• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

ওয়াসার উত্তরার ডিডব্লিউএসএনআইপি প্রজেক্টে মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম, দুদকে অভিযোগ

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০২২, ২১:৩৮ | আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২২, ২২:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়াসার উত্তরার ডিডব্লিউএসএনআইপি প্রজেক্টে মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ প্রজেক্টের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়; ঢাকা ওয়াসার এর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ডিডব্লিউএসএনআইপি)। পুরানো পানির সংযোগগুলো কে আরও আধুনিকরনের জন্য এডিপির অর্থায়নে প্রকল্পটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, এই প্রকল্পের অনুসন্ধান করা হলে লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রথমে প্রকল্প পরিচিতি এবং সংযুক্ত ব্যক্তিদের চক্রটি মূলত ওয়াসার বিভিন্ন প্রজেক্টর দূর্নীতিগুলো করে থাকে। তাই এই চক্রটিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা গেলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

কর্মকর্তাদের অনিয়ম: অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক আখতারুজ্জামান মূলত এই প্রকল্পের সবকিছু দেখভাল করে থাকেন। প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ের কাজের গুনগত মান সঠিকভাবে দেখভাল করার জন্য এডিবি এবং ওয়াসা কর্তৃক বিভিন্ন যোগাতার যাচাই বাচাই করে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কম্পানি নিয়োগ করে । এইখানেও তাই হয়েছে “সুদেব" নামে বাংলাদেশি কোম্পানি নিয়োগ করা হয়েছে যাদের প্রধান কার্যালয় মহাখালি ডিওএইচএস। এই কনসাল্টটেন্ট কোম্পানির কর্মচারির বেতন ভাতা ওয়াসা প্রকল্প থেকে দিয়ে থাকে। লোকবল অনেক কম থাকার পরও কনসাল্টটেন্ট ফার্ম লোকবল কাগজ কলমে বেশি দেখিয়ে বিল বেশি নিচ্ছে। পিডি আখতারুজ্জান এবং ওয়াসার সুপারেন্ড ইঞ্জিনিয়ার সালাম বেপারী সম্পর্কে বেয়াই সেই সুবাদে সালাম বেপারী এই প্রকল্পে এক চেটিয়া প্রভাব বিস্তার করেছেন।

পিডি আখতারুজ্জান এবং ওয়াসার সুপারেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সালাম বেপারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চাপ প্রয়োগ করে সালাম বেপারীর ভাই আজাদ বেপারীকে কাজ নিয়ে দেন। ঠিকাদার কোম্পানিকে সরাসরি কাজ না দিয়ে সালাম বেপারীর বন্ধুর কোম্পানি ইতেহা করোরেশনের মাধ্যমে উত্তারা ৯০৭ নম্বর ডিএমএ কাজ নিয়ে দেন। কনসাল্টটেন্ট কোম্পানি যেন কাজের ক্ষেত্রে বাধা না করতে পারে তাই তাদেরকে ও সাব-কন্ট্রাক দেয়া হয়েছে। কনসাল্টটেন্ট কোম্পানির তাদের অফিসের তার মানে “সুদেব” ম্যানেজার মো. লুতফর রহমান লিটনকে দিয়ে একটি আলাদা কোম্পানি অম্বিতা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃকে দিয়ে ইতেহা করোরেশনের সাথে চুক্তিতে কাজে আবদ্ধ করে অম্বিতা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ এর চেয়ারম্যান হচ্ছে জাকির।

যিনি “সুদেব” কনসাল্টটেন্ট কোম্পানির পরিচালক এবং “সুদেব" কনসাল্টটেন্ট কোম্পানির ম্যানেজার মোঃ লুতফর রহমান লিটন অম্বিতা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ এর পরিচালক এবং মূল ঠিকাদার কোম্পানির সিপিপি এর মেইনটেন্স ম্যানেজার মিঃ নূর এর ঘনিষ্ঠজন যিনি আগে সিপিপিতে চাকুরী করতেন উত্তম শর্মা কে অভিঙা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক করেছেন। মূলত মাঠে কাজ করছেন কনসাল্টটেন্ট কোম্পানি নিজেই। তাহলে কাজের মান কি হবে একটু চিন্তা করা যায়? যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আকর্ষনীয় বিষয় এই ইতেহা কর্পোরেশন কোনদিন বাংলাদেশে অতীতে এই ধরনের কোন কাজ করে নাই। এবং তাদের এ ধরনের কাজের কোন অভিজ্ঞতাও নাই শুধু কনসাল্টটেন্ট অফিস এবং ওয়াসার সালাম সাহেব কথায় এই ব্যবসায় আসে তারা তাদের কে গভীর ভাবে জিজ্ঞেস করা হলে সত্যতা পাওয়া যাবে। ওয়াসা থেকে ডিপিডি ওয়াহিদ তার নিজের তিনজন ঠিকাদার যা মূল ঠিকাদার কোম্পানির সিপিপি এর মেইনটেন্স ম্যানেজার নুর কে দিয়ে করিয়ে যাচ্ছে যা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে এবং কাজের নিম্নমান করলে তা মেনেজ করে ওয়াসার এই প্রজেক্টের ডিপিডি এবং লেনদেন করেন মূল ঠিকাদার কোম্পানির সিপিপি এর মেইনটেন্স ম্যানেজার নূর।

চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি বাংলাদেশ (সিপিপি) এই চায়না কোম্পানিটি মূলত কাজটি পেয়েছে। বাংলাদেশে ওয়াসার যে কয়টি কোম্পানি ওয়াসার কাজ করছে তার মধ্যে এইটি অন্যতম। প্রথম যে চুক্তির মেয়াদ ছিলো তা অনেক আগেই মেয়াদ শেষ পরবর্তিতে আবার সময় বাড়ানো হয় কিন্তু কাজের তেমন কোন অগ্রগতি নেই। তাদের যে টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে তা দিয়ে ইউরোপ, আমেকিার মানের কাজ পাওয়ার কথা কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি কিছু কর্মকর্তা যা নিম্নমানের কাজ করতে সকল ব্যবস্থা তারাই করে দিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই কোম্পানিটি ওয়াসার সাথে কাজের চুক্তির সময় স্পষ্ট লিখিত ছিল তারা কখনো সাব ঠিকাদার হিসেবে কাউ কে কাজ দিতে পারবে না কিন্তু তারা নিজেরা কোন কাজ করেনি।

কোন ওয়ার্ক ওয়ার্ডার না দিয়ে মূল কোম্পানির অফিসের লোকদের কে দিয়ে সাব কন্ট্রাক কাজ করাচ্ছে যার দরুন অতি নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। সব থেকে বড় দূর্নীতি হলো ঠিকাদার কে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা কাটার জন্য একটা বরাদ্ধ দেওয়া থাকে । সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা কাটতে হলে প্রতি মিটার হিসাব করে টাকা ডিমান্ড নোটের মাধ্যমে জমা দিয়ে রাস্তা কাটার অনুমতি নিতে হয় কিন্তু ঠিকাদার কোম্পানি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলিকে ম্যানেজ করে যেখানে রাস্তার কাটার পরিমান যতটুকু সেখানে নামে মাত্র দেখিয়ে নামে মাত্র টাকা জমা দিয়ে কোটি কোটি টাকা সরকার কে ফাকি দিচ্ছে। এর বিনিময়ে সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মকর্তরা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে।

এটি বুঝার উপাই অতিসাধারন তা হলো ঠিকাদার এর মূল চুক্তিতে কত মিটার রোড কাটিং আছে তার তথ্য মূল চুক্তিতে উল্লেখ্য করা আছে এবং মূল ঠিকাদার সিটি কর্পোরেশনে ডিমান্ড নোট কত জমা করেছে তাতে বুঝা যাবে তবে তারা নকল ঠিকাচুক্তি তৈরি করে সিটি কর্পোরেশনে জমা দিয়ে কম টাকা দেখাবে কিন্তু তার জন্য ওয়াসার কাছে যেতে হবে মূল চুক্তিতে কত টাকা বরাদ্ধ করা আর সিটি কর্পোরেশন কত জমা দেওয়া হয়েছে অথবা প্রয়োজনে এডিবির কাছে মূল চুক্তিতে কত আছে জানা যাবে কারন অর্থটা দিচ্ছে এডিবি। অথচ বিল ছাড় দেওয়ার সময় যদি ওয়াসা একটু সিটি কর্পোরেশনে তথ্য নেয় বা সিটি কর্পোরেশন একটু সতর্ক হয় তা হলে এই দূর্নীতি করতে পারতো না অথচ এইগুলো সব কনসাল্টটেন্ট অফিস না দেখার ভান করে বিল ছাড় দিতে সুপারিশ করে থাকে কারন সব শেষ এদের বিল তো সাব কন্ট্রাকি হিসাবে তারা পেয়ে থাকে। সিটি কর্পোরেশনের সকল অফিসারদের ম্যানেজ করে থাকে মূল ঠিকাদার কোম্পানি সিপিপি এর মেইনটেনেন্স ম্যানেজার নূর, তার সাথে কনসাল্টটেন্ট অফিসের লিটন, উত্তম শর্মা, এবং আগে সিপিরি চাকুরী করতেন নোমান এখন তার নামে কোম্পানি করে পার্টনার রেখেছেন সিপিপি এর মেইনটেনেন্স ম্যানেজার নূর। এই নূর ৩০/৩২ বছরের বয়সে কোটি কোটি টাকার মালিক।

নোমান যিনি শুধু সিপিপি মিনিমাম ৩০ কোটি টাকার কাজ করেছেন কিন্তু তার নিজের নামে আয়কর দেন শুণ্য যা তদন্ত করলে সত্যতা পাবেন, তিনি এখনো ২০ কোটি টাকার কাজ করে যাচ্ছে অথচ সিটি কর্পোরেশন থেকে কোন পারমমিশন নাই অফিস মেনেজ করে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সাইট অফিসঃ জামতলা মুনসিবাড়ী জামে মসজিদ, মসজিদ রোড, আজমপুর, দক্ষিণখান, উত্তরা, তার কাজ কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এলাকার কমিশনার সিটি কর্পোরেশন থেকে পরে আবার সিটি কর্পোরেশনকে ম্যানেজ করে যাচ্ছে। আরেকটি কোম্পানি ইতেহা কর্পোরেশন ৯০৭ নম্বর ডিএএমএ এর ওয়াসা থেকে কাজ ৬০% দেখিয়ে বিল উঠাইয়ে নিয়েছে কিন্তু সিটি কর্পোরেশনে নামে মাত্র টাকা জমা দেওয়া তাও সেটা ২০২০ সালের তার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তদের ম্যানেজ করে কাজ করছে।

পূর্ব পশ্চিম/জেআর

দুদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close