• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

প্রধানমন্ত্রী করোনার যুদ্ধে ব্যর্থ অযোগ্যদের দায় কেন নিচ্ছেন?

প্রকাশ:  ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:২৫ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:৩১
পীর হাবিবুর রহমান

করোনার থাবায় এখন বিশ্বে মৃতের সংখ্যা লাখের কোঠায়। আক্রান্ত হয়েছে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯ জন। মৃত্যুর বিভীষিকায় অসহায় শোকস্তব্ধ দুনিয়ায় পাথরের মতোন চোখ। এত লাশ রাখবে কোথায়! দুই কোটি মানুষ কাজ হারাবে। অর্থনীতির কঠিন মন্দা সামনে। তবু লাশের মিছিল কবে থামবে কেউ জানে না।

বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত ৪২৪ জন, মোট মৃতের সংখ্যা ২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এ পর্যন্ত দেশে ২২ জন চিকিৎসক আক্রান্ত তবু লড়াইটা ডাক্তারদেরই করতে হবে। নার্সদেরই করতে হবে। টেকনোলজিস্ট থেকে রক্ত সংগ্রহকারী হাসপাতালের কর্মীটিও। চিকিৎসকরাই নেতৃত্ব দেবেন। তারাই এ যুদ্ধে বীর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী চরম ব্যর্থ, ব্যর্থ সচিব, মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ মিথ্যাচারে চ্যাম্পিয়ন। খাতটি দুর্নীতিতে সেরা। বোঝা সরানোর উদ্যোগ নেই। পৃথিবীজুড়ে ডাক্তার নার্স থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক, এক কথায় চিকিৎসাসেবায় জড়িত কর্মীরাই লড়ছেন। ইতালি থেকে আমেরিকা প্রতিটি আক্রান্ত দেশে লড়তে লড়তে ক্লান্ত অবসন্ন দেহে চিকিৎসক, নার্সরা হাসপাতালের মেঝেতে একজনের গায়ে আরেকজন শুয়ে পড়ছেন। টানা ১৫/১৬ ঘণ্টার লড়াই। দুই পায়ের ওপর নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে লড়ছেন। করোনার ভয়াবহতার মুখে মানুষ বাঁচানোর লড়াই। নিজের জীবনকে শতকরা একশ ভাগ ঝুঁকিতে দিয়ে লড়ছেন। পরিবার-পরিজন, সন্তান প্রিয়জন সব ভুলে! মানবসেবার ধর্মের অগ্নিপরীক্ষায় আজ মহাবিপর্যয়ের পৃথিবীতে তারা বীরত্বের নায়কোচিত আদর্শ হয়ে উঠেছেন। অনেকে লড়াইয়ে ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে জীবাণু করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তবু সতীর্থরা দমে যাননি। লড়ছেন অদম্য মনোবলে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে।

করোনার মহাপ্রলয়ে পৃথিবী এখন মৃত্যুর অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে। পৃথিবীজুড়ে কান্না আর লাশের মিছিল! লাশ রাখার জায়গা নেই। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন প্রিয়জনের মৃত্যুতেও কান্নার সুযোগ নেই। সন্তানের কাছে মা যান না। দাফনে এত আত্মীয় বন্ধু পরিচিতজন কেউ নেই! অপরিচিতরাই কয়েকজন শেষ বিদায় দিচ্ছেন। দম বন্ধ সময়ে ভয়ে বাকরুদ্ধ শোকস্তব্ধ পৃথিবী দেখছে অসহায়ের মতোন মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছড়িয়ে যেতে। লন্ডনে ডা. ফয়সাল শিশুসন্তানদের এতিম করে তরুণী স্ত্রীকে অকাল বৈধব্য দিয়ে চলে গেছেন। নিউইয়র্কে একই পরিণতি ঘটেছে ডা. রেজার ভাগ্যে। সিলেটের শিক্ষাবিদ আওয়ামী লীগ নেতা সবার প্রিয় ড. তৌফিক চৌধুরীর মা গত শুক্রবার লন্ডনে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এ শুক্রবার তার বাবাও চলে গেছেন। কী কষ্ট এখন তার। কত কোটি মানুষ এখন এমন শোকার্ত। নিউইয়র্কে গণকবর শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডে আমার ছেলে অন্তর নর্থআম্ব্রিয়া ইউনিভার্সিটিতে বারএটল পড়তে গেল। করোনার ঝাপটায় প্রথম তার গ্রাজুয়েশন কনভোকেশন বাতিল। শেষে এপ্রিলের পরীক্ষা অনিশ্চিত। এত আত্মীয়স্বজন তবু ছেলে একা তার ফ্ল্যাটে গৃহবন্দী। বাবা হিসেবে কত অসহায় আজ! পেশার তারে জড়ানো জীবনে সময় দিয়েছি উজাড় করে। ইবাদত জেনেছি কাজকে। স্বপ্ন দেখেছি কত দেশ নিয়ে। সত্যকে ভালোবেসে লড়েছি। গভীর প্রেম ছিল স্বপ্ন নিয়ে। মানুষের জন্য। প্রিয়জন বন্ধুস্বজনে ডুবেছি। সন্তানদের যতটা প্রাপ্য সময় ছিল তাও দেইনি। আজ সব স্বপ্ন যেন মরে যাচ্ছে। দম বন্ধ অসহায় অন্ধকার সময় যেন জীবনী শক্তি কেড়ে নিচ্ছে। এমন একা আমি! আমার কোমল হৃদয়ের ছেলে অন্তরকে বিষাদ আক্রান্ত করেছে। আমার বিষণœ পৃথিবীর মুখে অসহায় পিতা হয়ে চিৎকার করে কাঁদতে গিয়েও কান্না আসে না। কেবল অনুশোচনা দহন কী করেছি আমি! না দেশ না নিজের না সন্তানের জন্য কিছুই করিনি! কেউ শুনেছে আমার আকুতি আর্তনাদ মোসাহেবকবলিত সমাজে।

বাংলাদেশও আক্রান্ত আজ বিশ্ব মহামারীতে। এখানে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্ক হচ্ছে। দেশের সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না এমন অভিযোগ দেশজুড়ে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে করোনার আক্রমণের মুখে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায়। অভিযোগ পুরো সত্য নয়। অনেকে কাপুরুষের ভূমিকা রাখলেও সবাই নয়। আর নয় বলেই চিকিৎসক-নার্সরা লড়াই করছেন। মৃত্যু ভয়কে তোয়াক্কা না করেই। সন্তানকে রেখে যখন বাইরে যান চিকিৎসক-নার্সরা তারা জানেন বুকটা কেমন মোচড় দেয়।

এ ছাড়া আমরা শুরুতেই পরীক্ষার কিট, ল্যাব, পিপিই পর্যাপ্ত দিতে পারিনি। ভয় দিয়ে অপরিপক্ব মন্ত্রণালয় জয় করতে চেয়েছে। ভয় দিয়ে জয় সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে দেশের জনগণের টাকায় পড়াশোনা করা অনেক চিকিৎসক বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন নিরাপদ জীবনের আশায়, দেশে থাকা চিকিৎসকরা এ বেইমানি করেননি। অনেকে বলেন, চিকিৎসকরা প্র্যাকটিসে এক রাতে ঘণ্টায় দু’শ রোগী দেখেন! আমাকে সেদিন একজন এমন কথা বলেন। আমি তখন বললাম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব দেখেছেন তারা বাণিজ্য করেন নাকি পরিবার-পরিজন ফেলে, ব্যক্তিগত জীবন বাদ দিয়ে সেবা করেন!

গানের অনুষ্ঠানে টিকিট কাটতে কৃপণতা নেই। চিকিৎসকের বেলায় কৃপণতা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এত রোগী দেখতে চান না, সিরিয়াল নেই, আমরা তদবির করে দেখাই না দেখাই। চাপ ফেলি। কসাই সবাই নয়। একাংশ, এদের কেউ কেউ ডাকাতও। এদের মানবসেবার ধর্ম নেই। এরা দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, যৌননিপীড়ক চিকিৎসক কর্মকর্তা। সব পেশায় এরকম আছে। কিন্তু প্রকৃত চিকিৎসকদের তাদের দলভুক্ত করলে, ভয় দেখালে তারাও দেশ ছেড়ে দেবেন।

চিকিৎসকদের সংখ্যাগরিষ্ঠরা সেবা দেন মানুষের জীবন রক্ষার। দেশে ১৮ কোটি জনগণের চিকিৎসক মাত্র ১ লাখ। এর মধ্যে ৩০ হাজার সরকারি হলে বেসরকারি ৭০ হাজার। জিডিপির ১ ভাগ চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ। এর মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত মন্ত্রী থেকে আমলা চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী পরিমাণ দুর্নীতি করেছে ১১ বছরে দেশ দেখেছে। এমন নির্লজ্জ দেশদ্রোহীদের হাতে চিকিৎসা বরাদ্দ মানুষের সেবায় পুরোটা কাজে লাগেনি। স্বাস্থ্য সচিব, অধিদফতর থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয় হয়ে সরকারি হাসপাতালের কর্মচারীরা বিশাল অংশ দুর্নীতিতে অভিশপ্ত। শাস্তি হয়নি ওদের। আমরা প্রতিবাদ করব কী ঘৃণাও করতে শিখিনি।

যাক করোনার ভয়াবহতায় আজকের বাংলাদেশ এখন কঠিন বিপর্যয়ের মুখে। আমরা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভরসা নিয়ে লড়াই করছি, তাঁর ভাষণে, ভিডিও কনফারেন্সে পরিণতি কী হবে সে সত্য বলার সাহস যেমন দেখিয়েছেন তেমনি আশা সাহস শক্তি জুগিয়েছেন। সর্বশেষ ভিডিও কনফারেন্সে দেখেছি সবাই প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যাকে সামনে এনে সত্য আড়াল করা কথা বলছেন। সুনামগঞ্জে ডিসির পাশে বসে এমপি মানিক নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে দিন-রাত পরিশ্রম করা পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা নাদের বখতের ভূমিকা দূরে থাক নামটাও বলেননি, রাজনীতির কুৎসিত দাবা খেলেছেন। সব ঠিক বলেছেন। এর দুই দিনের মধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় করোনায় মৃতকে তিন ভাই কাঁধে নিয়ে দাফন করেছেন, গ্রামবাসী খাটিয়াও দেয়নি। সিলেটের মতোন জায়গায় আক্রান্ত চিকিৎসককে ঢাকায় আনা হলো সেখানে চিকিৎসা নাই! সত্য বলুন প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে খাবার দিচ্ছেন। ত্রাণের চাল চুরির খবর আসছে। এটাকে প্যানিকে নেওয়া যাবে না সঠিক বণ্টনেই নিতে হবে।

তাঁর পরিকল্পনা প্রণোদনা উজ্জীবিত করেছে। শেখ হাসিনার বর্তমান মন্ত্রিসভায় এমন একজন মন্ত্রীও নেই, যার ওপর জনগণ কেন তিনিই ভরসা রাখতে পারেন! বহুবার বলেছি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সরকারপ্রধানের সবচেয়ে অথর্ব দুর্বল মন্ত্রিসভা। এসব মন্ত্রীর ওপর মানুষের ন্যূনতম আস্থা নেই।

’৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার ছিল ’৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার। আবদুস সামাদ আজাদ সিনিয়র মন্ত্রী তারপর কিবরিয়া, আমু, রাজ্জাক, তোফায়েল, জলিল, মতিয়ারা তো ছিলেনই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও রাজনীতি সম্পৃক্ত তাঁর স্টাফরা ছিলেন সক্রিয়। ক্রাইসিস ম্যানেজারদের নিয়ে সামলেছেন রাজনৈতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২০০৯ সালেও আনকোরা মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। রাজনীতি-সম্পৃক্ত উপদেষ্টা ছিলেন ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, প্রফেসর আলাউদ্দিন আহমেদরা। ২০১৪ সালেও মুহিতের পর আমু, তোফায়েল, মতিয়া, মঞ্জু, আনিস, মেনন, ইনুরা ছিলেন। সবচেয়ে খারাপ ব্যর্থ অথর্ব মন্ত্রিসভা এবার। শেখ হাসিনার পর আর কোথাও যেন কেউ নেই। ক্রাইসিস ম্যানেজার শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেই। আমু, তোফায়েল, মতিয়ারা ঘরে। ১৪ দল, মহাজোটের কেউ নেই মন্ত্রিসভায়! শেখ হাসিনাই কেবল ভরসা জনগণের, মন্ত্রীতে অ্যালার্জি বেসুমার। জাতি শেখ হাসিনার পেছনে ঐক্যবদ্ধ। কাজে লাগানোর দক্ষ মন্ত্রী স্টাফ তাঁর পাশে নেই। মন্ত্রিসভার অর্ধেক ব্যবসায়ী। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থ আগে। তাও যে যে ব্যবসায় জড়িত। রাজনীতি জনগণ তাদের অগ্রাধিকারে নেই। ’৭৫-পরবর্তী সংকটে লড়াকু রাজনীতিবিদরা নেই কোথাও দায়িত্বে। ২০০১ সাল থেকে যারা পাশে ছিলেন, লড়েছেন, তারাও নেই। সেই ধারায় যারা ওয়ান-ইলেভেনেও কাছে ছিলেন তারাও নেই! কেন? যাক সে হিসাব পরে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে করুণ আকুতি আজ জাতির এ দুঃসময়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনগণের বিজয় অনিবার্য করতে প্রথমেই ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে সরিয়ে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তিশালী সৎ দক্ষদের হাতে নেতৃত্ব দিন। এই ব্যর্থ অযোগ্য মিথ্যুকদের দায় কেন নেবেন মুজিবকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা? মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনুন। মহাজোটের সরকার করুন। পারলে জাতীয় সরকার। ব্যর্থদের বিদায় দিন। মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজান। দুঃসময়ে পাশে থাকাদের ডেকে কাজে লাগান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গণমুখী দক্ষ প্রশাসন ও রাজনীতি-সম্পৃক্তদের যুক্ত করুন। সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা খাতকে সমন্বয় করুন। আপনার নেতৃত্বে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটি বা টাস্কফোর্স গঠন করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রস্তাব কি বিবেচনা করবেন? করোনা মহামারী আঘাত এনেছে। আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে সর্দি জ্বরে মৃত্যুর খবর। করোনার মহাবিপর্যয় আসতে বেশি দিন লাগে না। এই মুহূর্তের করণীয় বলে যা মনে হয় তাই প্রস্তাব করছি।

১. বিশেষজ্ঞসহ সবাইকে নিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন টাস্কফোর্স বা জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন। হোয়াইট হাউসের আদলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাউন্ড দ্য ক্লক এটি সচল থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় টাস্কফোর্স সকল কর্মকান্ড মিডিয়ার সামনে ব্যাখ্যা করবে।

২. হাসপাতাল, জরুরি পরিষেবা, ফার্মেসি বাদ দিয়ে সব কিছু লকডাউন করতে হবে। মক্কা-মদিনার মতো সব উপাসনাগৃহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

৩. জরুরি পণ্য পরিবহন ব্যতীত সকল পথে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে হবে।

৪. অথর্ব মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সরিয়ে যোগ্য দক্ষ অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে হবে।

৫. অবিলম্বে কমপক্ষে ১০,০০০ ভেন্টিলেটর আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশে কমপক্ষে ১০,০০০ আইসিইউ বেড তৈরির জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।

৬. বেসরকারি হাসপাতালসহ সব টারসিয়ারি হাসপাতালে কভিড কিট সরবরাহ করতে হবে।

৭. সব হাসপাতালকে কভিড এবং নন-কভিড এই দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। জরুরি বিভাগে নির্দিষ্ট ট্রায়াজ সৃষ্টি করে সন্দেহজনক রোগীকে সেখানে রেখে দ্রুতগতির পরীক্ষার মাধ্যমে (গণস্বাস্থ্য/এ্যাবোট) রোগ নির্ণয় করে যথাস্থানে রোগীকে পাঠাতে হবে।

৮. আপনার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ দিন দলমতের ঊর্ধ্বে।

৯. জরুরি বিভাগ/ট্রায়াজ/আইসিইউ প্রভৃতি জায়গায় পূর্ণ পিপিই (full set PPE) সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য এরিয়ায় আংশিক পিপিই যথেষ্ট।

১০. স্বাস্থ্যকর্মীদের ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার বীমা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. সকল বেসরকারি হাসপাতালের বেডসমূহ একত্রিত করে সমন্বিত উদ্যোগে কভিড ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে হবে। ভারতে এটা শুরু হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে বসুন্ধরার প্রস্তাবিত অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির প্রস্তুতি দ্রুত নিতে হবে।

১১. চিকিৎসাকর্মীরা এই দেশের সন্তান। তাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে এই যুদ্ধে জিততে হবে। করোনার যুদ্ধে যারা মারা যাবে তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। পরিবারের দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। জাতির আবেগ-অনুভূতি জড়িয়ে আছে। আপনার রক্তে যুদ্ধ আর বিজয়। পরাজয়ের গ্লানি নেই। জাতি আপনার নেতৃত্বে আজ এক। এ যুদ্ধে আপনাকে জয়ী হতেই হবে। আপনি জয়ী হলে দেশ জয়ী হয়। সকল সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসকদের লড়াইয়ে নামান। চিকিৎসার সকল সরঞ্জাম আনার ব্যবস্থা করুন। এ অসহায় সময়ে আপনিই জাতির পরম আশ্রয়ের ঠিকানা। আপনার নিরাপদ ছায়ায় জনগণ নিরাপদ থাক। ত্রাণের চাল যারা এসময় চুরি করে, ত্রাণের লোভ দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে কঠোর শাস্তি তাদের দিন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

পূর্বপশ্চিম- এনই

পীর হাবিবুর রহমান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close