• শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ক্যারিশমেটিক জয়

প্রকাশ:  ১১ জুলাই ২০২০, ২৩:০৩ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২৩:১৪
অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে মেঘের ঘোমটা টানা আকাশে বৃষ্টির ঘনঘটা মাথায় নিয়ে তিতুমীর প‌্রাঙ্গনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচিতে অংশগ‌্রহণ করেছিলো বাংলাদেশ ছাত্র রাজনীতির দুই দিকপাল মেধাবী তরুণ ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ‌্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি মোঃ রিপন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোড়লের আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সম্মানীয় অধ্যক্ষ মহোদয় প‌্রফেসর মোঃ আশরাফ হোসেন এবং উপাধ্যক্ষ প‌্রফেসর ড. মোসাঃ আবেদা সুলতানা।

ধন্যবাদ জানাচ্ছি রিপন - জুয়েলকে আমাকে এমন একটি কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। যথাযথ সামাজিক শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্হ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে মাথায় রেখেই উপস্হিত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্রছাত্রীবৃন্দ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছে।

একজন আল নাহিয়ান খান জয় এলো, জয় করলো এবং মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে বিদায় নিয়ে চলেও গেলো । দিনটি কেটেছে ভালোলাগার এক অন্যরকম মাধুর্যে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই জয় আমার শুধু পরিচিতই নয় সন্তানতুল্যও বটে। লেখকের বেলাতেও তেমনি কোনো ব্যতিক্রম নেই। ভদ‌্র , বিনয়ী , টগবগে তারুণ্যের উত্তরাধিকার আল নাহিয়ান খান জয় বরিশালের বাবুগঞ্জের কৃতিসন্তান। জাতির শ‌্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলীম খানের পুত্র জয় ছোটোবেলাতেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ‌্রাণিত হয়ে বাবার হাত ধরেই ছাত্র লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি জয়ের; সম্পৃক্ত ছিলো উপজেলা ছাত্রলীগেও। ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতেও। জানা যায় , ভর্তি যুদ্ধে মেধা তালিকায় ১৬ তম স্হান লাভ করেছিলো আল নাহিয়ান খান জয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করছে। আল নাহিয়ান জয় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগ শাখার প‌্রথমে উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনও করেছে।

অন্যদিকে যশোর জেলার মনিরামপুরের প‌্রতিভাবান মেধাবী মুখ কেন্দ‌্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিজ জেলার ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ‌্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করছে । জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র লেখক ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাস শিক্ষা- শান্তি - প‌্রগতির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত গৌরব আর ঐতিহ্যের ইতিহাস। পাকিস্তান সামরিক শাসকের আমল থেকে যেদিন বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন ধর্মভিত্তিক বিভক্তি পূর্ব বাংলার মানুষের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না বরং শোষণ -বঞ্চনা আর নিপীড়ন - নিষ্ঠুরতার কাব্যকাহন তৈরির লোক দেখানো এক অপপ‌্রয়াসে ভরপুর ছিলো সেই বিভক্তি; সেসময় থেকেই শত দুঃখ- কষ্ট - যন্ত্রনার দাবদাহ সয়ে সয়ে বাঙালির শৃঙ্খলমুক্তির অদম্য চেতনা নিয়ে বঙ্গবন্ধু তীব‌্র লড়াই সংগ‌্রামে বৈরি প‌্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে প‌্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আদর্শিক এক ছাত্র সংগঠন যেটি পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্ব আর সাংগঠনিক দূরদর্শিতার মর্মমূলে লালন করেছিলেন পূর্ববঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট একটা ছাত্র সংগঠন , একটা প‌্রতিষ্ঠান প‌্রয়োজন। তাই অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি জানালেন, আমি ছাত্রলীগ (তখনকার নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ) কর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করলাম। আজিজ আহমেদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, আবদুল হামিদ চৌধুরী, দবিরুল ইসলাম, নইমউদ্দিন, মোল্লা জালাল উদ্দিন, আব্দুর রহমান চৌধুরী, আবদুল মতিন খান চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং আরও অনেক ছাত্রনেতা একমত হলেন, আমাদের একটা প‌্রতিষ্ঠান দরকার। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি তারিখে ফজলুল হক মুসলিম হলের অ্যাসেম্বলি হলে এক সভা ডাকা হলো , সেখানে স্থির হলো একটা ছাত্র প‌্রতিষ্ঠান করা হবে । যার নাম হবে ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ -- পৃঃ ৮৮। নব গঠিত সংগঠনটি শুরু হয়েছিলো পুরান ঢাকার ১৫০ নম্বর মোগলটুলীর একটি অফিস কক্ষ থেকে। সেই ত্যাগী আদর্শিক ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের কর্মীরা পাকিস্তান স্বৈরশাসনের পুরো সময়টা জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতনের পারাকাষ্ঠা বেয়ে, খেয়ে না খেয়ে মুক্তিযুদ্ধকে তরান্বিত করে একটি সফল - স্বাধীন - সর্বজনীন গ‌্রহণযোগ্য পরিণতি হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছে।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ছাত্রলীগের কলেবর বেড়েছে বহুমাত্রিকতায়। ছাত্রলীগ গঠনের শুরুর সময় থেকে সাম্প‌্রতিক সময় পর্যন্ত নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বের কাতারে উঠে এসেছেন , দবিরুল ইসলাম , খালেক নেওয়াজ খান, কামরুজ্জামান, এমএ ওয়াদুদ, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আব্দুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকীসহ বর্তমানের সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের , বাহালুল মজনুন চুন্নু, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, খ. ম জাহাঙ্গীর, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও অনেক সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ।

