• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

দেশে এখনো মাঙ্কিপক্সের রোগী ধরা পড়েনি

প্রকাশ:  ২৪ মে ২০২২, ১২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে এখনো মাঙ্কিপক্সের রোগী ধরা পড়েনি। মঙ্গলবার (২৪ মে) বিএসএমএমইউর সি ব্লকের ডা. মিল্টন হলে মাঙ্কিপক্স নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা মাঙ্কিপক্স ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি। একই সঙ্গে দেশের মানুষকে যে কোনো ধরনের গুজব বা আতংক এড়িয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গুটিবসন্তের টিকা মাঙ্কিপক্স থেকে ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে অথবা সম্ভব হলে চারদিনের মধ্যে এই টিকা ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এফডিএ গুটিবসন্ত বা মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার জন্য একটি লাইভ, নন-রিপ্লিকেটিং স্মলপক্স এবং মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। সিডোফোভির- মাঙ্কিপক্সের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ স্মলপক্স ভ্যাকসিন, মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন উভয়ই লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাক্সিনিয়া স্ট্রেন থেকে উদ্ভূত।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ১২ দিন, ৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত। প্রড্রোম ১ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। জ্বরজনিত অসুখের সঙ্গে ঠান্ডা লাগা, ঘাম, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ফ্যারিঞ্জাইটিস, শ্বাসকষ্ট এবং কাশি হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, মাঙ্কিপক্স একটি ডিএনএ ভাইরাস। কাউপক্স, ভ্যাক্সিনিয়া এবং ভ্যারিওলা (স্ম্যালপক্স) এই গ্রুপের ভাইরাস। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস যার প্রাথমিক সংক্রমণ সংক্রমিত প্রাণির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বা সম্ভবত তাদের অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। উদাহরণ-জংলী কুকুর, ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, বানর, সজারু ইত্যাদি। ১৯৫৮ সালে ল্যাবরেটরিতে প্রথম বানরের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম দেখা দিয়েছিল বলে ১৯৭০ সালে এর নামকরণ হয় মাঙ্কিপক্স।

এই ভাইরাসের দুটি স্ট্রেইন আছে জানিয়ে ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কঙ্গো বেসিন স্ট্রেন পশ্চিম আফ্রিকার স্ট্রেইনের চেয়ে বেশি মারাত্মক। এই ভাইরাস পশু থেকে প্রাণি এবং পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণই সবচেয়ে ভয়ংকর মাধ্যম বলে বিবেচিত। ৯০ শতাংশ রোগী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। গুটিবসন্তের টিকা বন্ধ করা এর একটি কারণ হতে পারে।

আফ্রিকাতে ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুর হার রিপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে প্রাদুর্ভাবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

রোগী,দেশ,মাঙ্কিপক্স,বিএসএমএমইউ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close