Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

একজন মন্ত্রী শিক্ষককে পা ধরে সালাম করেছে এটাই ইতিহাস হবে

প্রকাশ:  ১০ আগস্ট ২০১৯, ২১:১২
মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
প্রিন্ট icon

স্কুল একটি ফ্যাক্টর। আমাদের মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্ররা ভদ্র, বিনয়ী, শিক্ষক ও মুরুব্বী অন্তঃপ্রাণ এবং বন্ধুবৎসল হয়। মন্ত্রী খুব ভালো বাবা-মায়ের সন্তান। স্কুলের প্রোগ্রামে আসলেও উনার সময়ের স্যারদের উনি কদমবুচি করেন। উনি বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও মন্ত্রীর ভাব নেন না। উনার পলিটিক্স ভিন্ন আলোচনা। সত্যি উনার সাথে আমার পরিচয় নেই। শিক্ষকের ছাত্র হিসেবে উনি সদা বিনয়ী। এখানে উনার কোনো রাজনীতি নেই। সমাজ এখান থেকে শিখতে পারে।

আমাদের স্কুলের শিক্ষকদের ব্যক্তিত্বও সেরূপ ছিল। বর্তমানে ভার্সিটির শিক্ষকদেরও সেই ব্যক্তিত্ব নেই। জ্ঞানেও তাই। আমাদের এক হেডস্যার জনাব ওসমান গণি এরশাদের আমলে এক মন্ত্রীকে ছাত্র ভর্তির ব্যাপারে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি করতে চাইলে আপনি আমার চেয়ারে এসে বসুন।’

আগে মন্ত্রীরা শিক্ষকদের কাছে যেতেন। এখন শিক্ষকরা মন্ত্রীর কাছে যান। বিশেষ করে ভার্সিটির শিক্ষকরা। খুব তুচ্ছ বৈষয়িক স্বার্থে ধর্ণা দিতে। এখানে মন্ত্রী জানেন-উনার শিক্ষকরা কতটা ডিজার্ভ করেন। মন্ত্রী ভালো না খারাপ, সফল না ব্যর্থ-এটা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে না। একজন ছাত্র মন্ত্রী হয়ে শিক্ষককে পা ধরে সালাম করেছে এটাই ইতিহাস হবে।

মুসলিম হাইয়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছাত্ররা এটা শুনে শুনে বড় হবে। কাজেই মন্ত্রী বেশি ভাগ্যবান না শিক্ষক বেশি ভাগ্যবান-এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। এক্ষেত্রে মন্ত্রী হয়তো বেশি ভাগ্যবান। কারণ উনার বিনয় হয়তো দীর্ঘদিন মানুষকে মুগ্ধ করে রাখবে। যেটা মানুষ হিসেবে উনাকে আরো উপরে নিয়ে যাবে। কিন্তু যে পবিত্র ব্যক্তিত্ব এতদিন পরেও মন্ত্রীকে তাঁর সান্নিধ্যে যেতে বাধ্য করল তা হয়তো এতটা আলোচিত হবে না। এটা মানুষের দোষ বলা যায় না। ক্ষমতা আর ক্ষমতাবান যতটা মোহময় আধ্যাত্মিকতা আর বিদ্যা ততটা নয়। এই দ্বন্দ্ব চিরায়ত।

বিঃ দ্রঃ লেখার গতিময়তার স্বার্থে মন্ত্রীর পর মহোদয় লিখিনি। নানামুখি আলোচনার কারণে নৈতিকবোধে তাড়িত হয়েই কয়টি কথা বললাম।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান: অতিরিক্ত জেলা জজ

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত