• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

জনগণকে সচেতন করতে আলেমওলামাদের সামনে আনতে হবে

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৩০ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৩৩
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)

আমাদের দেশের মানুষরা ধর্মভীরু। যে যে ধর্মেরই হোক আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্ম-কর্ম পালন করেন। দেশের সিনেমা হলগুলো লোক সমাগমের অভাবে বেশির ভাগই বন্ধের পথে। সবার ঘরে টেলিভিশন থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ শুধু খবরই দেখে। হ্যাঁ আমি আমার পরিচিত বৃত্তে আশে পাশের মানুষদের কথাই বলছি। দোকানদার, ড্রাইভার, গৃহ পরিচারিকা সহ গ্রামে গঞ্জের লোকরা খবরই বেশি দেখে । তাঁদের কথায় নাটক এবং সিনেমা জীবন ঘনিষ্ঠ না হওয়ায় তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

গ্রামে-গঞ্জে এই মুহূর্তে ওয়াজ ভীষণ জনপ্রিয়। আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষেরা ধর্ম প্রচারকদের কথা বিশ্বাস করেন বলেই ঘরের প্রথম লাউটা, ডিমটা মসজিদের মৌলভী সাহেবকে খাওয়ান। খোদা ভক্ত মানুষদের মনে ব্যথা না দিয়ে তবলিগ, জামাত, মসজিদে জুম্মার নামাজ বন্ধ করার জন্য কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। এই ক্রান্তি কালে দেশের জনগগণকে সচেতন করার জন্য সুশিক্ষিত আলেমওলামাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। তাঁদের বাণী জনগণকে সম্মুখ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পথ দেখাবে ।

যেখানে সৌদি আরবের মক্কা শরীফ এবং মদিনা শরীফে লোক জমায়েত না হতে কার্ফু জারি করা হয়েছে, আমাদের দেশে রাস্তা থেকে জনগণকে ঘরে উঠানো যাচ্ছে না।

দেশের বেশিরভাগ মানুষ রোগটির ভয়াবহতা সম্বন্ধে জানতেই পারছেন না কিংবা বুঝতে পারছেন না। স্বাভাবিক ফ্লু ভেবে বসে আছেন। টেলিভিশনে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং সেরে উঠা রোগীদের দিয়ে প্রচার প্রচারণা জরুরি।

একই ভাবে বিভিন্ন ধর্মের যেমন আলেম- উলামা, পুরোহিত, ধর্ম যাজক, পণ্ডিত ব্যক্তিদের দ্বারা অনুষ্ঠান জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া।

কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আমরা ধর্মগুরুদের কথা অনুযায়ী গরুর গোবর এবং গো-মূত্র পান করতে দেখেছি। হোম কোয়ারেন্টিনের অলস সময়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কেবল রূপবতী নায়ক-নায়িকাদের দিয়ে প্রচার গুলোই দেখতে পেলাম। তাঁদের সুন্দর মুখশ্রী মনে প্রশান্তি এনে দেয়। কিন্তু তাঁরা তো তারকা, আকাশে থাকে।

দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে প্রেস ব্রিফিং দেখলাম। প্রতিদিন রাতের বেলার টক শোও দেখি, কিন্তু টক শো সবার জন্য নয়। সর্ব সাধারণের জন্য তাঁদের সচেতনতার উদ্দেশ্যে ছোট ছোট করে তথ্য প্রচার করতে হবে। যে কোন কিছু জীবনঘনিষ্ঠ হলে সহজেই মানুষের হৃদয় কাঁড়ে। সেই ক্ষেত্রে করোনা রুখার জন্য নায়ক-নায়িকা নয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স, আলেম-ওলামা এবং অন্য ধর্মের প্রচারকদের দিয়ে টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা জরুরি সময়ের দাবি বলে মনে করি কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোক কেবল ধার্মিকই নয়,ধর্মান্ধও বটে।

লেথক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি. নিউজ

খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close