Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
  • ||

আমরা সকলে মিলেই দেশটাকে গড়ে তুলতে পারি

প্রকাশ:  ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১৩ | আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১৫
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
প্রিন্ট icon

সময়ের সাথে কৌশল পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সে কৌশল যদি নেতিবাচক ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তবে সেই কৌশলকে প্রতিরোধ ও চিরতরে নির্মূল করার জন্য ইতিবাচক শক্তির কৌশল আরও পরিকল্পিত ও বাস্তবমুখী হওয়া দরকার। আরেকটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল নেতিবাচক শক্তি কৌশলগত কারণে সাময়িকভাবে তাদের কর্মকান্ড বন্ধ রাখলে ইতিবাচক শক্তি যদি মনে করে তাদের সফলতা অর্জন হয়ে গেছে, সেটি হবে হবে সবচেয়ে বড় ভুল ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ অপশক্তি ও শত্রুকে দুর্বল ভাবা ঠিক নয়।

সাম্প্রতিককালে জঙ্গীবাদীরা তাদের কৌশল পাল্টিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গী আস্তানা গড়ে তুলছে। আর এর মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে তাদের আস্তানাগুলোতে নানা ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্যসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুদ করছে। আবার এক্ষেত্রে তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর পরিকল্পনা করছে। এখানে তাদের কাছে নিজের পরিবারের চাইতে তাদের কাছে ভ্রান্ত মতাদর্শ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ফলে বাবা, মা, ভাইবোন কে ফেলে তারা মূল পরিবার থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের বিষয়ে কোন ধরনের খোঁজ খবর পাচ্ছে না।

কিন্তু যেহেতু বাড়ী ভাড়ার মাধ্যমে এই ধরনের জঙ্গী আস্তানাগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে, কাজেই এক্ষেত্রে কৌশলগত কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের জঙ্গীবাদীরা সাথে রাখছে। সাঁড়াশি অভিযানের মুখে গত প্রায় দশ মাসে সারাদেশে অন্তত ২০টি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অভিযানে নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের মধ্যে জঙ্গীদের স্ত্রী ছাড়াও তাদের ছোট ছোট সন্তানও রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত জঙ্গীদের মধ্যে অন্ততঃ ২০ জন আত্মঘাতী ছিল। তারা নিজেরাই নিজেদের হেফাজতে থাকা শক্তিশালী বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখানে প্রশ্ন হতে পারে নারীরা কেন এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে?

এর প্রধান কারন হচ্ছে অনেকক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হলেও, আবার অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, একদিকে স্বামীর চাপ অন্যদিকে আত্মীয়-স্বজনদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় এবং সাংসারিক অর্থনৈতিক সংকটে আত্মঘাতী জঙ্গি হচ্ছে নারীরা।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব সিগমা হুদা আন্তঃজঙ্গি বিয়ে, স্বামীর চাপ, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক নিরাপত্তা, সাবলম্বী হওয়ার আশা, মৌলবাদী প্রচার ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যাকে নারীদের আত্মঘাতী জঙ্গি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করছে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। পারিবারিক কারণ ও স্বামীর চাপ নারীদের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করছে। স্বেচ্ছায় কোন নারী জঙ্গিবাদের সাথে নিজেকে জড়াতে চায় না। এখানে একটি বাস্তব ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আবেদাতুল ফাতেমা তার স্বামী তানভীর কাদেরীর প্রভাবে জঙ্গী তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে এখনও তিনি জঙ্গীবাদের কারনে তার সাজানো সংসার ভেঙ্গে যাবার অসহ্য যন্ত্রণা বহন করে চলেছেন। ফাতেমা এখন প্রায়ই বলেন জঙ্গীবাদের ভুল পথে চলে তার সোনার সংসার পুড়ে অংগার হয়ে গেছে। তিনি স্বামী হারিয়েছেন, দুই সন্তানের একজন প্রাণ হারিয়েছে। অন্যজনের ভবিষ্যত অন্ধকার। জঙ্গীবাদের সম্পৃক্ততার কারনে পরিবারের আপনজনেরাও তাদের থেকে মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। তিনি নিজে ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। আর তার দুই সন্তান ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করতেন। মা হয়ে নিজের সন্তানের জীবনকে তিনি ধ্বংস করেছেন। ফলে মানসিকভাবে তিনি ভেঙ্গে পড়েছেন।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং জঙ্গীবাদের ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। এখানে জঙ্গীবাদীরা যেমন রাষ্ট্রের প্রতি অমানবিক আচরণ করছে, নিজের পরিবারের প্রতিও তাদের এ ধরনের অমানবিক আচরন অব্যাহত আছে। ফলে এটি সামাজিক সম্পর্কের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে। এটাকে অনেক ক্ষেত্রে আত্মঘাতী প্রবণতা মনে করলেও এখানে জঙ্গীবাদীদের শিশু সন্তানরাও মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে। সে ক্ষেত্রে জঙ্গীবাদীদের জন্য এটি আত্মঘাতী হামলা হলেও শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলেই বিবেচনায় করা যায়। এই অর্থে বলা যায় জঙ্গীবাদীদের যেমন দেশ, কাল, পাত্র ও ধর্ম নেই। তেমনি এদের পরিবার বা আপনজন বলে কেউ নেই। এদের প্রধান কাজই হলো জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিনষ্ট করা।

এখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন জঙ্গী আস্তানাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তথ্য ও উপাত্তের বাহিরেও যে জঙ্গী আস্তানা নেই তা বলা কঠিন। ফলে জঙ্গী আস্তানাগুলো বিছিন্নভাবে শনাক্ত করা গেলেও এলাকা ভিত্তিক আর কোন জঙ্গী আস্তানা আছে কিনা তা বের করা সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই নিরাপত্তা বাহিনীকে খুব গোপনীয়তার সাথে কোন একটি এলাকা জুড়ে রেইড করার মাধ্যমে নিছিদ্র অভিযান চালানো প্রয়োজন। এই অভিযান সারা দেশব্যাপী করা সম্ভব হলে জঙ্গী আস্তানাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে এ ধরনের আস্তানাভিত্তিক জঙ্গী তৎপরতা বন্ধ করা যেতে পারে। এই অভিযান কেবল শহরকেন্দ্রিক হলেই হবে না গ্রাম কেন্দ্রিক ও হতে হবে। এক্ষেত্রে নারীদের যেমন ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি তেমনি নারীদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়নি।

আবার অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নারীদের ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হলেও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যায়, বছরের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১২০টি। এর মধ্যে ধর্ষণের পর পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ করা হয়েছে ৯৩ জনকে। আর ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন একজন। আর শিকার সবাই নারী। ২০১৬ সালে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭২৪ জন নারী। এর মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। আর ২০১৫ সালে সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৩৬টি।

২০১২ সালের শেষ দিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক মেডিকেল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ও পরে মৃত্যু বরণ করেন। এটির বিরুদ্ধে তখন শুধু ভারতেই প্রতিবাদ ও আন্দোলন হয়নি, সমগ্র বিশ্বের মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের মনোভাব তৈরী হয়েছিল। এর পরে বাংলাদেশেও এ ধরণের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। মানিকগঞ্জ ও রাজধানীর বাড্ডা থেকে চলন্ত পরিবহনে নারীদের প্রতি এই ধরণের অমানবিক ও অন্যায় আচরণ পরিলক্ষিত হয়।

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে অন্তত আঠারো জন নারীকে ধর্ষণ ও শারিরীক নির্যাতনের শিকার হতে হয় গণপরিবহনে, যাদের মধ্যে অনেককেই ধর্ষণের পর হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। এখানে নিম্নবিত্ত,মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত এই শ্রেণী বিভাজনের কোন সুযোগ নেই। সব শ্রেণীর নারীরাই এ ধরণের অমানবিক ও অন্যায় আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বিভাজনটি লিঙ্গের ভিত্তিতে দৃশ্যমান। এ কারনে উচ্চ শিক্ষিত নারীরা যেমন তার কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ নয় তেমনি তাদের চলাচলের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বিধান করা যায়নি। ফলে চলন্ত বাসে গণধর্ষনের মত অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় রূপা নামের এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। তাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।

রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকা আইডিয়াল ল’ কলেজে এলএলবি শেষ পর্বে পড়াশোনা করছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। তাঁর কর্মস্থল ছিল শেরপুর জেলা। এখানে জঙ্গীবাদীদের মত ধর্ষকরাও একধরনের কৌশল অবলম্বন করে। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায় ঐদিন বাসে রূপাসহ ছয় থেকে সাতজন যাত্রী ছিল। অন্য সহযাত্রীরা সিরাজগঞ্জ মোড় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নেমে গেলে রূপা একাই যাত্রী হিসেবে থেকে যান। ফলে তার একাকীত্বের সুযোগ গ্রহণ করে এই ধরনের অমানবিক ঘটনার অবতারনা করা হয়।

এটি সমাজের বর্তমান অগ্রসরমান গতিধারাকে পশ্চাদমূখী করার একটি প্রচেষ্টা বলে ধরে নেওয়া যায়। ধর্ষণের একটি প্রধানতম কারণটি হচ্ছে রাজনৈতিক। পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধে দখলদার ও আক্রমণকারী বাহিনী প্রতিপক্ষের নারীদের ধর্ষণ করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদারবাহিনী কম করে হলেও ছয় লাখ বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছেন। এর মাধ্যমে হানাদাররা কেবল তাদের যৌন চাহিদাই পূরণ করেছেন তা নয়, এই নারকীয় ঘটনার মাধ্যমে তারা একটা জাতির মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ধর্ষিতা মেয়ের বাবার নামের জায়গায় আমার নাম লিখে দাও- শেখ মুজিবুর রহমান। আর ঠিকানা লেখ ধানমন্ডি বত্রিশ...। মুক্তিযুদ্ধে আমার মেয়েরা যা দিয়েছে সেই ঋণ আমি কিভাবে শোধ করব?’ একই ধরণের ঘটনা সা¤প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যুতে উঠে এসেছে। যা পৈশাচিক আচরণের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ফলে একধরণের নেতিবাচক ধারণা দেশ থেকে আরেক দেশে, ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সাইকোলজিক্যাল ট্রান্সফর্মাশনের মাধ্যমে ঘটেছে। এছাড়া যে কোন রাষ্ট্রে, ধর্ষণ মূলত ধর্ষকের মানসিক বিকৃতি এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা চর্চার ঘটে থাকে। মানসিক বিকৃতির মূল কারণ হলো নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে দেখার সংস্কৃতি।

অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি নারীকে গৃহবধু, ভোগ্যপণ্য বা যৌন চাহিদা পূরণের উপাত্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে সমাজতাত্তিক, মনস্তাত্তিক ও সরকারের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারনে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এটি নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা যায়। তবে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে যেটি সেটি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীদের প্রতি পুরষতান্ত্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করে সম্মানের জায়গাটি তৈরী করা প্রয়োজন।

তবে এক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটিয়ে নারীও যে একজন মানুষ তা সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। আবার শিক্ষার প্রয়োগ ও তার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রকৃত জ্ঞান সৃষ্টি করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আবার এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা দরকার, যাতে করে গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পরিবর্তনকে আগে থেকেই ধারণা করে এই ধরণের অপরাধ প্রতিকারের বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়। তবে সব সময়ের জন্য এটি একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। কিন্তু এর প্রকৃতি ও কারণগুলো ভিন্ন ভিন্ন আর সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতি ও কারণগুলোর পরিবর্তন ঘটে।

গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নুতন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। গণপরিবহনে এ ধরণের ঘটনা কিভাবে নির্মূল করা যায় সেজন্য নারীদের জন্য গণপরিবহনে নিরাপত্তার জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হতে পারে। এই নীতিমালায় কিভাবে নারীকে পরিবহনের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত করা যায় তার পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়নের নীতিমালা থাকতে হবে। নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। যেটা জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব করার মতো।

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ষষ্ঠ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নারী উন্নয়নে বাংলাদেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬’ অনুযায়ী ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম। যা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো অবস্থান নির্দেশ করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ তার লক্ষ অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে নারীর ক্ষমতায়নের সাথে সাথে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।

এটি যদি সম্ভব হয় তবে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র গঠনের মতো উন্নত মানসিকতা ও চিন্তাধারা গড়ার ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এটাই প্রত্যাশিত।


লেখক: শিক্ষাবিদ ও কলামিষ্ট। ই-মেইল: [email protected]

কলাম,দেশ
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত