Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
  • ||

উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৯, ১৫:১৬
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
প্রিন্ট icon

রাষ্ট্র গঠনে একটি প্রধান উপাদান হচ্ছে রাষ্ট্রের জনগণ। রাষ্ট্রের জনগণের কর্মধারা, তাদেরচিন্তার বিকাশ ও প্রকৃতির উপর রাষ্ট্রের উন্নয়নের গতিধারা নির্ভর করে। আবার বয়সের তারতম্যের কারণে এই চিন্তার বিকাশ বহুমুখী নাকি একমুখী হবে সেটাও বিবেচনার বিষয়। স্বভাবতই মানুষের নানা দৃষ্টি ভঙ্গির কারণে তাদের ভাবনার বিষয়টি বহুমুখী হবার কথা। যেমন ভারতবর্ষ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গান্ধীজি অহিংস নীতিকে প্রধান কৌশলগত বিষয় হিসেবে বিবেচনায় এনেছিলেন। অন্যদিকে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু অহিংস ও উদারতাকে স্বাধীনতা অর্জনের উৎস হিসেবে বিবেচনায় আনেননি বরং বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত বর্ষের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। একারণে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সুভাষ চন্দ্র বসু গান্ধীজীর অহিংসনীতির বিরোধিতা করে ইংরেজ সরকারকে ৬ মাসের মধ্যে স্বাধীনতা প্রদানের জন্য একটি চরমপত্র পাঠানোর প্রস্তাব করেন। এখানে মত ও পথের বহুমুখিতা ও ভিন্নতা থাকলেও উদ্দেশ্য গত দিকটি একই ছিল। আবার বয়সের বিষয়টি এখানে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সুভাষ চন্দ্র বসু গান্ধীজীর চেয়ে প্রায় আটাশ বছরের ছোট ছিলেন। দুটি মানুষ দুটি ভিন্ন সত্তা। আবার তারুণ্যের সাথে প্রবীনের চিন্তা ধারার তারতম্য। এটা মুখ্য বিষয় কিনা তার মনস্তাত্বিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ ও গবেষণা দরকার।

তবে প্রশ্ন হতে পারে তারুণ্যের চিন্তা ধারা বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় কিনা অথবা সেই পরিবর্তনের তার আগের ভাবনাকে প্রভাবিত করে কিনা। মনস্তত্তবিদরা বলছে সাধারণভাবে তরুণদের মধ্যে আবেগ বেশি থাকে বলে উদারতা বেশি থাকে। আর প্রবীণদের মধ্যে রক্ষনশীলতার বিষয়টি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে। এটার প্রধান কারণ হিসেবে ব্যক্তিত্বের বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিরানব্বইটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বলা হয়েছে যারা এখন প্রবীণ, তারা যখন তারুণ্যের মধ্যে ছিল তখন তাদের মধ্যে উদারতা কাজ করেছে। এই গবেষণাগুলোতে বলা হচ্ছে মানুষের যখন বয়স বাড়তে থাকে তখন তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতুহল কমতে থাকে। তবে তারুণ্যে একধরণের প্রথা বিরোধী মনোভাব তৈরী হয়। এটা ইতিবাচক হলে তা রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত ও উন্নত করে আর নেতিবাচক হলে রাষ্ট্রের সুরক্ষা ও অগ্রসরমানতা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। যখনতারুণ্য সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা, এবং সামগ্রিকতাবাদ, অবিচার ও কুসংস্কারের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিকারের উৎস হিসেবে কাজ করে তখন তা রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আর এটি করা গেলে রাষ্ট্রগঠনে তরুণদের ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এখানে একটি বিষয় ভাবা যেতে পারে তা হলো হয়তো বাস্তবতার চেয়ে তরুণদের মধ্যে আবেগ বেশি কাজ করে বলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে তা সফল হতে পারে। যেমন অমর্ত্য সেন একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তিনি তরুণদের সৃজনশীল ও সার্বজনীন তার সাথে উন্নয়ন ভাবনাকে সম্পৃক্ত করার পক্ষে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। আবার উন্নয়ন ভাবনার সাথে স্বাধীনতার বিষয়টি যে পরস্পর সম্পর্কিত সেটাকে তিনি তার ধারণার সাথে যুক্ত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন উন্নয়ন ভাবনা একটি খুবই বহুমাত্রিক ও পার্থিব বিষয়, যা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় দিয়ে বোঝানো যাবে না। এর সঙ্গে স্বাধীনতার বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। এটা হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। ডিপেন্ডেসি থিওরি, বেসিক নিড অ্যাপ্রোচ থিওরি, নিও ম্যালথসিয়ানথি ওরি, নিও লিবারেলিজম থিওরি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে রাষ্ট্রের উন্নয়নের ভাবনা তাকে তাড়িত করেনা। আবার উন্নয়নের সাথে সংস্কৃতির উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এ ধরণের ধারণা থেকে পোস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্রোচের বিষয়টি এসেছে। যার মূল কথা হলো একজন মানুষকে অর্থনৈতিক ধারণায় গড়ে তুললেও তার মধ্যে যদি সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের ধারণা তৈরী করা না যায় তবে রাষ্ট্রের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব তৈরী হতে পারে। যেমন হলি আর্টিজেন জঙ্গি হামলার সাথে যুক্ত সন্ত্রাসীরা বয়সে তরুণ ছিল। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও তাদের ছিল। তবে সংস্কৃতির উন্নত ধারণা তাদের মধ্যে ছিলনা বলে তারা প্রথাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারণাতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেনি।

স্পেনের বার্সেলোনার ক্যামব্রিলস পর্যটক সমাগম এলাকায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে গত এক বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাইস, বার্লিন, লন্ডন এবং স্টকহোমে বিভিন্ন গাড়ী হামলায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনের ও বেশি লোক নিহত হয়েছে। ইউরোপের দেশ সমূহে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়লে সহজতর উপায় হিসেবে জনতা ভিড়ের মধ্যে গাড়ি তুলে দেয়ার মাধ্যমে হামলা করছে সন্ত্রাসীরা। যার কারণে ইউরোপ জুড়ে গত এক বছরে সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে গাড়ি হামলাই হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বেশ কয়েকটি হামলায় বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটলে ও কিছু ঘটনায় হামলা চেষ্টা কালেই গ্রেফতার হয় চালক, যার কারণে কোন ধরনের হতাহত হয়নি। এগুলোর বেশির ভাগ হামলার সাথে তরুণদের যোগসূত্র আছে। আর ২০০০ সালের পর বিশ্বায়নের ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরী হলে এর মাধ্যমে তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশ ও অর্থনীতির অবাধ প্রসার ঘটেছে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও সমাজকাঠোমো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যে তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠছে তাদের দ্বারাই উন্নত রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলসহ নানা ধরণের উন্নয়নের যুক্তিবাদী চিন্তার ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ও নীতিবাদী চিন্তার প্রসার তরুণদের মধ্যে না থাকায় জঙ্গিবাদ ও এধরণের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে।

ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী টেলরের মতে, সংস্কৃতি হল “সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্প, আইন, নৈতিকতা, প্রথাসহ যে সক্ষমতা ও অভ্যাস রপ্তকরে তার জটিল সমাহার।” ফলে নীতিবিদ্যা সংস্কৃতির প্রধান একটি উপাদান হিসেবে প্রয়োগ করে তরুণদের নেতিবাচক ধারণাকে ইতিবাচক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে উন্নয়নের রূপান্তরের ধারণা পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো নগরায়ণ, শিল্পায়ন, জনসংখ্যা ও প্রযুক্তি। এখানে নবীন বা প্রবীণ বিষয়টি প্রধান হিসেবে বিবেচিত না হলেও এক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকার ও অবদানের বিষয়টি মুখ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনে তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্বিক প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা লক্ষণীয়। এটাও দুই প্রজন্মের মধ্যে কখনো একইভাবে আবার বেশির ভাগক্ষেত্রে তারতম্যের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে কাজ করে। তবে প্রবীণরা রাষ্ট্রীয় নির্বাচনকে অতীতের বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার নিরিখে বিবেচনা করে।

অন্যদিকে তরুণদের ক্ষেত্রে নির্বাচন বর্তমান ও আগামীর সম্ভাবনাময় দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে তার সম্ভাব্য ফলাফলের উপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা যেতে পারে। মুন জায়ে ইন ৪০ শতাংশ ভোট নিয়ে ৯ মে দক্ষিণ কোরিয়ায় অুনষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জিতেছেন। নির্বাচনী বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে প্রজন্মের লড়াইয়ে জিতল দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণরা। তাহলে কি পুরাতন প্রজন্মের পরাজয় ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এভাবে সহজ সরল গাণিতিক নিয়মে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। পার্ক জিউন হাই দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত ও কারারুদ্ধ হবার পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতির বিভাজনকে জটিল একটি অবস্থায় উপনীত করে। পার্কের সমর্থকদের অধিকাংশই প্রবীণ, তারাও পার্কের বিষয়ে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দেশটি এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি পরাশক্তি হলেও বেকারত্ব বৃদ্ধি, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনীহা তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরী করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী এই দুইটি পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হয়। স্থায়ী স্তরটি প্রবীণদের জন্য সুরুক্ষিত। চাকরির নিরাপত্তাসহ সবধরণের সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু অস্থায়ী স্তরের অধিকাংশ তরুণ প্রতিনিয়ত চাকুরীর পাওয়ার ও তার নিশ্চয়তার বিষয়ে সন্ধিহান। যেটা ইউরোপ, আমেরিকার ও অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোর ধারণা থেকে থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থনৈতিক বৈষম্য নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোয় নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছে মুন জায়ে ইন। ব্রিটেনের নির্বাচনেও বয়স ভিত্তিক প্রভাবকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখানেও নবীন ও প্রবীনের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার বিষয়টি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। প্রবীণদের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন বেশি আর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লেবার পার্টির সমর্থন বেশি। প্রবীণরা বিনা মূল্যে শিক্ষা, কম মূল্যে বাড়ি ও সহজে মানসম্মত চাকরি লাভের সুবিধা পেলেও তরুণেরা এর কিছুই পাচ্ছেন না। আবার সরকারি কল্যাণ সেবার অধিক সুবিধাভোগীও প্রবীণেরা। কনজারভেটিভের প্রতি তাদের অনুরক্ত হবার বিষয়টি অনেকক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতা ও পুঁজিবাদী মনোভাব থেকে এসেছে।

অন্যদিকে লেবার পার্টি তরুণদের শিক্ষা ফি বাতিল, দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, সহনীয় মূল্যে আবাসন ও শ্রেণি বৈষম্য নিরসনসহ উদার ও মানবিক নীতিগুলো অনুসরণ করে তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে তাদের সমর্থন আদায়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছিল। আবার স্টিফেন হকিং প্রবীণ হলেও তিনি বলেছেন কনজারভেটিভের বিজয় একটি দুর্যোগ। তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও তরুন ও প্রবীনদের রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার মতো নানা উপাদান রয়েছে। নতুন প্রজন্মের সৃষ্টিশীল ভাবনা ও প্রবীনদের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের ইতিবাচক ধারণাকে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে তা হলো বঙ্গবন্ধু তাঁর তরুন নেতৃত্বের ভাবনা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন। এটি ছিল তারুন্যের স্বপ্ন। তবে সময় যত অতিক্রান্ত হয়েছে স্বপ্ন বাস্তবতার দিকে ধাবিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছে। বিষয়টি অন্যভাবে ভাবা যেতে পারে। সেটা হলো তরুনরাও লক্ষকে স্থির করে তা অর্জন করতে পারে। আবার প্রবীনরাও সৃষ্টির ধারণা তৈরী করে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। এটি নির্ভর করে স্থান, কাল ও পাত্রের উপর। তবে নবীন ও প্রবীনের অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, মনস্তাত্বিক দৃঢ়তা ও যে কোন ধরনের লক্ষকে স্থির করে তা সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আর উন্নত রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে এই সেতুবন্ধন সম্ভব হলে বাংলাদেশ তার সময়ের চেয়ে অনেক বেশী অগ্রসর হতে পারবে।

লেখক: শিক্ষাবিদ, কলামিষ্ট ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত