• রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

ক্রমশ চরিত্র পাল্টানো করোনা ভাইরাস যাদের জন্য ভয়ংকর

প্রকাশ:  ২১ মার্চ ২০২০, ০৪:৪০ | আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ০৪:৪৯
ডা. সাঈদ এনাম

একজন করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রথমে যে লক্ষন দেখা দেয় সে গুলো ঠিক সাধারণ সর্দি কাশির লক্ষনের মতোই। এই যেমন জ্বর সর্দি কাশি হাঁচি দূর্বলতা ক্ষুধামন্দা। তবে অতিরিক্ত যে উপসর্গ করোনায় দেখা দেয় সেটি হলো প্রথমদিকে হালকা হালকা গলাব্যথা। স্বর ভারী হতে থাকা।

এই গলাব্যথা জ্বর সর্দি কাশি হাঁচি দূর্বলতা পাঁচ সাতদিন পর থেকে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে যা সাধারণ সর্দি জ্বর বা ফ্লু-এর ক্ষেত্রে হয়না। সাধারণ ফ্লুতে জ্বর সর্দি কাশি দূর্বলতা পাঁচসাত দিন পর থেকে এমনিতেই কমে যেতে থাকে।

করোনাভাইরাস এর জ্বর সর্দি কাশি হাঁচি গলাব্যাথা, গলার স্বর পাল্টানো বাড়তেই থাকে ক্রমশ এবং সপ্তাহ দু সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে শুরু হয় শ্বাস কষ্ট। প্রথমে বুকে চাপ চাপ অনুভূতি, দম ফেলতে কষ্ট । এক পর্যায়ে তা বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে বলা যায় এক সময় রোগীর দম বন্ধ হয়ে আসে। সাফোকেটেড অবস্থা। রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এ আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে শ্বাস কার্য চালিয়ে নিতে হয়।

দুই তিন সপ্তাহ পর, যদি রোগীর ভালো ইমিউনিটি থাকে, দেহ নিরোগ থাকে, ফুসফুস বা ইমিউনিটির ক্ষতি করে এমন বদ অভ্যাস যেমন ধুমপান, এলকোহল ইত্যাদি না থাকে, তাহলে সৃষ্টি কর্তার অপার দয়ায় তিনি হয়তো জীবন ফিরে পাবেন। তবে খারাপ হয়ে যাওয়া রোগীর পরিমান খুব কম ১৫ থেকে ২০%।

কাদের খারাপ পরিণতি হয়?

এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তাতে বেশির ভাগ মারা যাওয়া রোগী হচ্ছেন বয়স্ক। এর কারন হলো, প্রথমত তাদের ইমিউনিটি কম থাকে তার পাশাপাশি তাদের প্রায় সকলেরই ডায়বেটিস, হাই-প্রেশার, হাঁপানি রোগ, ক্যান্সার, বা অন্যান্য রোগ থাকে। ফলে মাল্টি অর্গান ফেইলর হয়ে তারা মৃত্যু বরন করেন।

ছড়ায় কিভাবে?

আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে হাঁচি কাশি লালার মাধ্যমে নির্গত ড্রপলেট এর মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়। তাই রোগী সাথে যারা থাকেন তারা সহজেই আক্রান্ত হন। তবে অনেক সময় রোগীর দেহে ভাইরাস আছে কিন্তু রোগীর জ্বর কাশি বা উপরে যে উপসর্গ গুলো বললাম এর একটিও না থাকতে পারে এমন অবস্থায় ও তিনি রোগটি ছড়াতে পারেন। এজনই এ ভাইরাস কে বলা হয় এটি রেপিড স্প্রিডার।

কি করতে হবে?

সন্দেহ হয়েছে কারো ইনফেকশন হয়েছে বা কেউ ইনফেকটেড এলাকা থেকে আসছেন, তাকে বাধ্যতামূলক ১৪ থেকে ২৮ দিন আলাদা থাকতে হবে। এটা করতে হবে তারই পরিবারের আপন বৃদ্ধ মা বাবা দাদা দাদী নানা নানী তাদের সুরক্ষায়।

১৪ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তার শরীরে লক্ষন গুলো প্রকাশ হয়ে যাবে, যদি ভাইরাস থেকে থাকে। এবং তার ভিতর অটো -ইমিউনিটি তৈরি হয়ে করোনা ভাইরাস সব মরে যাবে। তিনি ভাইরাস মুক্ত হয়ে যাবেন।

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তত্ত্বে এগুলোই করোনাভাইরাস এর লক্ষন ও বেঁচে থাকার প্রাথমিক কথা বার্তা।

ভয়ের বিষয় হচ্ছে করোনাভাইরাস তার চরিত্র ক্রমশ পাল্টাচ্ছে। সে মানব জাতির সাথে রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ। তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। মানব প্রজাতি বনাম করোনাভাইরাস। পরিনতি? সেটা চার্লস ডারউইনের সেই বিখ্যাত থিওরি, সারভাইভাল অব দি ফিটেস্ট। শক্তিশালী বেঁচে থাকবে দূর্বল হারিয়ে যাবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

পূর্বপশ্চিম- এনই

করোনা,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close