ইদানিংকালে ২০১১--২০১৫ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বপ‌্রাপ্ত হয়। সাইফুর রহমান সোহাগ ও এম এম কাদির ( ২০১৫ -২০১৮ ) ; ২০১৮ -২০১৯ তারিখে নেতৃত্বে আসে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রব্বানি । পূর্বেই বলেছি , ২০১৯ এর ১৪ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যিক গৌরবময় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ।

বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া তাঁর আবেগ অনুভূতি জড়ানো সাধের ছাত্রলীগ। তিনি বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস , ছাত্রলীগের ইতিহাস স্বাধীনতার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর সেই আবেগের আদর্শ থেকে মূল্যবোধের অহংকার থেকে মেধার স্ফুরণ ঘটিয়ে বাংলাদেশের ছাত্রলীগকে এগিয়ে যেতে হবে আরো অনেক দূর। ক্ষমতার পাদপ‌্রদীপ নয়, দাম্ভিকতার উন্নাসিকতাও নয় , নীতিহীনতার লোলুপতা বর্জন করে আজকের ছাত্রলীগকে উঠে দাঁড়াতে হবে, ঘুরে দাঁড়াতে হবে গণমুখী - জনমুখী কল্যাণের চেতনায় স্বাধীনতার স্বপ্ন বীজের লক্ষ্যকে পূরণ করার অভিপ‌্রায়ে।

অতীতের অনেক ভুল অনেক অসঙ্গতি ছাত্রলীগকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলেছিলো। বর্তমান ছাত্রলীগের সুদক্ষ অভিভাবক গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দুজন আলোকিত, প‌্রখর প‌্রতিভাবান নেতৃত্বকে ছাত্র রাজনীতির সুমহান দায়িত্বটি তুলে দিয়েছেন, এদেশের সার্বিক জনগোষ্ঠী আশা করে, বিশ্বাস করে, উঠে আসা দুই নেতৃত্ব আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য তাদের ওপর আরোপিত দায়িত্ব যথেষ্ট ক্যারিশমেটিক পথেই এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সে সাংগঠনিক দক্ষতা তাদের রয়েছে।

করোনাকালীন ছাত্রলীগের বহুমাত্রিক অর্জন পূর্বের অসম-অসহিষ্ণু নগ্ন প‌্রতিযোগিতা, টেন্ডার দলবাজির মতো অসুস্থ ন্যাক্কারজনক ঘটনাসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত ছাত্রলীগের ক্ষয়িষ্ণু ধারাকে রুখে দিতে পারবে বলেই এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। আজকের ছাত্রলীগ মানবিক প‌্রবৃত্তিতে ভরপুর , আবেগ - অনুভূতি , ভালোবাসা বিনয়ের আদর্শে সমুজ্জ্বল এক ছাত্র সংগঠন।

সাম্প‌্রতিক সময়ের মতো , স্বাধীনতা উত্তর কালেও দলের কিছু নীতিহীন মানুষ বঙ্গবন্ধুর সব আবেদন নিবেদন উপেক্ষা করে ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক হয়েছিলেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কারাগার থেকে আজকের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি ও বাহালুল মজনুন চুন্নু ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আত্মশুদ্ধি , আত্ম-সমালোচনা ও আত্ম-সংযমের পথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চিন্তা চেতনা, মননশীলতায় ও মেধায় ছাত্রলীগকে সারা দেশে সুসংগঠিত - শক্তিশালী করেছিলেন (পীর হাবিবুর রহমান , বাংলাদেশ প্রতিদিন , ২২ মে , ২০১৯)।

ভাবতে ভালো লাগছে বলতেও ভালো লাগছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি জয়কে এবং সাধারণ সম্পাদক লেখককে এক ঝলক দেখেই তিতুমীর কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয় মন্তব্য করেছেন, এখনকার ছাত্র নেতৃবৃন্দকে দেখলে ছাত্র ছাত্রই মনে হয়; কোনো ব্যবসায়ী বা ঠিকাদার মনে হয় না। ওদের ভূয়সী প‌্রশংসা করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ম্যাডামও ।

করোনাকালীন সংকটময় পরিস্হিতিতে মানবিক ছাত্রলীগের কর্মীরা সারাদেশে সাংগঠনিক নেতৃত্বকে মর্যাদা দিয়ে করোনাক্রান্তদের লাশ দাফন থেকে শুরু করে, পরিযায়ী শ‌্রমিক সংকটে কৃষকদের ঘরে ঘরে ধান তুলে দেয়া , ত্রাণ পৌঁছে দেয়া, সুরক্ষা সাম‌গ‌্রী জনগণের দোর গোরায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব নিয়ে পৌঁছে দিয়েছে।

আমরা আশা করতেই পারি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আবারো গৌরবে - সৌরভে , ইতিহাসে - ঐতিহ্যে সমুন্নত থেকে গণ- প‌্রত্যাশার প‌্রতিফলন ঘটাবে। জাতির পিতার আদর্শে প‌্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের পথ বেয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অগণিত সৎ , নির্লোভ , ত্যাগী নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। তোমরাও সেই ইতিহাস ঐতিহ্যের আধার প‌্রিয় সংগঠনটিকে লালন করে , ধারণ করে আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন প‌্রকৃত উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে আলোকিত মানুষে পরিণত হও। দেশ - জাতি , মা - মাটি তোমাদের গৌরবময় সাফল্যের পানে প‌্রতীক্ষায় রয়েছে- থাকবে। জয়, তোমার জয় হোক ; লেখকের গতি হোক উন্মুক্ত - উর্বর মসীসম।

লেখা: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

পূর্বপশ্চিমএনই

অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close