Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||
শিরোনাম

বন্ধুর পথে বন্ধু হয়ে

প্রকাশ:  ২৯ মে ২০১৯, ২১:২০
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
প্রিন্ট icon

লাঙলের ফলা জুড়ে, ধরণীর বুক চিড়ে, সোনার ফসল ফলায় যারা, তারা যখন নিদারুণ সংকটে ছাত্রলীগ তখন তার সকল সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সকল নেতাকর্মী কৃষকের বন্ধুর পথে বন্ধু হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনে করে, কৃষকের অধিকার রক্ষিত হলে বাংলাদেশের অধিকার রক্ষিত হয়। কৃষকের অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কৃষকের সুখে দুখে আন্দোলন- সংগ্রামে যোগ্য সহযোদ্ধা।

অতিসম্প্রতি, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার যে অভিযোগ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা মারফতে আমরা জেনেছি তার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পিছনে বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ মজুরের মজুরি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। কিছু কিছু অঞ্চলে একজন ধান কাটা মজুরের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের লভ্যাংশ কমে আসছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ বিপদগ্রস্ত কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার জন্যে সকল স্তরের নেতাকর্মীকে নির্দেশ প্রদান করে।

নির্দেশনা জারি করে অপরাপর ছাত্রসংগঠনের ন্যায় এসি রুমে সভা সেমিনারে কৃষকদের জন্যে মেকি ভালোবাসা দেখায়নি ছাত্রলীগ। সত্যিকার অর্থে দ্বায়বদ্ধতা অনুভব করেছে বলেই সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদসহ সকল স্তরের নেতাকর্মী সারাদেশে কৃষকের চাহিদামত ধান কেটে দেয়ায় সহযোগিতা করেছে। কৃষক পরিবারের সন্তান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্যে ধান কাটা, মাড়াই করা নতুন নয়। তাই ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ধান কাটার কাজে অংশগ্রহণকে এদেশের সাধারণ মানুষ সাধারণভাবেই নিয়েছে। অজস্র মানুষের চোখে ইতিবাচক ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

২০০৯ সালে দেশরত্ন শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশের নিকষকালো আধার কেটে গেছে, সম্ভাবনার নবসূর্য উদিত হয়েছে। এই বাংলাদেশের যে মাঠে এখন সোনার ফসল ফলে, সেই মাঠ এক সময় কৃষকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সার, বীজ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। কৃষক সময়মতো সার পেতো না, বীজ পেতো না, বিদ্যুতের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারতো না। সেই দুঃস্বপ্নের বর্গী শাসন পেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী পরিকল্পনা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার,বীজ,বিদ্যুৎ পাচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মূলত কৃষি খাতে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফসল।

'সেদিন আসবে কবে, গর্ব করে যবে, বলবে আমি কৃষকের সন্তান।' কবির প্রশ্নের উত্তরে আমরা গর্ব করে বলতে চাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষক পরিবারের সন্তান 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ' বিভিন্ন সময়ে বিশেষ কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অহেতুক সমালোচনার শিকার হয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা তাদের ব্যাঙ্গাত্মক সমালোচনাকেও হাসি মুখে মাথা পেতে নিয়েছি। কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার পরে তাদের মুখের হাসিই আমাদের প্রাপ্তি। আমরা মানুষের এই হাসিমুখের সন্ধানে পথ চলি। আমাদের এই পথ চলাতেই আনন্দ।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত