Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

‘শিক্ষকদের গ্রেফতারের পর দেখলাম, বড় নেতারা ভয়ে কেঁচো হয়ে গেছে’

প্রকাশ:  ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:৪৩
অধ্যাপক নাজমা শাহীন
প্রিন্ট icon
ফাইল ছবি

গত বছর ২৩ আগস্ট কালো দিবস নিয়ে কোনো পোস্ট দেই নাই। কারণ একই কথা বার বার বলতে ভালো লাগে না! তাছাড়া জাতির প্রয়োজনে প্রাণের তাগিদে যা কিছু করেছি তা বলা উচিত নয়। ২০১৬-তে আমার সহকর্মী অধ্যাপক আবু তোরাবের স্ট্যাটাস শেয়ার করতে যেয়ে লিখেছিলাম কিছু স্মৃতি, যা অনেকটা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি মনে করিয়ে দেয়-

‘‘সুদূর নর্থ আমেরিকাতে থেকে আমার বন্ধু অধ্যাপক তোরাবের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে মনে হলো ২৩ আগস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো দিবস। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের গ্রেফতারের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেতপুরীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। সকালে অধ্যাপক আবুল বারকাত, অধ্যাপক সামাদ, অধ্যাপক রাব্বানী, অধ্যাপক সাইফুলসহ আমরা গুটি কয়েক শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ হায়দারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের সহকর্মীদের কোথায় নিয়ে গেছে, তা খোঁজ নেবার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু খুব একটা সাড়া পাই নাই। তারপর ক্লাব ভবনে শিক্ষক সমিতির অফিসে পরবর্তী করণীয় আলোচনার জন্য আমরা বসি। কোনো সিনিয়র শিক্ষকদের আমরা পাইনি। তখন অধ্যাপক সামাদ খবর পেলেন আমাদের সহকর্মীদের কোথায় নিয়ে গেছে।

সন্ধ্যায় আমার বন্ধু ও সহকর্মী তোরাবসহ অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন এবং অধ্যাপক হারুনর রশিদের বাসায় পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলাম। অসহায় পরিবারের সদস্যদের কথা দিয়ে আসলাম কিছু একটা করব। বাসায় এসে অধ্যাপক সামাদকে ফোন করে স্টেটমেন্ট দেয়ার প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু উনি বললেন, এখন কে শিক্ষকদের সই সংগ্রহ করবে। সবাই তো ভীত অবস্থায় আছে। কাকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করে। আমি বললাম, স্টেটমেন্ট রেডি করেন আমি সই সংগ্রহ করব, যেহেতু তখন এখনকার মতো বাংলা টাইপ করার সফটওয়্যার ছিল না।

অধ্যাপক সাইফুল তার ছাত্রের হাতে স্টেটমেন্ট পাঠালো এবং সন্ধ্যায় ক্লাবে গেলাম। কিন্তু কেউ সই দিতে সাহস পায় না। অনেকেকই অনুরোধ করলাম, বোঝাতে চেষ্টা করলাম আমাদের কিছু একটা করতে হবে। এটা শিক্ষক কমুনিটির অস্তিত্বের লড়াই। ক্লাবের বারান্দাতে প্রথম টেবিলে বসেছিলেন অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক শরীফুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক কায়সার হামিদ ও অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। যখন এ চারজনকে অনুরোধ করলাম তখন অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম আমাকে শর্ত দিলেন ২০০ এর কম হলে যেন পত্রিকাতে না দেই। আমি তৎক্ষণাৎ সেই শর্তে রাজি হই এবং প্রথম স্বাক্ষরটি ছিল অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের। এই শুরু হলো প্রেতপুরীতে শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহের সংগ্রাম।

কত বড় বড় নেতাদের দেখলাম ভয়ে কেঁচো হয়ে যেতে। আমি একজন মহিলা শিক্ষক যখন সাথে তিন থেকে চারজন তরুণ শিক্ষক সাথে নিয়ে কলাভবন, কার্জন হল আর বাড়ি বাড়ি ঘুরে ২০০ সই সংগ্রহের আপ্রাণ চেষ্টা করছি, তখন আজকে সরকারের সুবিধাভোগী অনেকেই আমাদের এড়িয়ে গেছে, ফিরিয়ে দিয়েছে...। তাই তোরাবের স্ট্যাটাস দেখে সেই সহকর্মীদের কথা মনে পড়ে গেল। আজ হয়তো তারা অনেক সাহসী বাণী দিয়ে বেড়াচ্ছেন...।”

লেখক: অধ্যাপক, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

অধ্যাপক নাজমা শাহীন,পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত