ভোগ মোকাবেলা করে থাকে নিজেদের শক্তিকে সমষ্টির শক্তিতে পরিণত করে।

অথচ আমাদের দেশের এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার লোভে এতটাই নীচে নেমেছেন যে, তারা দেশের মানুষের চরম দুর্যোগকেও তাদের হীনরাজনীতির স্বার্থে কাজে লাগাতে চান। যারা দেশের মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে হীনরাজনীতি করে হীনস্বার্থ উদ্বার করতে চান, সেইসব ব্যক্তিদের আজ যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনারা কি রাজনীতি বলতে একে অন্যকে গালিগালাজ করাকেই মনে করেন? দেশের মানুষের চরম খারাপ অবস্থার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির খেলায় কি করে মেতে উঠেন। ভাবেন এই সুযোগে নিজের চিন্তার বিপরীতে থাকা রাজনীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সমাজের মানুষের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ যাচ্ছে।

একবারও কি আপনাদের মনে কিংবা চোখের সামনে দেশের অসহায় বিপন্ন মানুষের বিপন্ন মুখচ্ছবি ভেসে উঠেনা। নাকি ভাবেন মানুষের কথা চিন্তা করার কি দরকার। আজ সারা পৃথিবীর মানুষের অবস্থা একটা ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। লেখাটি যখন তৈরি করছি তখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাসের মৃত্যুবরণকারী লোকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা একমাত্র ভবিষ্যৎই বলতে পারবে।

ইউরোপের অবস্থা ভয়াবহ। ইতালীর অবস্থা জনমানবের চিন্তার বাইরে। সেখানে যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছে, তা ভাবতে গেলেই মনপ্রাণ ভয়ে কেঁপে উঠে। আমরা যদি সাবধান না হই, আমাদেরকে করোনাভাইরাসের মতো ভাইরাস কোথায় নিয়ে যাবে, কেউ তা বলতে পারবে না। তাই যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ান কিংবা করোনা ভাইরাসের মতো জীবনঘাতী ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি করতে চান, তারা যেন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কথাবার্তা বলেন।

দেশের মানুষ একটা আতঙ্কের মাঝে থেকে সাবধানতার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনের কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে তার কাজকর্ম ফেলে রাখলে দিন চলবে না। তার মধ্যে যদি কোন পক্ষ দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলেন, তাহলে মানুষের আতঙ্ক আরো বেশী বেড়ে যাবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাজ হবে যারা পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষের আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে গুজব ছড়াতে ব্যাস্ত আছে তাদেরকে সময়মত চিহ্নিত করা।

যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের নিশ্চয়ই একটা পরিকল্পনা আছে। এসব মন্দ লোকেরা গুজব ছড়িয়ে চাচ্ছে দেশকে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে ফেলতে। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের মাঝে জঙ্গলের আইন প্রতিষ্ঠা করে চায় নিজেদের হীনরাজত্ব কায়েম করতে। দেশের মানুষ সকল সময় সকল কালেই এসব অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টিকারী হীনমানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নিজেদের মেধা, বুদ্ধি ও আপন শক্তি দ্বারা প্রতিহত করেছে।

আমরা দেশের সচেতন জনগন ভালো করে জানি এবং বুঝি গুজব ছড়িয়ে দেশের মানুষের জীবন-যাপন কিভাবে মন্দ লোক কর্তৃক বিষিয়ে তোলা হয়। পদ্মা সেতু নিয়ে কম গুজব ছড়ানো হয় নি। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করে পিছিয়ে পড়ে, তখন আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং দেশের মানুষের বুকের শক্তির উপর বিশ্বাস করে আমাদের নিজেদের অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে যাচ্ছেন।

যখন বিরুদ্ধবাদীরা দেখলো পদ্মা সেতু হয়ে যাচ্ছে, তখন ওইসব বিরুদ্ধবাদীরা পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করলো। পদ্মা সেতুর গুজবের জন্য মানুষকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে। অনেকে গণপিটুনির শিকার হয়ে অসহায় ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। যারা পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে, তারা মনে প্রাণে চেয়েছে পদ্মা সেতু যাতে না হয়। কেননা পদ্মা সেতু হলে দেশের সামগ্রীক উন্নয়নের ধারা খরস্রোত নদীর মত প্রবাহিত হতে থাকবে। তাতে দেশের মানুষের উন্নতি হবে। আর দেশের মানুষের উন্নতি হলে দেশের জনগনের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে। গুজব সৃষ্টিকারীরা যেহেতু একটা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে থাকে, তাই তারা তাদের পরিকল্পনা মতোই চায় না সরকারের ভাবমূর্তি দেশের মানুষের কাছে উজ্জ্বল হোক।

এসব গুজব সৃষ্টিকারীরা কখনোই চায় না দেশের সামগ্রীক অবস্থার উন্নয়নের ধারা বহমান নদীর মত আপন স্রোতের ধারায় প্রবাহিত হোক। কেননা যার গুজব সৃষ্টি করে থাকে, তারা ভালো করেই জানে দেশের উন্নয়নের চাকা সামনের দিকে চলতে থাকলে দেশের মানুষ সচেতন হয়ে উঠবে। দেশের মানুষ সচেতন হয়ে উঠলে রাজনীতির মাঠে গুজব ছড়িয়ে তারা টিকতে পারবে না।

আমরা সকলেই জানি যারা গুজব ছড়িয়ে অন্ধকারে থেকে রাজনীতি করতে চায়, তারা কখনো দেশের মানুষের ভালো চায় না। তারা নিজের পরিকল্পনা মত নিজের হীনউদ্দেশ্যই উদ্বার করতে চায়। তাই বলছিলাম, সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, এসব গুজব সৃষ্টিকারী অন্ধকারে থাকা গণশত্রু ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং দেশের মানুষের নিশ্চন্তে জীবন-যাপন করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখা।

লেখক: আইনজীবি, কবি ও গল্পকার

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close