• রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

মোটরসাইকেল যাচ্ছে লঞ্চে চড়ে

প্রকাশ:  ০৫ জুলাই ২০২২, ২২:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রায় ঝক্কিঝামেলা এড়াতে নিজের বাহন নিয়ে বাড়ি যান মোটরসাইকেল চালকরা। এবারও তেমন চিন্তা করে রেখেছিলেন বাইকাররা। কিন্তু বিধি বাম। সরকারের পক্ষ থেকে ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। সপ্তাহব্যাপী এই কড়াকড়ি শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে। তাই পথের ঝামেলা এড়াতে কেউ কেউ আগেভাগে ঢাকা ছাড়ছেন। লঞ্চযাত্রায়ও অনেকে সঙ্গে নিচ্ছেন মোটরসাইকেল।

স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকায় লঞ্চে মোটরসাইকেল আনা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।

অন্যান্য সময় হাতেগোনা কিছু মোটরসাইকেল নেওয়া হলেও মঙ্গলবার (৫ জুলাই) একাধিক লঞ্চে কম করে হলেও ১৫ থেকে ২০টি করে মোটরসাইকেল দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি পূবালী-১২ লঞ্চে মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হন আব্দুল্লাহ আল মেহেদী। তিনি বলেন, গত ১৫ তারিখ ৩০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে এলাম, আর আজকে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। পূবালী লঞ্চেই ২০টি মোটরসাইকেল পটুয়াখালী নেওয়া হচ্ছে। ঈদের ছুটি শুরুর আগেই কেন ঢাকা ছাড়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী বলেন, ‘সরকার কড়াকড়ি শুরু করে দিলে পরিস্থিতি কেমন হয় বলা মুশকিল। তাই আগেভাগে যাচ্ছি। লঞ্চওয়ালারা সরকারের ঘোষণার সুযোগ নিয়ে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। সদরঘাটের আনসাররা গাড়ি আটকে দিচ্ছে। পরে ১০০ টাকা ঘুষ দিলে ছেড়ে দিচ্ছে।’

প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে নৌ-সড়ক ও রেল পথে। সড়ক পথে কোথাও লেগে থাকে লম্বা যানজট। কেউ আবার বাসের টিকেট জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খান। এমন বাস্তবতায় গত কয়েক বছর ধরে ঝামেলা এড়াতে নিজের বাহন নিয়ে ঢাকা ছাড়েন মোটরসাইকেল চালকরা।

অন্যদিকে লঞ্চে বেশি মোটরসাইকেল যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে পরে মিলে দশ দিন মোটরসাইকেল লঞ্চে আনা নেওয়া বন্ধ থাকবে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আজকেই শেষ সুযোগ। এ কারণেই চাপ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

যদিও ঈদের আগে পরে সড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার মধ্যে মোটরসাইকেল বেশি দায়ী বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যানও তাই বলছে। ফলে এবার ঈদে মোটরসাইকেল চলাচল ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত রোববার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ঈদের আগে তিন দিন পরে তিন দিন এবং ঈদের দিনসহ মোট সাত দিন মহাসড়কে মোটর বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে একইসঙ্গে এক জেলায় নিবন্ধিত মোটরবাইক অন্য জেলায় চালানো যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী জানান, যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঈদের আগে তিন দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরে তিন দিন এই সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় মোটরসাইকেল চলাচল করবে না। একই সময়ে দেশের সব মহাসড়কে রাইড শেয়ারিং করা যাবে না।

সচিব আরও বলেন, কোনো জরুরি কারণে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে হলে তা পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষে এক জেলার মোটরসাইকেল অন্য জেলায় যেতে পারবে।

সচিব জানান, এই সিদ্ধান্তের বাইরে ঢাকার মোটরসাইকেল ঢাকায় চালাতে হবে। চট্টগ্রামের মোটরসাইকেল চট্টগ্রামে এবং বরিশালের মোটরসাইকেল বরিশালে চালাতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে ও পরে মোট সাত দিন জেলা থেকে জেলায় মোটরসাইকেল চলবে না। আমরা বের হওয়া পয়েন্টগুলোতো খুব শক্তভাবে এটি প্রতিপালন করবো। ঢাকার যে নাম্বারগুলো আছে সেগুলো সাভার আশুলিয়া পর্যন্ত চলবে আবার এদিকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত চলতে পারবে। এরপর অন্য জেলা মুখেই আমাদের টিম থাকবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়া যেতে পারে, যেমন কেউ মুমূর্ষু রোগী নিয়ে আসছেন বা জরুরি হাসপাতালে যেতে হবে। এর বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পূর্বপশ্চিম/ম

মোটরসাইকেল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close