• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধে গণমাধ্যম লকডাউন হবে না, কিন্তু কতোটা প্রস্তুত

প্রকাশ:  ২১ মার্চ ২০২০, ০৪:২৯
মনজুরুল আহসান বুলবুল

বলা হচ্ছে World War-V শুরু হয়ে গেছে। এই বিশ্বযুদ্ধে মানবসভ্যতাকে লড়াই করতে হচ্ছে ভাইরাসের সঙ্গে। দেশে দেশে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। অনেক বিশ্বনেতাকে বলা হচ্ছে ‘যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট’ বা ‘প্রধানমন্ত্রী’। এ যুদ্ধ মিডিয়া জগতেও শুরু হয়েছে। যথারীতি চীন টার্গেট হয়েছে খবর সেন্সরশিপের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে কর্মরত চীনা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে চীনও। টার্গেট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নামজাদা কিছু সংবাদমাধ্যম। এ যুদ্ধে সংবাদমাধ্যম বা সংবাদকর্মীরাও বাইরে নন। সব লকডাউন হলেও সংবাদমাধ্যম লকডাউন হবে না। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এ পেশায় আসেন। এ রকম একটি অসম যুদ্ধ, যেখানে আমরা শত্রু কে জানি কিন্তু চিনি না, চোখে দেখি না, সেখানে যুদ্ধ কভার করার বিষয়টি পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রকাশ্য যুদ্ধে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা যায় কিন্তু করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধটা অসম। এই শত্রুর অবস্থান নিঃশ্বাসের দূরত্বে কিন্তু তাকে চেনা যাচ্ছে না, ধরা যাচ্ছে না। এ রকম একটা যুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রস্তুতি নিতে হবে প্রথমত সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য। দ্বিতীয় প্রস্তুতি একজন পেশাদার কর্মী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে, যাতে সমাজ, রাষ্ট্র বা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তৃতীয় প্রস্তুতি অফিস বা মাঠে কাজ করার সময় নিজের ও সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বেলায় একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীর কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নেই। দেশজুড়ে সব মানুষের জন্য যে সতর্কতা, সে নির্দেশিকা অবশ্যই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মেনে চলতে হবে।

একজন সংবাদিক যখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন তখন তাকে এ রকম একটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অবশ্যই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যে কোনো অপেশাদারি আচরণ গোটা দেশ বা সমাজকেই বিপদগ্রস্ত করতে পারে। উৎকৃষ্ট সাংবাদিকতাই ভালো সাংবাদিকের রক্ষাকবচ। এ যুদ্ধে তাই সংবাদকর্মীদের উৎকৃষ্ট সাংবাদিকতাই দেখাতে হবে। বর্তমান ‘বিশ্বযুদ্ধ’ পরিস্থিতি সামনে রেখে কিছু বিশেষ বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর রাখতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞজনরা। এ কথা তো সত্যিই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন আর আর শুধু স্বাস্থ্য বিট নয়। বিষয়টি এখন অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি, খেলা, পর্যটন, বিনোদন এমনকি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। কাজেই এ পরামর্শ কোনো বিশেষ বিটের সাংবাদিকের জন্য নয়, বরং এখন যারা সাংবাদিকতা করছেন, কি রিপোর্টংয়ে, কি সম্পাদনায়- সবার জন্যই প্রযোজ্য।

