• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

সায়ীদ স্যার বুড়ো বয়সে শাড়ির আড়ালে যৌনতা নিয়ে লেখা শুরু করলেন কেন?

প্রকাশ:  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০১ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫৯
আনিসুর রহমান

সম্প্রতি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার প্রথম আলোতে প্রকাশিত তার 'শাড়ি' নিয়ে একটি লেখায় তিনি শাড়িকে "পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী অথচ শালীন পোশাক" বলে মন্তব্য করেছেন। উনার লেখা পড়ে সবার একটাই প্রশ্ন- উনি আলোকিত মানুষ, আলোকিত কথা বলেন, এই বুড়ো বয়সে এসে শাড়ির আড়ালে যৌনতা নিয়ে কেন লেখালেখি শুরু করলেন। উনার তো এক পা্ কবরে চলে গেছে। চুল-দাড়ি সাদা হয়ে গেছে। উনার মতলব কী?

আমি তো মনে করি যৌনতা নিয়ে লেখার অনেক লোক আছে। উনি যদি এসব নিয়ে লেখেন তাহলে তসলিমা নাসরিনরা কী করবেন? তিনি কি তাদের ভাত মারতে চাচ্ছেন? উনার মতো একজন আলোকিত মানুষের কাছে জাতি আরো দায়িত্বশীল লেখা আশা করে। আমি নিশ্চিত, সারা জীবন সুন্দর সুন্দর কথা বলে যেসব ভক্ত তিনি তৈরি করেছিলেন এক শাড়ির কারণে তিনি সব ভক্ত হারিয়েছেন। স্যারকে নিয়ে আমার আফসোস হয়, উনার যেসব ভক্ত উনাকে নিয়ে উঁচু ধারণা পোষণ করতেন, তারাই এখন মন্তব্য করছেন, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’- এসব মন্তব্য স্যারকে নিয়ে কানে আসুক তা চাইনি।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার শাড়ি নিয়ে লিখতে গিয়ে নারীদেহের অনেক রগরগে বর্ণনা দিয়েছেন। সেটা নিয়ে বিতর্কের যে ঝড় বইছে, তা এখনো থামেনি। এই ঝড় শুধু এই একটি শব্দের কারণে- তা নয়। তিনি শাড়ির পাশাপাশি নারীর দেহ নিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন, ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির চেয়ে খাটো মেয়েরা শাড়ি পরে তাদের দুর্বলতা ঢাকেন - এসব কথা খুবই অরুচিকর এবং বিরক্তিকর। এতকিছু না বললেও পারতেন। এখন তিনি তার লেখায় স্পষ্ট করেননি যে আসলে শাড়ি পরিহিতা নারী কে? কারণ শাড়ি পরেন মা-মেয়ে. খালা-মামি, নানি-দাদি সবাই। সবাই নারী! এখন এই শাড়ি পরে কে কার কাছে আবেদনময়ী হয়ে উঠলো- তা তিনি একটিবারও স্পষ্ট করেননি। ফলে উনার এই লেখায় বেশিরভাগ মানুষ আহত হয়েছেন। সেদিন কলেজের এক ম্যাডাম আমাকে জানালেন, সায়ীদ স্যারের এই লেখা পরে শাড়ির প্রতি উনার রুচি উঠে গেছে। তিনি স্যারের এসব লেখা কোনোভাবে মানতে পারলেন না। সায়ীদ স্যারের ওই লেখা নিয়ে ফেসবুকে এখনো প্রতিবাদ চলছে।

আমি মনে করি, শাড়ি যখন মা পরেন তখন একরকম, মেয়ে পরলে আরেক রকম, বিয়ের কনে পরলে একরকম, আবার কনে যখন শাড়ি পরে বউ সাজে তখন আরেক রকম, আবার কোনো বিধবা যখন সাদা শাড়ি পরেন তা আরেকরকম। অর্থাৎ শাড়িতে আছে নানা বৈচিত্র্য। ব্যক্তিভেদে তার সৌন্দর্য রূপ একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে আবেদন জাগিয়ে তোলার জন্য শাড়ির চেয়ে উপযুক্ত কোনো পোশাক বাঙালিদের কাছে নাই- এটাও সত্য। বাস্তবতা তা-ই বলে। আমরা দেখছি আবহমান কাল ধরে বাঙালিরা কনেকে শাড়ি দিয়ে বউ সাজিয়েই বাসর ঘরে পাঠায়। শাড়ি কেন? সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, জিন্স পেন্ট বা অন্য কোনো পোশাক নয় কেন? আপনি সায়ীদ স্যারের লেখাটি যদি নিজ স্ত্রীর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন, তাহলে দেখবেন সব ঠিক আছে। গালাগালিও থেমে যাবে। কিন্তু সায়ীদ স্যার তার লেখায় ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করে সবার মনে আঘাত দিয়েছেন। এর কারণ আগেই উল্লেখ করেছি, মা-মেয়ে-খালা-ফুফু সবাই নারী। এছাড়া নারীর উচ্চতা নিয়ে উনি যা লিখেছেন তা একান্তই উনার নিজস্ব মতামত।স্যারের এসব ভাবনার সাথে কজন লোক সহমত পোষণ করে তা আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। এসব কথা আমার কাছে একেবারেই অদ্ভুত মনে হলো।

কারণ একটি মেয়েকে সুন্দর হওয়ার জন্য তাকে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির বেশি লম্বা হতেই হবে, ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি হলে তিনি বেমানান, তাকে শাড়িতে সুন্দর লাগে না। এসব কথা বাহুল্য বলেই মনে করি আমি।

আমার বন্ধু লুৎফর রহমান ফরহাদ মন্তব্য করেছেন, শাড়িতে সায়ীদ স্যার এতো যৌনাবেদন খুঁজে বেড়ান, তাহলে তিনি কি বিধবার সাদা শাড়িকেও আবেদনময়ী মনে করেন ? একজন বিধবা তো আবেদন যেন না জাগে সেজন্যই সাদা শাড়ি পরেন।

লেখক: যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি নিউজ

পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত