• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

অধ্যক্ষ নীলুফার মঞ্জুর ছিলেন এক অনন্য রোল মডেল

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০২০, ২১:০৫
গোলাম কাদের
অধ্যক্ষ নীলুফার মঞ্জুর

১৯৮৩ সাল থেকে অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ আর্থসামাজিক কাজের পাশাপাশি আচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের নামে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের কালজয়ী চেতনাকে ধরে রাখার জন্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান স্বর্ণপদক চালু করে এবং সমাজের গুণী ব্যক্তিদের জীবিত অবস্থায় পুরস্কার দিয়ে থাকেন। এ জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুণী মানুষকে বের করে আনা হয় যাঁরা নীরবে নিভৃতে কাজ করে যান তাদের পুরস্কৃত করা পরিষদের অন্যতম কাজ। আমাদের দৃষ্টিতে সে রকম এক মহীয়সী নারী ছিলেন সানবীম স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা সদ্যপ্রয়াত নিলুফার মঞ্জুর। তাঁকে ২০১০ সালে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান স্বর্ণপদক দিতে পেরে আমরা গর্বিত। করোনায় প্রয়াত এই মহীয়সী নারীর প্রতি আমাদের গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কিছু স্মৃতি রোমন্থন না করলেই নয়।

ঢাকা ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরানুল হক তাঁর শেখ আবুল বাকীর মাধ্যমে নিলুফার মঞ্জুরকে সম্মাননাটি দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেন। সানবীম-এর সুনাম এবং নিলুফার মঞ্জুরের অবদান আমাদের জানা। প্রস্তাবটি পরিষদের গ্রহণযোগ্য বিবেচনায় নিয়ে আমি যোগাযোগ করি।

সম্পর্কিত খবর

    প্রথমত, সানবীমের ব্যবস্থাপক কাদের সাহেবের ফোন ধরেনি বিষয়টা তাকে জানানো হয়। তিনি অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুরকে এ বিষয়ে জানালে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি অন্য আরো যোগ্য লোকদের পুরস্কার দেয়ার কথা বলেন। আমি জানাই ইতিমধ্যে অনেককে এ পদক আমরা দিতে পেরেছি। বিশিষ্ট কয়েকজনের নামও বললাম যেমন দার্শনিক দেওয়ান মো. আজরফ, সাংবাদিক ওবাইদুল হক, সানাউল্লাহ নূরী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, ড. আতিউর রহমান, শিক্ষাবিদ ইউজিসি’র চেয়ারম্যান ড. এম আসাদুজ্জামান, ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ এবং শিল্পপতি ফজলুর রহমান, বর্তমান রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ, নুর আলী, গোলাম দস্তগীর গাজী, আলহাজ নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। উনি আমাকে থামিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললেন একদিন আসেন, কথা বলি। ব্যবস্থাপক মহোদয় পরে টেলিফোন করে সময় জানালেন শেখ আব্দুল বাকিকে নিয়ে পরিষদের প্রস্তাবনা চিঠি নিয়ে উত্তরায় সানবীম স্কুল-এর নতুন ক্যাম্পাসে হাজির হই।

    তিনি এসে আমাদের অভ্যর্থনা করে নিয়ে যান উপরে তার রুমে। বিনয়ী জ্ঞানের আধার এই মহীয়সী নারীর সঙ্গে সেদিন পরিচয় হয়ে খুব ভালো লাগলো। কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে নিজ বাসায় সানবীমের যাত্রা শুরুর কথা শুনলাম তার মুখে।বিশ্ব উপযোগী শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তোলার কথা বললেন। প্রতিটা ছাত্রছাত্রীদের মায়ের আদরে নৈতিক মূল্যবোধ দিয়ে গড়ে তোলার প্রত্যয় তার চোখে-মুখে ছিল। সানবীম (সূর্য্যরে আলোক ছটা) উজ্জ্বলতা। তিনি নিজ পরিবার পরিজনকে সময় দিয়ে বিশাল এক কর্মজীবনে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিদিন। বাংলাদেশের উজ্জ্বল নাগরিক দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ভাস্বর দেখেছিলাম তার মুখশ্রী। আপ্যায়ন শেষে ফিরে আসি। কয়েকদিনের মধ্যে তার ছবি, জীবন বৃত্তান্ত আমাদের হাতে আসে। ছবিসহ পত্রিকায় ঘোষণা হয়। তিনি জেনে ধন্যবাদ জানান পরিষদকে।

    ১৩ই মে ২০১০ সালের বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবিক মূল্যবোধ এবং আজকের সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক ২০১০ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল, এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক নুরুল ফজল বুলবুল, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, দুর্নীতি কমিশনের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. উত্তম কুমার বড়–য়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। এখানে উল্লেখ্য যে, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর। অনুষ্ঠানে সপরিবারে এসেছিলেন তারা। স্ত্রীকে এই ধরনের সাপোর্ট দিয়েছেন বলেই নিলুফার মঞ্জুর সাহসের সঙ্গে এত বড় প্রতিষ্ঠান আগলে ধরেছিলেন। আমরা দাওয়াত দিয়েছিলাম পরিবারের সবাইকে। ভেবেছিলাম সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সাহেব এপেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিসেবে হয়তো সময় দিতে পারবেন না, কিন্তু তিনি এসেছিলেন। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথির মর্যাদা দিয়ে ডায়াসে বসিয়ে দেই। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সাহেব প্রথমে সম্মত হননি ডায়াসে বসতে। পরে প্রধান অতিথির অনুরোধে আসন গ্রহণ করেন। পুরস্কার প্রদান শেষে তিনি বক্তব্য রাখেন। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বক্তব্যের একপর্যায়ে আক্ষেপ করে বলেন আমাদের সামনে এখন কোনো রোল মডেল খুঁজে পাওয়া যায় না।

    অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ খুঁজে খুঁজে রোল মডেল বের করেন। নিলুফার মঞ্জুর সমাজের সেই রকমই একজন রোল মডেল ছিলেন। ’৭৪ সালে সানবীম প্রতিষ্ঠান করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে যিনি এক রোল মডেল হয়ে উঠেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহাপ্রয়াণে চির শান্তিতে শায়িত হলেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইলো। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সুস্থতায় ফিরে আসুন এই দোয়া থাকলো।

    লেখক: ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

    অধ্যক্ষ নীলুফার মঞ্জুর
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close