• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

এ কোন লজ্জায় লজ্জিত মানবতা!

প্রকাশ:  ০৬ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৪৬
জুলফিকার বকুল
জুলফিকার বকুল

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে সেদিন লক্ষ জনতা ঝাপিয়ে পড়েছিল মানচিত্রে একটু জায়গা করে নিতে। অসামান্য এ অর্জন এনে দেয় প্রিয় মাতৃভূমি বাঙালির বাংলা। আজ বিশ্ব মানচিত্রে ছোট্ট এ ভূখণ্ডটি একটি সম্ভাবনার প্রদীপ্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র। যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে অদম্য সাহসী সৈনিক হয়ে হিংস্র জানোয়ারের কালো হাতকে ভেঙে দিয়েছিল, লোভী জিহব্বাকে কেটে দিয়েছিল, বাঁচিয়েছিল বাংলা মায়ের সম্ভ্রম, সেই তেজদীপ্ত রক্তের তুলির আঁচরে লেখা ‘বাংলাদেশ’। সম্মান ও মর্যাদার আসনে ‘চির উন্নত মম শির’।

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে যেমন রক্ষা করাটা কঠিন তেমনি এ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য আর একটি যুদ্ধের প্রয়োজন অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধ সেই সব হিংস্র নারী লোভী মা-বোনহীন যৌন পিপাসু অমানুষদের বিরুদ্ধে, নারী নির্যাতনকারী কাপুরষদের বিরুদ্ধে। যারা বাংলা মায়ের পবিত্র ইজ্জতকে হরণ করে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করে লজ্জাহীন হাসিতে উল্লাস করে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। দেশকে একটি পরিবার মনে না করে এরা লজ্জাহীন, কলংকময় অধ্যায় তৈরি করে ঘৃণিত জাতি হিসেবে আদিম, বর্বর মানুষ হয়ে বাঁচতে চায়। কখনও কি একবারও ভেবে দেখেছে একটি মহৎ অর্জনের জন্য কতটা ত্যাগ করতে হয়? ভাববে কোথা থেকে। যে কখনও পরিবার থেকে নৈতিকতার শিক্ষা পায়নি, যার চেতনায় নাই কোন দেশপ্রেম তার অন্তরে মায়ের প্রতি, পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকারই কথা। কিন্তু আমরাও এই বাংলাদেশ নামক মায়ের মমতায় তিলে তিলে গড়া পরিবারের সন্তান। আমরা মায়ের সম্মান সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা দুই একজন নরপশুদের জন্য নিজেদের সম্মান হারাতে চাই না। আইনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে চাই। আজ প্রশ্ন জাগে নারী ক্ষমতায়ণ পরিপূর্ণতা সত্ত্বেও মা বোনেরা কেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। অপরাধী কোন গ্রহের এলিয়ান নয়। এ সমাজেই বসবাসকারী মানুষাকার জীব। যার অন্তরাত্মায় লোভ ও স্বার্থের লোলুপ্ত বাসনা বিরাজ করে সর্বত্র।

শিক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের প্রতি আনুগত্য সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধকরণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে মূল্যায়ণ ও যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিটি পরিবার আজ সন্তানদের নিয়ে শংকিত। সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন এবং নিরাপত্তার আশংকা উভয়ই যখন একসাথে অন্তরে লালন করতে হয় তখন সেই সাফল্য কখনও আলোর মুখ দেখে না, কখনও কখনও অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন জয়ের পথ তৈরি করে দেয়া পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের নৈতিক ও গুরুদায়িত্ব। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আছে গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস, আছে আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত করতে হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়তে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।

সন্তানের প্রতি উদাসীনতা নয়, যত্নশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদেরকে আগামীর ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি সন্তান কখনও সন্ত্রাসী, ধর্ষক হয়ে জন্মায় না। এ সমাজই তাকে এমন হীন কাজের প্রতি আসক্ত করে তোলে। তাই আমরা কেউ এর দায় এড়াতে পারি না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের স্ব-স্ব পরিবারের সদস্যদের নৈতিক চরিত্র গঠনের দায়িত্ব নেয়া সামাজিকভাবে আবশ্যিক করতে হবে। অসৎ উপায়ে আয় করে মনের মাঝে লোভ, লালসা, হিংসা, মিথ্যা পুষে রেখে সন্তান বড় করলে সেই সন্তান কখনও পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এরাই একসময় দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করে দেশকে মর্যাদার আসন থেকে নামিয়ে আনবে। ফলে ব্যর্থ হবে আমাদের লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, কষ্ট পাবে শহীদদের আত্মা।

এখনই সময়। চিরতরে ধর্ষণকে বাংলার পবিত্র মাটি থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর একটি স্বামীকেও যেন চোখের সামনে নিজের স্ত্রীর সম্ভ্রম হারাতে দেখতে না হয়, লজ্জায়, ঘৃণায় আর যেন না মরে কোন অসহায় মায়ের আদরের মেয়ে, চিরতরে যেন হারিয়ে না যায় কোন মেধাবী প্রতিভা। জাতির বিবেকের কাছে এমনটি প্রত্যাশা রেখে, ‘আর নয় ধর্ষণ, মানবতায় পথ চলি, হোক শান্তি বর্ষণ’।

শিক্ষক, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল ডুয়েট ক্যাম্পাস,গাজীপুর


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

জুলফিকার বকুল,ধর্ষণ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close