• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

আকাশে উড়ছে ঘুড়ি, শুরু সাকরাইন উৎসব

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

পৌষ মাসের শেষদিন শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি)। বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে এই দিনটিতে শুরু হয়েছে পুরান ঢাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। সূর্যোদয় থেকে পুরান ঢাকার বাসাবাড়ির ছাদে শুরু হয়েছে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য সুতা মাঞ্জা দেওয়া থেকে শুরু করে পিঠা বানানোর ধুম পড়েছে পুরান ঢাকায়। তবে এবার সাকরাইনে ফানুস ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যোদয়ের সঙ্গে আকাশে উড়ছে ঘুড়ি। বাসাবাড়ির ছাদে কিশোর-কিশোরীদের হৈহুল্লোড়। আকাশে দেখা যায় বিভিন্ন নামের ঘুড়ি, সঙ্গে ঘুড়ি সর্বোচ্চ ওপরে ওঠানোর প্রতিযোগিতা আর কাটাকাটির লড়াই।

বাংলা বর্ষ অনুযায়ী আজ পৌষের শেষ দিন বা পৌষ-সংক্রান্তি। এই সংক্রান্তি কথাটিই পুরান ঢাকায় সাকরাইন নামে পরিচিত। আর সাকরাইনের মূল বৈশিষ্টই হলো ঘুড়ি উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রায় একমাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। বিশেষ করে এ এলাকার দোকানিদের ঘুড়ি এবং ফানুস বানানোর তোড়জোড় লক্ষ্য করা যায় বেশ জোরেসোরে।

পুরান ঢাকার বাসাবাড়ির ছাদগুলোতে এখন কিশোর-কিশোরীদের ঢল আর হৈ-হুল্লোড়। তাদের হাত ধরে আকাশে উড়ছে চোখদার, পানদার, বলদার, দাবাদার, লেজওয়ালা, পতঙ্গ ইত্যাদি নামের ঘুড়ি। নিজের ঘুড়িকে সবচেয়ে ওপরে তোলার প্রতিযোগিতা নিয়ে রয়েছে ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াইও। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাসার ছাদে শুরু হয়েছে সাউন্ড সিস্টেমে গানবাজনাও।

এই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই আকাশের বুকে বাড়তে থাকবে ঘুড়ির সংখ্যা। ঘরে ঘরে হবে পিঠাপুলির উৎসব। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই আকাশে উড়বে রংবেরঙের ফানুস। আতশবাজির আলোয় উজ্জ্বল হবে পুরান ঢাকার আকাশ। সন্ধ্যা পার হলেই শুরু হবে সাউন্ড সিস্টেম আর নাচ-গান।

এ বিষয়ে আমিনুর রহমান নামে এই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এক সময় ঘুড়ি, নাটাই আর মাঞ্জাতে সীমাবদ্ধ থাকলেও সাকরাইনের পরিসর এখন ব্যাপক। দিনের প্রথম পর্বে চলে ঘুড়ি কাটাকাটির প্রতিযোগিতা। গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি এবং 'ভোকাট্টা' রবের সঙ্গে সাউন্ড সিস্টেমের তালে তালে গানবাজনার মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাস চলতে থাকে শীতের মিষ্টি বিকেল জুড়ে।

সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয়ে যায় চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। লেজার শো আর 'ডিস্কো লাইট' এর পাশাপাশি কেউ কেউ কেরোসিন মুখে মশালে ফুঁ দিয়ে অগ্নিকুণ্ড তৈরি করে। সন্ধ্যার আকাশে ঘুড়ির জায়গা নেয় রঙিন ফানুস। আলোর ঝলকানিতে ঢেকে যায় পুরান ঢাকার সম্পূর্ণ আকাশ।

এদিকে করোনার বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় সরকার ১১ দফা বিধি-নিষেধ জারি করেছে। ফলে এবারো এ ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে এ বছর থার্টিফার্স্টে ফানুস পড়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় সাকরাইন উৎসব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে যাচ্ছে পুলিশ। উৎসবে এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফানুস ও আতশবাজি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

উৎসব,সাকরাইন,আকাশ,ঘুড়ি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close