• মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

আগামী সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে  অবাধ ও সুষ্ঠু হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:  ২২ জুন ২০২২, ১৯:৪৭ | আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১২:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ফটো: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটি। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ বাংলাদেশের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করেন। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক সরকার সহায়তা করে।

এসময় আগামী সংসদ নির্বাচনকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া ১১টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সংবিধানের বিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করা হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি এটি জাতীয় সংসদে পাশ হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বেই বহু প্রত্যাশিত এ আইনটি বাস্তব রূপ লাভ করল।

সংসদ নেতা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংসদে উত্থাপিত হলে বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, যা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ করার প্রথম পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আধুনিক পদ্ধতির ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু করা হয়েছে। সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইন অনুসারে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সকল ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮(৪) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ৪ ও ৫ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। সে লক্ষ্যে নির্বাচনী কাজে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিত সহায়তার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার নিবন্ধন করেছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। তৎপরবর্তীতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ভোটার তালিকা আইন, এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন প্রণয়ন করেছে। ভোটার তালিকা আইন প্রণয়নের ফলে নির্বাচন কমিশন বিএনপির আমলে নিবন্ধিত সব ভুয়া ভোটার বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থে যারা ভোটার তাদের নিবন্ধন করেছে এবং সময়ে সময়ে, নিবন্ধন তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন প্রদান করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নিবন্ধিত সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সকল অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করে। নির্বাচনী তফসিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের সামগ্রিক আয়োজনের ব্যাপারে সকল অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলাপ আলোচনা করে থাকে।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর থেকে আচরণ বিধি প্রতিপালন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড নিয়োগ করা হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম মনিটরিং এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার্থে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ইভিএম এর ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সারাদেশে প্রচুর লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসাধারণকে ইভিএম সম্পর্কে অবহিত করার জন্য ডেমোনেস্ট্রেশন এবং ভোটার শিক্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে ভোটগ্রহণের ২ দিন আগে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করার লক্ষ্যে মক ভোটিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

পূর্বপশ্চিম- এনই

প্রধানমন্ত্রী,শেখ হাসিনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close