Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

মিন্নির পাশে কেউ নেই! পুলিশ সুপারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশ:  ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:৪৯ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০১:৫৪
পীর হাবিবুর রহমান
প্রিন্ট icon

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে মধ্যযুগীয় কায়দায় রিফাত শরীফকে দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। ‘০০৭’ নামের এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কারা কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, গোটা দেশ ভিডিও ফুটেজেরে মাধ্যমে দেখেছে। গা শিউরে উঠেছে মানুষের। কলজে কেঁপে উঠেছে বরগুনা কলেজের সামনে জনবহুল এলাকায় এমন বর্বর হত্যাকান্ডে র ভয়াবহতা দেখে। খুনিদের হাতে নিহত রিফাতের নববিবাহিতা স্ত্রী মিন্নি স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। আর কেউ রিফাতকে খুনিদের রক্তাক্ত উল্লাসমুখর রাজপথে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পথচারীরা নীরব দর্শক ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খবরই রাখেনি শহরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দানবের মতো নয়ন বন্ড বাহিনী কীভাবে সব অপকর্ম থেকে মানুষ খুনের উন্মত্ততায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা এ ধরনের খুনিদের বেপরোয়া হতে শক্তি ও সাহস জোগায়। বরগুনায় তা-ই ঘটেছে। গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছে। শুরুতেই খুনি চক্রের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীরা আসল ঘটনা আড়াল করতে প্রথমে মিন্নির সঙ্গে খুনি নয়ন বন্ডের প্রেমের গল্প সামনে নিয়ে আসে। জাল কাবিন ছড়িয়ে দেয় পোষ্য অনলাইনের মাধ্যমে। তারপর খুনের সহযোগিতায় তাকে জড়িয়ে চালানো হয় নানা প্রচার। গোটা দেশ যখন এই রোমহর্ষক হত্যাকান্ডে প্রবল ঝাঁকুনি খেয়েছে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা তাদের পোষ্য খুনি চক্রকে রক্ষার তৎপরতা থামায়নি। রিফাত হত্যার প্রধান আসামি ও চিহ্নিত খুনি নয়ন বন্ডকে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারাতে হয়। দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি করে নিহত রিফাতের বাবা যে মামলা করেছিলেন সেখান থেকে ছয় আসামিসহ ১৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এদের ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। রিফাত ফরাজীসহ তিন আসামি এখনো রিমান্ডে রয়েছেন। মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি এখনো গ্রেফতার হননি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গোটা দেশ যখন খুনিদের কঠোর শাস্তি ও তাদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশায় আকুল ঠিক এমনি সময়ে নাটকীয়ভাবে নিহত রিফাতের পিতা সংবাদ সম্মেলন করে তার পুত্রবধূ মিন্নি যিনি মামলার এক নম্বর সাক্ষী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোড়েন এবং খুনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে গ্রেফতার দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিন্নি তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেছেন, যারা বরগুনায় ‘বন্ড ০০৭’ নামে সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টি করেছিলেন তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থবিত্তশালী। নেপথ্যের এই ক্ষমতাবানরা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকার জন্য হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার শ্বশুরের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। এর আগে নয়ন বন্ডের মা হঠাৎ করে মুখ খুলে বলেন, মিন্নির ব্যবহারের অনেক কিছু তার ঘরে রয়েছে এবং দুটি ঘটনা উল্লেখ করে মিন্নিকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। সবচেয়ে রহস্যের জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠে এসেছিল, ‘০০৭’ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছিল তার পৃষ্ঠপোষক স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল। রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে বরগুনার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মিন্নির গ্রেফতারের দাবিতে যে মানববন্ধন হয় সেখানে স্থানীয় সরকারি দলের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথ বক্তব্য দেন। সেখানে তারা রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগই আনেননি, গ্রেফতারেরও দাবি জানান। এই আয়োজনের পর নিহত রিফাত শরীফের অকালবিধবা স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইনসে নিয়ে টানা ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ লাইনসে যখন নেওয়া হয়, তখন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সঙ্গে ছিলেন। রাত ৯টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মারুফ হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, দিনব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকান্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। মিন্নির পরিবার বলেছে, মামলা ভিন্ন খাতে নিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, রিফাত হত্যা মামলার আরেক আসামিকে শনাক্ত করার কথা বলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিন্নিকে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও সঙ্গে যান। কিন্তু তাকে একটি কক্ষে ১২ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মিন্নিকে ভিতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক নির্যাতন করা হয়। পুলিশ প্রভাবশালীদের বাঁচাতেই তার মেয়েকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেন। মিন্নিকে নিয়ে আলোচনা ও গ্রেফতারের পর এখন গোটা দেশের দৃষ্টি মিন্নির দিকে। খুনিরা এখন দেশবাসীর চোখের সামনে নন। রিফাত ফরাজীসহ যে তিনজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তারাও মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি। অন্য আটক আসামিরাও নন। এমনকি হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে নিহত রিফাতের পিতা সংবাদ সম্মেলনের আগেও কখনো মিন্নির বিরুদ্ধে সন্দেহের তীর ছোড়েননি। বরং তিনি মামলা দায়ের করতে গিয়ে তার পুত্রবধূকে এক নম্বর সাক্ষী করেছিলেন। গোটা বিষয়টাই এখন রহস্যময় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল দৃশ্যমান হতে না হতেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে। মানুষের মনে ‘ডাল মে কুচ কালা হায়’ সন্দেহ তীব্র হচ্ছে। এ সন্দেহের ঊর্ধ্বে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনও নন। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাও নন। যে খুনের ঘটনা ভিডিও ফুটেজে গোটা দেশ দেখেছে সেখানে খুনিদের রক্ষা, তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আড়াল ও সহযোগীদের যেন রক্ষা করার নাটক দেখতে না হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আজকে দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়। বিশ্বাস ও ভরসার স্থল। বরগুনায় কী ঘটছে প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার তীক্ষè নজর রাখার এখনই সময়। মানুষ চায় খুনি ও তাদের সহযোগীদের প্রাপ্য শাস্তি। চায় ন্যায়বিচার। আইন তার নিজ গতিতে চলবে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইচ্ছায় নয়। স্থানীয় পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হয়ে কাজ করবে না। এই গ্যারান্টি সরকারের কাছে এখন সবার চাওয়া। অসহায় মিন্নির পাশে যেন কেউ নেই। খুনিদের পাশে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল। এটা আমাদের রাজনৈতিক দীনতার করুণ চিত্র।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি,রিফাত শরীফ,পীর হাবিবুর রহমান
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত