• বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

বিদেশ থেকে এলে অবশ্যই মানতে হবে যেসব শর্ত

প্রকাশ:  ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৭:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে চার নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশে আসা যাত্রীদের এখন থেকে শর্ত সাপেক্ষে তিন দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

লকডাউনের মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হওয়ায় এই নির্দেশনাগুলো ২৪ থেকে ২৮ এপ্রিলের জন্য দেওয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজনে নির্দেশনাগুলোর সময় সীমা বাড়ানো হবে বলে বেবিচক সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক যাত্রী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করবেন। আগে তাদের পুরো সময়টা সরকারি সেন্টার বা হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করতে হতো। এখন যাদের পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ রয়েছে এবং তাদের মধ্যে যারা ভ্যকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন বা যারা এখনো কোনো ডোজ নেননি তাদের সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বা হোটেলে নিজ খরচে তিন দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে বাকি ১১ দিন তিনি বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। এটি স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করবে।

বেবিচকের দেওয়া নির্দেশনাগুলো হলো—

এক. প্লেনে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে। পিসিআরভিত্তিক পরীক্ষাটি ফ্লাইট ছাড়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা হবে।

দুই. আগত যাত্রীরা যারা এর মধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারা টিকা দেওয়ার প্রমাণপত্রসহ পিসিআরভিত্তিক করোনা নেগেটিভের সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখবেন। তাদেরও ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করবে।

তিন. আগত যাত্রীরা যারা পিসিআরভিত্তিক করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট ও করোনার প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছেন (টিকা দেওয়ার প্রমাণপত্রসহ) এবং যারা এখনো ভ্যাকসিন নেননি তাদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকার মনোনীত সুবিধাসহ হোটেল বা যাত্রীর নিজ খরচে তিনদিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তিনদিনের কোয়ারেন্টিন শেষে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। রিপোর্ট যদি নেগেটিভ আসে তবে ১১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আর রিপোর্ট পজিটিভ এলে সরকার মনোনীত সুবিধার আওতায় নিজ খরচে আইসোলেশনে থাকতে হবে।

চার. সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস যাত্রীদের বোর্ডিং পাস দেবে কিছু শর্তসাপেক্ষে। ক. দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে। খ. যারা ভ্যাকসিন নেননি তাদের সরকারি ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টিনে থাকার অথবা নিজ উদ্যোগে যে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকবে তার বুকিং থাকতে হবে। সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আসন না পাওয়া গেলে হোটেল রিজার্ভেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরেই যাত্রীকে প্লেনে উঠতে দেওয়া হবে।

করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্যে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে-বিদেশে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বেবিচক। তবে এই সময়ে প্রবাসীদের আনা-নেওয়ার জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাতার ও ওমানের বিশেষ ফ্লাইটগুলো আগের মতই চালু ছিল।

গত বুধবার থেকে বেবিচক চীনে চারটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ বিবেচনায় ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। ওই দিন থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতিও দেওয়া হয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

লকডাউন,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close