• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

মানুষ বয়সে বাড়ে না, মানুষ বাড়ে চিন্তায় ও নিঃস্বার্থ অবদানে 

প্রকাশ:  ৩০ জুলাই ২০২০, ১০:৫৭ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ১১:১৯
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

‘মানুষ বয়সে বাড়ে না, মানুষ বাড়ে সততায়, চিন্তায়, সৃজনে, মননে ও নিঃস্বার্থ অবদানে।’ আমাদের সমাজে এ কথাটা অনেক মানুষ মেনে নিতে চায় না নিজেদের স্বার্থে। একজন ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মানুষকে ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মানুষ ছোট ভাবে। সেভাবে তারা তাদের মতো ব্যাখ্যা তৈরি করে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে মন ও মানসিকতার উৎকষতায় ও ধারণায় একজন ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মানুষ ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। বয়সটা একটা পরিমাপগত বৈশিষ্ট্য মাত্র কিন্তু পূর্ণতা বা অপূর্ণতা মনের ও চিন্তার বিকাশের উপর নির্ভর করে বয়সের উপর নয়।

জন এফ কেনেডি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম রাষ্ট্রপতি। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী নিউটন ও আইনস্টাইন তাদের মৌলিক আবিষ্কারগুলো ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই করেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাত্র ৩৯ বছর বয়সে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও মাত্র ৪৯ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের রূপকার তিনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার দর্শনকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করেছেন। বাংলাদেশের এই পরিকল্পনা ভারতেও অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি আমাদের শিক্ষা পরিবারের গর্ব মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনিকে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি শক্তিশালী মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুভার প্রদান করেন। দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তিনি একটি কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। শিক্ষাকে কর্মমুখী ও জীবনসম্পৃক্ত করতে তিনি কাজ করে চলেছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা। তিনি একটি অমোঘ সত্য কথা বলেছেন তা হলো সৎ থাকলে একটা সুবিধা আছে, ভয় পাওয়ার কিছু থাকে না। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা। প্রখর মেধাশক্তি, পরিকল্পিত চিন্তাধারা আর দেশকে অন্তরে লালন করে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে একটি শক্তিশালী আইটি ইন্ডাস্ট্রি, ই-গভর্ন্যান্স প্রবর্তন ও বৃহৎ পরিসরে আইটি শিক্ষা চালুর মাধ্যমে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি বিশদ ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ও তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধান কারিগর নিরলসভাবে হিসেবে কাজ করছেন। প্রযুক্তির বাংলাদেশ আজ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। এই বাস্তবতা বলছে বয়স মানুষকে নেতা বানায় না, মানুষের চিন্তাশক্তি ও শুভবোধ মানুষকে নেতা বানায়। নেতার বয়স কম না বেশি এটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক থাকতে পারে। তবে সাফল্যের পথ কম বয়সে যাদের হাত দিয়ে তৈরি হয় তারাই একদিন সময়ের আবর্তনে সাফল্যের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারেন। মানুষ বড় হোক তার চিন্তায় ও সৃষ্টিতে, বয়সে নয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী: শিক্ষাবিদ, কলামিষ্ট ও লেখক


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

আসাদুজ্জামান চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close