প্রকৃত পরিস্থিতি জানা : বলা হচ্ছে, একজন যুদ্ধকালীন সাংবাদিককে যেমন যুদ্ধে পূর্বাপর পরিস্থিতি জেনে রিপোর্ট করতে হয় তেমনি এ ক্ষেত্রেও এখন সাংবাদিককে গোটা বিষয়টি মাথায় নিতে হবে। ভাসা ভাসা কথা বা কিছু শোনা শোনা তথ্যই যথেষ্ট হবে না। আসল অবস্থার পুরো চিত্রটিই একজন সাংবাদিকের মাথায় থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ছাড়া ধারণাভিত্তিক বিশ্লেষণ বা মন্তব্য নয় : মনে রাখতে হবে, করোনা বিষয়টি ‘বিশেষ’। কাজেই এ বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ মত ছাড়া কোনো ধারণার ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। এ বিষয়ে ‘তিনি বলেন’-জাতীয় সাংবাদিকতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বিশেষ তথ্য নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করতে হবে বিশেষ বিষয়গুলো নিয়েই। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জনমনের সাধারণ প্রশ্নগুলোর যৌক্তিকভাবে তুলে আনার দায়িত্বটি একজন সাংবাদিকের। বিশেষজ্ঞ অনেক তথ্য নিয়ে বসে আছেন কিন্তু সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়টি বের করে আনার মধ্যেই ভালো সাংবাদিকের মুনশিয়ানা।

শিরোনাম নিয়ে সতর্কতা : বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন শিরোনাম নয়। খুবই সতর্কভাবে মূল বিষয়টি শিরোনামে তুলে আনতে হবে। শুধু সূচনা পড়েই নয়, যিনি শিরোনাম দেবেন তাকে প্রয়োজনে পুরো কপিটিই পড়তে হবে। দায়সারা হওয়ার সুযোগ নেই।

সংখ্যা নিয়ে অতি সতর্কতা : অধিকাংশ ক্ষেত্রে নম্বর বা সংখ্যা সাংবাদিকদের উত্তেজিত করে। এই ফাঁদে কখনোই পা দেওয়া যাবে না। যে কোনো নম্বর বা সংখ্যা যাচাই করতে হবে অতি সতর্কতার সঙ্গে, বারবার। অন্যের চাইতে এগিয়ে থাকা বা ব্রেকিং নিউজ দেওয়ার উত্তেজনার লাগাম টানতে হবে ধৈর্যের সঙ্গে। শুধু খবরের জন্যই খবর না করা, খবরের সামনে পেছনে যে মানুষ, সমাজ বা রাষ্ট্রটি আছে তাও মাথায় রাখা।

অনেকের সঙ্গে কথা বলা : যুদ্ধের সময় ঘটনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গুজব ছড়ায়। সেজন্য তথ্য যাচাইয়ে যেতে হয় অনেকের কাছে। এই অনেকের মধ্যে পদস্থ, অতি গুরুত্বপূর্ণ যেমন থাকতে পারেন; তেমনি মধ্যম, নিম্ন পর্যায়ের বা কম গুরুত্বপূর্ণ অনেকে থাকতে পারেন। সব তথ্য হাতে নিয়ে সাংবাদিকতার যুক্তিভিত্তিক মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। কোনো তথ্যই এড়িয়ে যাওয়া নয়, কাউকেই অবহেলা করা নয়।

কোনো বিশেষ ছাপ দেওয়া নয় : কিছু তথ্য হাতে পেলেই তার ভিত্তিতে কোনো উপসংহারে যাওয়া নয়, কোনো মন্তব্য নয়। বিদেশ বা ইতালি থেকে এলেই তিনি আক্রান্ত এমন বলা যাবে না, এখন মাস্ক পরেননি বলে আক্রান্ত হয়েছেন তাতে এই উপসংহারে পৌঁছা যাবে না যে মাস্ক না পরলেই কেউ আক্রান্ত হন। আক্রান্ত নারী বা বৃদ্ধ বা শিশুর সংখ্যা বেশি হলেই এমন কোনো সহজ সমীকরণে পৌঁছা যাবে না যে বৃদ্ধ, নারী বা শিশুরাই করোনার মূল লক্ষ্য।

প্রচলিত ধারণায় বিশ্বাস নয় : যুক্তিহীন, অবৈজ্ঞানিক ধারণায় বিশ্বাস সাংবাদিকতা নয়। সাংবাদিকতা আধুনিক পেশা, মূর্খদের পেশা নয়। করোনা নিয়ে প্রচলিত কোনো মিথকেই বিশ্বাস করা যাবে না। যতক্ষণ বৈজ্ঞানিক যুক্তিনির্ভর বিশেষজ্ঞ মত পাওয়া না যাবে ততক্ষণ সে বিষয়ে কিছুই লেখা বা বলা সাংবাদিকের কাজ নয়। ‘অনেকে বলেন’ বা ‘অনেকে বিশ্বাস করেন’ এর কোনোটাই সাংবাদিকতার গ্রহণযোগ্য ভাষা নয়।

ছবি ব্যবহারে সতর্কতা : প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে কোনো ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবলম্বন করতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এমনকি মাস্ক পরা ছবি ব্যবহারের বেলায়ও। করোনা আক্রমণের শুরুতে একটি মাস্ক পরা ছবি উহানের ছবি হিসেবে ছেপে তুমুল সমালোচনার মধ্যে পড়েছে একটি নামি ব্রিটিশ সংবাদপত্র। কারণ তাদের হাতে এমন কোনো প্রমাণ ছিল না যে ছবিটি উহানের।

পরিস্থিতি যাই হোক, মাঠেই থাকা : অর্থনীতিতে খুব প্রচলিত কথা- কখনো কখনো সংকট সুযোগ তৈরি করে। সাংবাদিকতার বেলায়ও কথাটি সত্য। করোনা নিয়ে আজকের বিশ্বে যা ঘটছে এমন পরিস্থিতি অন্তত কয়েক প্রজন্ম দেখেনি। কাজেই আজ যে সাংবাদিকরা এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করছেন তাদের সামনে এক বিশাল সুযোগ এসেছে সংকটকালে সাংবাদিকতা করার বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার। পেশাজীবীদের সামনে এমন সুযোগ সব সময় আসে না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কভার করেছেন যে যুদ্ধসাংবাদিকরা তারা আজ কেউ নেই। অনেকে আঞ্চলিক যুদ্ধ কভার করেছেন। করোনা নিয়ে আজকের বিশ্ব সংকট একজন সাংবাদিকের সামনে সেই সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশ্বস্ততার সঙ্গে মাঠে থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে কেউ কেউ হয়ে উঠতে পারেন আগামী দিনের অনুসরণীয় সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ। ভালো সাংবাদিকতার জন্য তা সম্পদ বলেই বিবেচিত হবে।

যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি, যুদ্ধের সময় প্রস্তুতি; যুদ্ধ শেষে প্রস্তুতি : এত যে কথা বলা হলো তার শুরু ও শেষের কথা একটাই- প্রস্তুতি। এ রকম একটা বিশ্ব সংকট মোকাবিলার জন্য একজন সাংবাদিককে অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে সর্বব্যাপী। শুধু নোট, প্যাড, কলম আর ল্যাপটপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াই প্রস্তুতি নয়। এ প্রস্তুতির কথাই বলা হলো এতক্ষণ।

করোনাভাইরাসের এ সংকটে সাংবাদিকদের সংকট আসলে গোটা গণমাধ্যমেরও সংকট। একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিজে প্রস্তুতি না নিলে শুধু সাংবাদিকরা রক্ষা পাবেন না। বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সতর্ক বা প্রস্তুত সে বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি। বিশ্বের বড় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে করোনার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর তারা নিজস্ব উদ্যোগেই কতগুলো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো যেহেতু লকডাউন করা যাবে না সেজন্য আমাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এ বিষয়ে ভাবতেই হবে। উদ্যোগী হতে হবে নিউজরুমকেই। কারণ যে কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নিউজরুমই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

নিউজরুম কী করতে পারে : দৈনন্দিন কাজে অফিসে কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আনতে পারে। মাঠে কাজ করে অফিসে খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন, অনলাইনে কর্মসম্পাদন করতে পারেন এমন কর্মী, অফিসে না এসেও কাজ করতে পারেন যেমন সম্পাদকীয় লেখক, বিভিন্ন পাতার দায়িত্ব পালনকারী লেখক ও সহসম্পাদক, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, বয়স্ক কর্মীদের সাময়িক সময়ের জন্য অফিসে আসা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাড়িতে থেকে কাজ করতে বলা যেতে পারে।

প্রযুক্তির বেশি ব্যবহার, স্টুডিওতে কম অতিথি : টেলিভিশনগুলো টকশোয় অতিথি নিয়ন্ত্রণ করে অতিথিদের বাড়ি বা অফিসে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ করা যেতে পারে। আমেরিকার অনেক টেলিভিশন স্কাইপে ব্যবহার করছে।

সব সময়ই এক রকম নয় : মনে রাখতে হবে, সব সময় এক রকম নয়। এ চিন্তা মাথায় রেখে স্বল্প কর্মী নিয়ে পুরো পরিকল্পনা সাজানো যেতে পারে।

অফিস কি সতর্ক, কতটা : গণমাধ্যম অফিসগুলোয় অতিথি আগমন শূন্যে নামিয়ে আনা জরুরি। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী যারা হাসপাতাল, কোয়ারেন্টাইন জোন কভার করবেন তাদের পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া। অফিসগুলোয় সতর্ক হতে হবে অফিস সহকারী, ড্রাইভার, নিরাপত্তকর্মীসহ সব সাপোর্ট স্টাফের ব্যাপারেও। যে কেউ যে কোনো পর্যায়ে এ ভাইরাস বহন করতে পারেন; কাজেই গাড়ি, সব ধরনের যন্ত্রপাতি এমনকি ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইসটিও যাতে ঝুঁকিপূর্ণ না থাকে সে বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকার বাইরে যে সংবাদকর্মীরা কাজ করেন তারাও যাতে ঝুঁকিমুক্ত থাকেন এজন্য সতর্ক নির্দেশনা পাঠানোও জরুরি।

সাংবাদিকরা তাদের বিশেষ সমাগমস্থলে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ তো বটেই, নিজেদের সদস্যদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার কাজটি করতে পারেন এখনই। বয়স্ক ও অসুস্থদের বাড়িতে থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারেন। সাংবাদিক সংগঠনগুলো সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবন বিমার জন্য মালিকপক্ষ ও সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারেন। এ তো গেল আমাদের সনাতনী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের চিত্র। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম কতটা দায়িত্বশীল, কতটা সতর্ক? অনেকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমগুলো না সামাজিক না গণমাধ্যম। সামাজিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীদের বলা হয়- তারা ফেসবুকার, ব্লগার, উইটিউবার; তারা সাংবাদিক নন। এসব মাধ্যমে দ্রুত যে মতপ্রকাশ করা হয় তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু মতপ্রকাশের নামে যে স্বেচ্ছাচারিতা, গুজব ছড়ানো হয়, তার দায়িত্ব কে নেবে? দেশ-বিদেশের দুর্বৃত্তরা এই অসাধারণ প্রযুক্তির যে লাগামহীন অপপ্রয়োগ করছে, গুজব ছড়াচ্ছে তার দায়িত্ব নিতে হবে সরকার বা রাষ্ট্রকেই। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই স্পষ্টভাবে এ কথা বলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীন, ইউরোপের পর করোনাভাইরাসের পরবর্তী লক্ষ্যস্থল হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। জনবসতির অতিমাত্রার ঘনত্বের কারণে এ অঞ্চলে শুধু চীন, ইউরোপের অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে। কাজেই বিপদ সবার জন্যই, সতর্কতাও প্রয়োজন সবার জন্যই। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]

লেখক : এডিটর ইন চিফ টিভি টুডে।

পূর্বপশ্চিম- এনই

মনজুরুল আহসান বুলবুল,করোনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close