• রোববার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশ‌ই অসংক্রামক রোগে

প্রকাশ:  ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ফটো

দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু বাড়ছে। যত মৃত্যু হয়, তার দশজনের মধ্যে সাতজনই অসংক্রামক রোগে ভুগে মারা যাচ্ছে। দেশের মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই হয় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ আরও কয়েকটি রোগের কারণে। এ সব রোগে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের বেশি মৃত্যু হয়। এ মৃত্যু এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

সম্পর্কিত খবর

    তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনের আলোচনায় চিকিৎসকেরা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের প্রতি তিনজনের একজন কিডনি রোগে ভুগছেন; অথচ, তাঁরা জানেন না। দেশের উচ্চ রক্তচাপে ভোগা মানুষের ৫০ শতাংশই জানেন না তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। আবার যাদের আছে, তাঁদের অর্ধেকের বেশি জানেন না উচ্চ রক্তচাপ তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একই অবস্থা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও।

    প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ জাতীয় অসংক্রামক রোগ সম্মেলনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্তদের অবস্থা, মৃত্যুহার ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সম্মেলন কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ‘৩৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ৫০ শতাংশেরই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যায়। যারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত, তাদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।’

    আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘দেশের গ্রাম অঞ্চলে যদি খুঁজে দেখা হয় কতজনের উচ্চ রক্তচাপ আছে, দেখা যাবে ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন জানে না যে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। মানুষ ফার্মেসিতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে ওষুধ খাওয়া শুরু করে। চিকিৎসকের কাছে যায় না। এ কারণে দেশে অসংক্রামক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’

    আলেয়া নাহিদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। মানুষ শারীরিকভাবেও অসুস্থ বোধ না করলে চিকিৎসকের কাছে যায় না। এ কারণেই অসংক্রামক রোগ মানুষের ওপর ভর করছে। সাধারণ মানুষের উচিত খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা। যেমন: লবণ ও চিনি বেশি না খাওয়া এবং তেল-চর্বি জাতীয় খাবার ও তামাক পণ্য পরিহার করা। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি খাওয়া উচিত।’

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য খাতে সফলতা আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সঠিক পরিকল্পনা করে কার্যকরী ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’

    সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস ভার্চুয়ালি যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘অসংক্রামক রোগের কারণে বাংলাদেশসহ মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রাথমিক পর্যায়েই এই রোগগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। দেশের ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য এটি দায়ী। প্রতি বছর দেশে ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ, ১০ শতাংশ ডায়বেটিস ও ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে ভোগে। প্রতি বছর নতুন রোগী যোগ হয় ৫০ হাজার। জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, তামাকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম, ওষুধের অপব্যবহারের কারণে এ রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে।’

    পিপি/জেআর

    অসংক্রামক রোগে
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close