• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

ভাবনাটাই বদলানো দরকার

প্রকাশ:  ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৭ | আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৯
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন হওয়া উচিত

তদবির, লবিং গ্রূপিং, তোষামোদীকে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করা উচিত | এই সার্চ কমিটিতে তিনজন সম্মানিত জাতীয় অধ্যাপক, দুজন প্রথিতযশা প্রাক্তন অধ্যাপক (এমিরেটাস প্রফেসর) ও দুজন ওয়ার্ল্ড রাংকিং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন | ভিসি পদে আবেদনের জন্য একটি নীতিমালা থাকতে হবে | যারা ভিসি হতে আগ্রহী তারা নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করবেন|এই সার্চ কমিটি যাচাই বাছাই করে একটি প্যানেল বা যোগ্য প্রার্থীর নাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠাবে|এর পর যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করা হবে |

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যানো সব ধরণের নিয়োগ একটি স্বাধীন নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে করা যেতে পারে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরণের যোগসূত্র থাকবেনা|বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব ধরণের টেন্ডার একটি স্বতন্ত্র কমিশনের মাধ্যমে হতে পারে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরণের যোগসূত্র থাকবেনা|বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়গণের মূল কাজ হবে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত প্রজেক্ট আনা , দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও শিল্পকারখানার সাথে শিক্ষা ও গবেষণা চুক্তি, কনফারেন্স আয়োজন,জব ফেয়ার, শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, ইউনিভার্সিটি এর কোয়ালিটি মেইনটেইন করে এশিয়ান ও ওয়ার্ল্ড রাংকিং এ আনা, শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রিসার্চ করতে, পেটেণ্ট করতে ও রিসার্চ পেপার লিখতে অনুপ্রাণিত করা সহ অন্যানো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা |

একটু ভিন্নভাবে ভাবি|দেশকে এগিয়ে নেই|শিক্ষা ও গবেষণাকে অনুপ্রাণিত করি|আগামী প্রজন্মের দায়িত্ব আমাদের সকলকে নিতে হবে |

কারণ এখন যেভাবে ভিসি নিয়োগ হচ্ছে তাতে শিক্ষকদের মধ্যে রেষারেষি বাড়ছে, বিভিন্ন স্বার্থানেষী গ্রূপ এর জন্য অবৈধ সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, ভিসি প্রার্থীদের প্রতিযোগিতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অস্থিরতায় ভুগছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে|শিক্ষকদের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবর্তে দলাদলি বাড়ছে যা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে|এখন রাষ্ট্রের স্বার্থেই এই ধরণের ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করা দরকার|

রাজনীতির বিশুদ্ধিকরণ

রাজনীতি এখন ক্ষমতা ও অর্থ কেন্দ্রিক|সুবিধাবাদী মানুষরা ক্ষমতা ও অর্থের লোভে রাজনৈতিক দলের মুখোশ পড়ে|রাজনীতির মুখোশ পড়ে ও নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে | দিন বদল হলে তারা আবার মুখোশ খুলে নতুন মুখোশ পড়ে।রাজনীতির নাম পাল্টে যায় কিন্তু ক্ষমতা, টাকা আর অপকর্ম থেকে যায়|এখন প্রয়োজন রাজনীতির শুদ্ধি অভিযান | আগাছাদের তুলে ফেলে ত্যাগী ও আদর্শের রাজনীতির প্রত্যাবর্তন|রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই, রাজনীতি এখন চলে গেছে সুবিধাবাদী ও ব্যবসায়ীদের হাতে | অনেকেই আবেগে রাজনীতি বন্ধের কথা বলছেন।রাজনীতি বন্ধ করা মানে স্বৈরাচারকে আমন্ত্রণ জানানো|মাথা কেটে যেমন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় তেমনি রাজনীতি বন্ধ করে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়|সব কালোকে কালো, সব সাদাকে সাদা বলতে আমরা শিখি | ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ বলি|সেটা যাতে রক্ষণশীল না হয়ে সার্বজনীন হয় সেটাও আমাদের বিবেচনা করতে হবে |

নতুন ভাবনা

আমাদের রাজনীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব জায়গাতে আবার নতুন করে ভাবতে হবে | ভাবতে অবাক লাগছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সবাইকে এখন কেনা যায় | মানুষ ধীরে ধীরে অবৈধ টাকার ক্রীতদাসে পরিণত হতে চলেছে|মানুষের মধ্যে আত্মত্যাগ নেই, সততা নেই, মানবিক মূল্যবোধ নেই | সব এখন টাকার অংকে চলে | প্রেম, ভালোবাসা, উদারতা সবকিছু আজ টাকার হাতে বন্দি | যার যত টাকা তার ততো মূল্যায়ন|যার নিঃস্বার্থ অবদান আছে, একটা নিরেট সাদামন আছে সে এখন মূল্যহীন | যার টাকা আছে তার পিছনে বিবেকহীন মানুষের মিছিল আর যার মানবিক মূল্যবোধ আর মেধা আছে সে নির্বাসিত, পরিত্যক্ত | টাকার অংকে মানুষের সিদ্ধান্ত উঠানামা করে শেয়ার দরের মতো | ত্যাগী কর্মী আর মানুষের আত্মত্যাগ পরাজিত হয় নাম পরিচয় দর্শনহীন অমানবিক দানবের টাকার কাছে | এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দানবদের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে | মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার এই অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনি একা নন সারাদেশের মানুষ আপনার সাথে ছিল, আছে ও থাকবে | অশুভশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে এ জন্য আমাদের সতর্ক চোখ সারাক্ষন খোলা রয়েছে|একটি কথা সবার জানা উচিত তা হলো অপরাধীদের কোন দল, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, দেশ, আপনজন নেই|নিজের স্বার্থেই এরা মুখোশ পাল্টায়| অপরাধই এদের মূল কাজ |

হয়তো যা ভাবছি তা নয়!

আমরা এমন এক সংস্কৃতিতে বাস করছি যেখানে ফেসবুক লাইক আর কমেন্টটাও হয়ে গেছে ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা অপছন্দের উপর|এটা একটা মানসিক ব্যাধি বলতে আমার দ্বিধা নেই | হয়তো এটাকে সেলফ বায়াসড সাইকোলজিক্যাল ডিসর্ডার বলা যেতে পারে|যাকে আমার পছন্দ কিংবা আমার গোত্রের লোক তার শত দৃশ্যমান খারাপ কাজে আমরা কমেন্টস লিখে বৈধতা দিচ্ছি, অকুন্ঠ সমর্থন জানাচ্ছি কিংবা একটা নামজাদা হোটেলে গিয়ে বার্গার কিংবা হট ডগস হাতে নিয়ে আমার খুব প্রিয় একজন লোক সেলফি তুলছে সেখানে শত শত লোক লাইক ও কমেন্টস দিয়ে তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে | এতে কি হচ্ছে|যে লোকটা অকাজে এতো শত শত হাজার হাজার কমেন্টস আর লাইক পাচ্ছে সে আরো বড় কিছু দেখানোর জন্য ক্রমান্বয়ে লোভী হয়ে উঠছে|এরপর দেখা যাচ্ছে সে আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করে গাড়ি কিংবা বাড়ি কিনে সেটার সামনে দাঁড়িয়ে ভি সূচক চিহ্ন দেখিয়ে সেলফি তুলছে|এর পর অভিনন্দন আর লাইকের হিড়িক পরে যাচ্ছে|লোকটা আরো লোভী হয়ে একসময় ব্যাক্তিত্ব ও শুভবোধ হারাচ্ছে সেটা নিয়ে আমাদের খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই|আমরা খুব আবেগী আর সে যদি আমার পক্ষের আর স্বার্থের লোক হয় তবে তো আর কথায় নেই|বিপরীত কি ঘটছে তাও একটু ভেবে দেখা দরকার যে মানুষটাকে আমি কিংবা আমার সমগোত্রীয়রা অপছন্দ করে সে যদি কোনো অবদান রাখে কিংবা ভালো কাজ করে সেটা তো লাইক কিংবা কমেন্টস দিয়ে অনুপ্রাণিত করছিনা বরং সমালোচনার খাতিরে এ নিয়ে তোলপাড় করে এটাকে কিভাবে রসালো আলাপে পরিণত করা যায় সেটা নিয়ে গবেষণা করতেই ব্যস্ত|কিছুই বলার নেই|আমাদের ভাবনা ও চিন্তাশক্তি লোপ পেয়েছে|আমরা ধীরে ধীরে সম্প্রীতি ভুলে এক একটা সিন্ডিকেট হয়ে যাচ্ছি।মানসিক ও মানবিক শক্তি ও মনুষত্ব হারিয়ে ফেলছি |

ক্ষমা করবেন কারণ ফেসবুকে লাইক ও কমেন্টস দেওয়ার অধিকার আপনার হাতে সংরক্ষিত|সেটা নিয়ে আপনি আপনার বিবেক থেকে কিংবা আমি আমার বিবেক থেকে ভাববো|

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।

লেখক,অধ্যাপক,ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত