• রোববার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

শাবি শিক্ষার্থীদের অনশন ভঙ্গে নানকের যত ভূমিকা

প্রকাশ:  ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৫৫ | আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের অসদাচরণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ রূপন্তারিত হয় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এক দফার আন্দোলনে। দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা শুরু করেন আমরণ অনশন। প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অচলাবস্থা ছিল অব্যাহত, একের পর এক উদ্যোগ আর আলোচনায় মিলেনি কোনো সমাধান।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উদ্যোগী হয়ে উঠেন আওয়ায়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। অবশ্য শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু থেকে তিনি সার্বক্ষণিক খোজখবর নিয়েছিলেন। খুব গোপনে ঢাকা থেকে সিলেট পাঠান আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল। সেই দলের কাছ থেকে সংকট সমাধানে নেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। কথা বলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথেও। সবার পরামর্শ পর্যালোচনা করে আবারও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে।

মূলত: তাঁরই নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে নানকের নেতৃত্বে অপর একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেন ড. জাফর ইকবালের সাথে। বের হয়ে আসে অনশন ভাঙানোর উপায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অনশন শেষ পর্যন্ত ভঙ্গ হয়।

সাতদিন পর তারা পান করেন পানি। অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক আজ বুধবার ভোরে শাবিপ্রবিতে পৌঁছানোর পরপরই শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙ্গতে সম্মত হন।

এরপর হাসপাতাল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হয় ক্যাম্পাসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনশন ভাঙ্গানো হয়। এই অনশন ভাঙ্গানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ হলো এবং অনশন ভাঙ্গানোর ক্ষেত্রে কোনো রকম অগ্রগতিই হচ্ছিল না, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করতেও যখন শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তারা সেখানকার শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলের সাথে কথা-বার্তা বলতেন। এ রকম কথা-বার্তা বলার পরই নানক প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, যদি ড. জাফর ইকবালকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে এই সংকটের একটি সমাধান সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় অধ্যাপক জাফর ইকবালের বাসায় গিয়ে দেখা করেন।

সেখানে জাফর ইকবালের সাথে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে সিলেট যেতে রাজি করাতে সক্ষম হন। জাফর ইকবাল আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তার বাসায় গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি সস্ত্রীক সিলেটের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন এবং ভোরে সিলেট এসে পৌঁছান। তারপর অনশন ও আন্দোলনরতদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তাদের মুখে পানি তুলে দেন।

এদিকে, শাবি আন্দোলনের শুরু থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আন্দোলন প্রমসনে ভুমিকা রাখেন। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের নেতৃত্বে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, বিধান কুমার সাহাসহ শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপুমণির সাথে বৈঠক করেও তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাখে দেখা করতে যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানসহ নেতৃবৃন্দ।

পূর্বপশ্চিম= এনই

নানক,শাবি শিক্ষার্থীদের অনশন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close