• রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৬:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। নতুন আইজিপি কে হবেন এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ বিবেচনায় থাকবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা থাকবে অগ্রগণ্য। যদি বর্তমান আইজিপির মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হয়, সে ক্ষেত্রে নতুন আইজিপি হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাকেই বিবেচনা করবে সরকার।

এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় নানা সংকটে পরীক্ষিত বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। পুলিশ প্রধান হিসেবে বাহিনীতে নানামুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সমাদৃত বর্তমান আইজিপিকেই আরেকটি বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে সরকার।

বেনজীর আহমেদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া না হলে ৩১তম আইজিপি হিসেবে দেখা যাবে নতুন মুখ। আলোচনায় যারা-

ড. বেনজীর আহমেদ: বর্তমান পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা চার্লস স্ট্রার্ট ইউনিভার্সিটি ও সিঙ্গাপুরে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াশোনা করেন ড. বেনজীর আহমেদ। ২০১৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার বেনজীর আহমেদকে দেশের ৩০তম পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে তার নানা পদক্ষেপের কারণে ‘জনমুখী পুলিশি সেবা’ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। থানা থেকে বের করে পুলিশকে মানুষের দোরগোড়ায় নিতে একের পর এক সাহসী ও সময়োপযোগী নির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আইজিপি হিসেবে যোগদানের পর ড. বেনজীর আহমেদের হাত ধরে এসআই-কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ পুলিশে বেশকিছু সংস্কার এসেছে। যোগ হয়েছে নতুন নতুন বিষয়, আধুনিক হয়ে উঠেছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে জনবান্ধব করতে তার রয়েছে নানা উদ্যোগ। সহজে পুলিশি সেবা পাওয়ায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে।

যে কোনো সংকটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত অভিযানসহ তার নানামুখী পদক্ষেপ পেয়েছে প্রশংসা। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সামনে থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদকে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দায়িত্ব বুঝে নিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ভূমিকা পালন করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। হলি আর্টিসান হামলায় প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানও বেগবান রেখেছেন তিনি। সুন্দরবনের জলদস্যুতার অবসান ঘটিয়ে একটি স্বস্তির উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন ড. বেনজীর আহমেদ।

র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে সপ্তম বিসিএস-এ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করা ওই কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন ঢাকা উত্তর, পুলিশ একাডেমি, পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (র‌্যাবের ডিজি): বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম আইজিপি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অষ্টম বিসিএস ব্যাচের ওই কর্মকর্তার আগামী ১১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে তার সুনাম থাকা এই কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশে অসামান্য অবদান ও অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত বছরের ১৮ অক্টোবর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জে ও ডিআইজি হিসেবে ডিআইজি (অপারেশনস্), ডিআইজি (প্রশাসন), রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত আইজিপির (এইচআরএম) দায়িত্ব পান। র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এস এম রুহুল আমিন (অতিরিক্ত আইজিপি/ পুলিশ সদর দপ্তর): নতুন আইপিজি হিসেবে আলোচনায় আছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) এস এম রুহুল আমিন। অত্যন্ত সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে এস এম রুহুল আমিন-এর অনেক সুনাম রয়েছে। তিনি ১২তম বিসিএস ব্যাচের মেধা তালিকায় প্রথম। তাছাড়া কর্মজীবনে কোন প্রশিক্ষণ বা পরীক্ষায় কখনো দ্বিতীয় হননি।

এস এম রুহুল আমিন গোপালগঞ্জ সদর থানায় এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুবেদার মেজর (অব.) এস এম আব্দুল খালেক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সরদায় মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ‘সর্ব বিষয়ে সেরা পারফর্মার’ হন তিনি। রুহুল আমিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি, সিলেট জেলার এসপি, ঢাকায় সিআইডির এসএস, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করে বরিশালে পুলিশি সেবার নবদিগন্তের সূচনা করেন। পুলিশ বাহিনীতে মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এস এম রুহুল আমিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আইভরিকোস্ট ও দক্ষিণ সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. মল্লিক ফখরুল ইসলাম (অতিরিক্ত আইজিপি/হাইওয়ে পুলিশ প্রধান): পরবর্তী আইজিপি হিসেবে আলোচনায় আছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম। তিনি বাগেরহাট জেলার একটি স্বনামধন্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যাচের মেধা তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে পরবর্তীতে ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স (এমবিএ) এবং ‘অপরাধ প্রতিরোধ ও সামাজিক পরিবর্তন : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

তিনি ভোলা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট ও ফেনী জেলার এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি, পুলিশ সদর দফতরে এআইজি (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি র‌্যাব-৩ কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি হিসেবে স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রেলওয়ে, হাইওয়ে ও ট্যুরিস্ট রেঞ্জে নেতৃত্ব দেন। মল্লিক ফখরুল ইসলাম পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএমআইটি) জাতিসংঘের এফপিইউ কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব পালন করে জাতিসংঘ পদক অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন।

মো. কামরুল আহসান (অতিরিক্ত আইজিপি/এটিইউ প্রধান): আইপিজি হিসেবে আলোচনায় আছেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে (এমবিএ) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদান করেন। ডিএমপির এডিসি, ফেনী জেলার অতিরিক্ত এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলার এসপি, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন এবং ট্রেনিং), সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এবং রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মো. কামরুল আহসান জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের ‘পুলিশ অ্যাডভাইজার’ হিসেবে সিয়েরালিওন ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।

পূর্বপশ্চিম- এনই

পুলিশ প্রধান,আইজিপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close