• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

শোকের চাদরে যাবে না কলঙ্ক ঢাকা

প্রকাশ:  ০১ আগস্ট ২০২২, ০৩:১৪ | আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ১৮:৩৮
বিশেষ প্রতিনিধি

শোকের মাস আগস্ট এসেছে, বছর ঘুরে আবার এসেছে ইতিহাসের সেই কালবেলা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয় এই মাসেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটেছিল বাঙালির ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে নরপিশাচরূপী ঘাতকচক্র।

এই আগস্ট মাসেই, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, গ্রেনেড ছুড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও ওই গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আর আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা শুরু হয়, মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন চলে। স্বাধীনতার স্পপতির আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন করে দেশগড়ার প্রত্যয় ঘোষিত হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রায় ২৫ বছর পর তারই যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন পা রেখেছে উন্নয়নের সোপানে। মহামানব পিতার যোগ্য কন্যা এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত বেশিরভাগ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন দেশে গা ঢাকা দিয়ে পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষদাঁত অনেকটাই গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আগস্টের শোকে সান্তনা খোঁজার অনেক প্রাপ্তিই জাতির সামনে আছে। তবু দানবের হাত হতে পিতাকে সুরক্ষার দায় পালনে ব্যর্থতা জাতিকে বহন করতেই হবে, শোকের চাদরে যাবে না কলঙ্ক ঢাকা।

বিশ্বের নিষ্ঠুরতম এ হত্যাকাণ্ডে বিপথগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ন থেমে থাকেনি; একে একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল, মেজ ছেলে শেখ জামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামালকেও। ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট শিশু রাসেলও। বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরকেও হত্যা করে ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছোট ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ।

খুনীরা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করে।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এ বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাও বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে থাকেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগস্ট মাসকে আওয়ামী লীগসহ পুরো জাতি পালন করে শোকের মাস হিসেবে। ১ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, শোক ও ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে।

মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচি:

৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে আলোর মিছিল করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। একই সময়ে ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

সোমবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে কৃষক লীগের আয়োজনে রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৫ আগস্ট শহিদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এ ছাড়াও, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। বাদ জোহর আজিমপুর এতিমখানায় এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি, আওয়ামী লীগের বণ ও পরিবেশ উপ-কমিটি, আওয়ামী যুবলীগ ও আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

এভাবে পুরো মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ এবং দলের সহযোগী সংগঠনগুলো। আগামী ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের আয়োজনে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি শেষ করবে আওয়ামী লীগ।

১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি:

সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতিহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।

সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতিহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। উক্ত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। এ ছাড়াও, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ওই দিন প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। দুপুরে সারাদেশে অসচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও গণভোজের আয়োজন।

এ ছাড়াও ১৬ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আলোচনা সভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়াও, ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত মাসব্যাপী শোক দিবসের কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

একইসাথে আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পূর্বপশ্চিম- এনই

শোকাবহ আগস্ট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close