Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
  • ||

দেশটা নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে

প্রকাশ:  ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৯
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
প্রিন্ট icon

রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভাবনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সৃষ্টিশীল ভাবনা, রাষ্ট্র ও মানুষের প্রতি ইতিবাচক ধারণা, আত্মত্যাগ, ব্যক্তিত্ব আর মানবিক মূল্যবোধ উন্নয়ের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে উন্নয়ন ভাবনাটি যদি বহুমাত্রিকতা লাভ করে সেক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারণাও বহুমাত্রিক হয়। তবে এখানে বহুমাত্রিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহের একে অন্যের সাথে সমন্বয়ের বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ফলে উন্নয়ন ভাবনার সাথে উন্নয়নসমূহ সমন্বয়ের ভাবনাকে যুক্ত করতে হবে। তবেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

ভাবনাকে উন্নয়নের বাস্তবতা ও সমন্বয়ের জন্য কন্সেপচুয়াল স্কিল বা ধারণাগত দক্ষতা ব্যক্তির মধ্যে গড়ে তুলতে হয়। যেমন ভাবনার বিষয় যখন অর্থনীতি হয় তখন অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত উপাদানগুলো সনাক্তকরণ ও তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করার সৃষ্টিশীল ও সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। আবার এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগ্রহণের বিষয়টি একটি মুখ্য বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যদি ভাবনার বিষয়টি প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে এর সাথে পারস্পরিকভাবে যুক্ত উপাদানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ১৯৬২ সালে জন এফ কেনেডি তাঁর বিখ্যাত “মুন স্পিচ” এর মাধ্যমে চন্দ্রাভিযানের ভাবনাকে তার প্রযুক্তির উন্নয়নের ভাবনার সাথে যুক্ত করেছিলেন। ভাবনার সাথে পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে সমালোচকরা প্রচুর অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কারণ, মানবতাবাদী সংগঠনগুলো অনুন্নত রাষ্ট্রসমূহের দারিদ্র বিমোচনের চাইতে চন্দ্রাভিযানের বিষয়টিকে মুখ্য অনুসর্গ হিসেবে বিবেচনায় আনতে চান নি। আবার প্রযুক্তিগত জটিলতা ও গবেষণার মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন খুব সহজ বিষয় ছিলনা। কিন্তু এইসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কেনেডি তাঁর উন্নয়ন ভাবনাকে মানুষের মনোবল গড়ে তোলার ভাবনার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে ভাবনা যখন অর্জনে রূপান্তরিত হয় তখন মানুষের মধ্যে মনোবল গড়ে উঠার মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। কেনেডির এই সৃষ্টিশীল ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত হয় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চন্দ্রাভিযানের মাধ্যমে।

নীলআমস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা রেখে বলেন এই বিজয় হলো মানবজাতির কল্যাণের জন্য এক মাইলফলক। এখানে একটি বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে আসতে পারে। সেটি হলো চন্দ্রবিজয়কে কেন মানব কল্যাণের সাথে যুক্ত করা হলো। এর পক্ষে বিপক্ষে নানা মতামত থাকতে পারে। তবে মানুষ যে অজেয়কে জয় করতে পারে, মানুষ যে তার ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারে, মানুষ যে প্রযুক্তিকে যে কোন অর্জনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে, এই চন্দ্রবিজয়কে সেই অর্থে মানব কল্যাণের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া চন্দ্রাভিযানের মাধ্যমে অজানা রহস্য উন্মোচন ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। ফলে প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়নের বিষয়টি যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক ধরনের যোগসূত্র তৈরী করে তা বলা যায়।

মনোস্তত্তবিদদের গবেষণায় উঠে এসেছে মানুষের ভাবনা কখনও স্থির নয়। কারণ ভাবনা থেকে ভাবনার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি কাজ করে তা হলো যখন কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র উন্নয়নের ভাবনার সূত্রপাত ঘটে তখন এর সাথে অন্যান্য বিষয়গুলোর যোগসূত্রের কারনে ভাবনা কোন একটি জায়গায় আবদ্ধ থাকতে পারে না। যেমন- মানুয়ের ভাবনা যখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ভাবনাকে প্রভাবিত করে তখন চিকিৎসা বিজ্ঞান ছাড়াও অন্যান্য বিষয় ভাবনার অনুসর্গ হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রের মানুষের স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বর্তমানে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবে প্রয়োগ করে মানুষের জীবনের একটি মৌলিক চাহিদায় পরিবর্তনের ধারণা গড়ে উঠেছে। এই বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে বায়োম্যাটেরিয়াল, ন্যানোম্যাটেরিয়াল, বায়োকেমেস্ট্রি, ফিজিক্স, এপ্লাইড মেকানিক্স, ফ্লুইড মেকানিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ, ক্যান্সার সেল, কিডনী, ফুসফুস, লিভার, হার্ট প্রতিস্থাপনসহ অনেক বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে। এখানে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য তা হলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির ভাবনা সম্প্রসারণশীল ধারণার মাধ্যমে প্রসারিত ও প্রভাবিত হয়। আরেকটি বিষয় এখানে বিবেচ্য হতে পারে তা হলো উন্নয়ন ভাবনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ভাবনা সংক্রান্ত গবেষণাগুলোতে এর ইতিবাচক ফলাফলের কথা বলা হয়েছে। ম্যাট্রিক্স এনারগাইটস তার বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণায় ভাবনাকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রমান করেছেন ভাবনা মানুষের মধ্যে ভাবধারা ও চিন্তাশীলতা তৈরী করে। মানুষ তার সীমিত চিন্তাধারার বিকাশ ঘটালে তা তার মধ্যে উদার, সহনশীল ও সৃজনশীল ভাবনা সৃষ্টি করে। হার্ভার্ড গবেষণার সাথে যুক্ত ড. ডেভিড হ্যামিলটন তার প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন ভাবনাকে কিভাবে প্রয়োগ করে জীবনকে পরিবর্তন করা সম্ভব। এর সাথে ভাবনা মানুষের মস্তিষ্কের কাঠামোকে প্রভাবিত করে এই বিষয়ে তিনি তার গবেষণালব্ধ ফলাফল আলোচনা করেছেন। যেমন তিনি দুটি গ্রুপকে তার গবেষণার উপাত্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই দুটি গ্রুপের ব্যক্তিরা একই মেধা স্তরে অবস্থান করছিল। এরা কেউই আগে থেকে পিয়ানো বাজাতে পারতোনা। তিনি এদের মধ্যে একটি গ্রুপকে পিয়ানো বাজানোর মাধ্যমে এর সুরকে বিভিন্ন লেভেলে উঠানোর ও নামার দায়িত্ব দিলেন।

আরেক গ্রুপকে শুধু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভাবতে দিলেন অন্য গ্রুপ কিভাবে পিয়ানো বাজাচ্ছে। একটি দলকে হাতে কলমে আরেকটি দলকে ভাবনার মাধ্যমে কল্পনা সৃষ্টি করতে বললেন। খুব চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া গেল। দেখা গেল যারা পিয়ানো বাজিয়েছিল আর যারা ভাবনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেখেছিলো উভয়েরই পিয়ানোর তারের উপর আঙুলের যে প্রতিক্রিয়া তা মস্তিষ্কের একটি অংশের গঠনকে সমানভাবে বিকশিত করেছে।

তাই এটি বলা যায় যেযদি হার্ভার্ড গবেষণা দেখায় যে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে ভাবনার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও প্রায়োগিক শক্তি বৃদ্ধি করা যায়, তবে মানুষ তার ভাবনার বহুমাত্রিকতার মাধ্যমে আপনার যে কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার অবদান রাখতে পারে। মাইকেল ফরেস্টার একইভাবে তার গবেষণা পর্যবেক্ষণে বলেছেন ধারণাগুলি বাস্তবতা তৈরি করে আর এটি সম্ভব হয় মস্তিষ্কে যখন জিনগুলিতে নির্দিষ্ট আণবিক পরিবর্তনের সৃষ্টি করতে পারে।যেমন রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নের লক্ষে জাতীয় শুদ্ধাচার নীতি, দারিদ্র্য বিমোচন নীতি, জাতীয় শিক্ষা নীতি, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, বাণিজ্য নীতি, জাতীয় কৃষি নীতি, জাতীয় কৃষি সমপ্রসারণ নীতি, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি, জাতীয় আইসিটি নীতিমালা, তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, জাতীয় ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতি, জাতি দক্ষতা উন্নয়ন নীতি, জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি, জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, জাতীয় শিশু নীতি, জাতীয় সমাজকল্যাণ নীতি, প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা শো বিভিন্ন উন্নয়ন নীতিমালা প্রণীত হয়েছে।

এই নীতিমালা সমূহ প্রণয়নের সময় যেমন ভাবনা কাজ করেছে তেমনি এগুলো কিভাবে প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করা যায় তার ভাবনাও কাজ করেছে। আবার সময়ের সাথে নীতিমালাগুলো কিভাবে পরিবর্তন করা যায় সেই ভাবনাও অব্যাহত আছে। এই নীতিমালাগুলো তৈরির ক্ষেত্রে কেউ প্রত্যক্ষ ভাবনা প্রয়োগ করেছে আবার কারো কারো পরোক্ষ ভাবনা এর উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করেছে।

এই নীতিমালাগুলো প্রণয়ন, উৎকর্ষতা সাধন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবনা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আর এই ভাবনার উৎস হিসেবে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধুর অগ্রসরমান ভাবনা ও দর্শন। এ কারণেই বলা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাবনা তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর ছিল।

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনার ক্ষেত্রে বলা হয় তার শিক্ষা ভাবনা তার সময়ের চেয়ে অগ্রসর ছিল। এখানে অগ্রসরমান ভাবনার কথা বলা হয়েছে। যেমন- যে কোন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অগ্রসরমান ভাবনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রধান কারণ হচ্ছে ভাবনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করা হয় না।

একইভাবে শিল্পায়নের বিকাশ ও তার নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে অগ্রসরমান ভাবনার বিষয়টি অতীতে তেমনভাবে বিবেচনায় আনা হয়নি। কিন্তু চীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ শিল্পাঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার ভাবনায় যুক্ত করেছে। ফলে বর্তমানে চীন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। কিন্তু ভাবনার সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের ও রাষ্ট্রের সাথে উন্নয়নের যোগসূত্র গড়ে তোলার মাধ্যমে উন্নত ও অগ্রসরমান ভাবনার বিকাশ সম্ভব। এ প্রসঙ্গে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনায় আনা যায়। এখানে সোনার বাংলা ও উন্নত রাষ্ট্রের ভাবনা থেকে বঙ্গবন্ধুররূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ও বিজ্ঞানভিত্তিক-গণমূখী-কর্মমূখী-জীবনমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে “দেশজ উন্নয়ন দর্শন” এর রূপকল্প পরিকল্পনায় আনেন।

কেননা এর সাথে রাষ্ট্রের ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবার অগ্রসরমান ভাবনা উৎসারিত হয়েছে। এ কারনে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে কখনও ব্যয় হিসেবে বিবেচনায় আনেননি বরং এটিকে সর্বোৎকৃষ্ট বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আবুল বারাকাত তার বঙ্গবন্ধু-সমতা-সাম্রাজ্যবাদ গ্রন্থে যৌক্তিকতা ও বাস্তবতার নিরিখে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াত ৯ শতাংশ।

একই ধরনের ভাবনাকে অনুসরন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর মতো অগ্রসরমান ভাবনার দর্শন সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপসমূহ পরিকল্পনার মাধ্যমে কিভাবে বাস্তবে ফলপ্রসু, প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণ করা যায় এটিই এক্ষেত্রে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভাবনার ক্ষেত্রে মাইক্রো ইকোনমিক্স ও মাক্রো ইকোনমিক্স এর ধারণাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্লেষনের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রের ভাবনাকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

এপিজে আবুল কালাম আজাদ তাঁর ভাবনার বিশ্লেষণে বলেছেন আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল আদালতে দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায়ে সম্মতি প্রদান। আমি মনে করি পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারনে মানুষ অপরাধ করে। অপরাধের জন্য দায়ী সমাজ বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। কিন্তু সেই ব্যবস্থাকে আমরা শাস্তি দিতে পারি না। শাস্তি দেই ব্যবস্থার শিকার মানুষদের। কাজেই এখানে একটি বিষয় পরিস্কার তা হলো উন্নত ও অগ্রসরমান ভাবনার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন করে যদি আমরা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটাতে পারি তবে সেক্ষেত্রে মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কেননা ইতিবাচক ভাবনার দৈন্যতার কারনে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যহত হয়। আর তার শিকার হন রাষ্ট্রের নাগরিক। যেটি কোনভাবেই আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়।


লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিষ্ট।

ই-মেইল: [email protected]

ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী,মত
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত