Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

সড়কে নিভে যায় কত প্রাণ, কত হাসি কত গান! 

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩১ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৩
আনিসুর রহমান
প্রিন্ট icon

সড়কে কেন এত দুর্ঘটনা? কেন বাড়ছে লাশের মিছিল? কেন এত অসতর্কতা? কেন এত তাড়া? চলতি মাসে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথে এবারের ঈদে মোট ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছে।

মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ৬৭টি মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষের কারণে। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। অর্ধেকের বেশি পথচারী গাড়িচাপার শিকার হয়েছে। পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৫২ দশমিক ২১ শতাংশ। আগামী ঈদে মোটরসাইকেল ও পথচারী গাড়িচাপার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনার ৮৫ শতাংশ কমে আসবে বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে।

এখন কথা হলো, একটু সতর্ক হয়ে গাড়ি চালালে এসব দুর্ঘটনা কি এড়ানো যেত না? মানুষের কাছে কি জীবনের মূল্য একেবারেই নেই? তাহলে কে এই খামখেয়ালি? সম্প্রতি যেসব সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে এর মাঝে একটি দুর্ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটু বেশি ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি মানুষের হৃদয়কে একটু বেশিই স্পর্শ করেছে। সেটি হলো সিলেট থেকে প্রাইভেটকারে চেপে ফেরার পথে তিন বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের মৃত্যুর খবর। এর মাঝে সাদিয়া-ইমরান দম্পতির মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে একটু বেশি নাড়া দিয়েছে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তোলা সেলফিতে দেখা গেছে ইমরান-সাদিয়ার হাতে এখনো মেহেদির রং লেগে আছে। পেছনের তিন বন্ধুর দু’জনই তাঁদের সঙ্গে নিহত হন।

মাত্র ১০ দিন আগে বিয়ে হয়েছে সাদিয়া আক্তার ও ইমরান হোসেনের। সিলেটে মধুচন্দ্রিমা শেষে ঢাকায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে নরসিংদীর শিবপুরে বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এই নবদম্পতির। একই দুর্ঘটনায় সাদিয়ার দুই সহপাঠী জান্নাত ও আকিব হোসেন নিহত এবং সহপাঠী সজলসহ চারজন আহত হয়েছে। সাদিয়া, জান্নাত, আকিব ও সজল রাজধানীর বেসরকারি মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর শিক্ষার্থী। প্রাইভেট কারটিতে পাঁচজন ছিলেন।

এদিকে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ফকির মজনু শাহ সেতুর পাশে ঈদের পরের দিন মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নামে এক প্রবাসীর মারা গেছেন। ঈদের আগেরদিন আনিস নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। কারণ শুধু অসতর্কতা, খামখেয়ালি।

জানা গেছে, আনিস ১২ বছর ধরে ইতালি প্রবাসী, দেশে ফিরেই তিনি লাশ হলেন। আর ঈদের পরের দিন প্রবাসী রফিকুল ইসলামের যে মৃত্যু- তার তার কোনো অনিয়ম ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তার বিপরীত দিক থেকে আসা যুবক বাইক নিয়ে পূর্ণ গতির মোটর সাইকেল নিয়ে শাপ খেলতে খেলতে যাচ্ছিলেন, এসময় তিনি লাগিয়ে দিলেন রফিকুলের মোটর সাইকেলে। এতে রফিকুল মারা গেলেও বেঁচে গেলেন রিফাত ও শামীম। তারা দু’জন এখন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

এখন কথা হলো, আমাদের চারপাশে এমন যত দুর্ঘটনা ঘটছে এর কারণ খতিয়ে দেখলে দেখায় যায়, একটু অসতর্কতা ও অনিয়মই দায়ী। আমাদের কাছে কি জীবনের চেয়ে সময়ের দাম বেশি? রাস্তার মানুষকে বিনোদন দিতে গিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে কী হবে, এতে যদি আরেকজনের প্রাণ চলে যায়!!

প্রতিটি সড়কে মোটর সাইকেলসহ সকল যান চলাচল নিয়মের মধ্যে আনতে পারলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে বলি আমার বিশ্বাস। এজন্য দরকার একটু সচেতনাতা বাড়ানো, নিয়ম মানতে বাধ্য করা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত