• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

করোনা রোগী আত্মহত্যার আগে চিরকুটে যা লিখেছেন

প্রকাশ:  ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিরকুটের লেখাটি তেমন স্পষ্ট ছিলো না। তবু পুলিশ সদস্যরা পড়ার চেষ্টা করেছেন। এতে লেখা ছিলো, ‘আমি স্বেচ্ছায় আত্মহননের পথ বেছে নিলাম। আমাকে মুসলিম রীতিতে দাফন করা হোক।’

চিরকুটটি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১তলার ১১০৬ নম্বর কেবিন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই রুমেই ছিলেন হাসিব ইকবাল হক নামের ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তার ডাক নাম সানি।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজের একজন ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকের রেফারেন্সে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে ১০টার দিকে হঠাৎ তিনি হাসপাতালের কেবিনের বাইরের রেলিং থেকে লাফ দেন। পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মুগদা মেডিকেলের ১১তলার একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, আমাদের রুমে একজন নার্স এসে বলল আপনাদের রোগী আছে? আমাদের নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়ে চলে গেলো। পরে জানতে পারলাম কেউ একজন মারা গেছে। তিনি কোন রুমের রোগী চিকিৎসকরা তা জানার চেষ্টা করছেন।

এএইচ এম ফারুক নামে ১১তলার একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, ১০টার দিকে হাসপাতালে ১১তলা থেকে একজনের লাফ দিয়ে একজনের আত্মহত্যার খবর শুনলাম। তবে তাকে প্রথমে শনাক্ত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর পরিচয় জানতে হাসপাতালের প্রায় সবগুলো রুম সার্চ করা হয়। অবশেষে ১১তলার ১১০৬ নম্বর রুমের এক রোগীকে না পেয়ে আত্মহননকারীর বিষয়ে নিশ্চিত হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার রুমে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্যান্য কর্মকর্তারা। হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে তারা রোগীর নাম ও বর্তমান ঠিকানা জানতে পারেন। ওই রোগী নিউ ইস্কাটনের ৫৪ নম্বর বাড়ির বি-২ ফ্ল্যাটে থাকেন। তবে হাসপাতালে তার স্বজন বা পরিবারের কারও বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

পরে তার এক সৎ ভাইয়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ। তার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, হাসিব অবিবাহিত। ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। পরিবারে কেউ নেই। অসুস্থ বোধ করায় মুগদা মেডিকেলের প্রফেসর রুবিনা ইয়াসমিন তাকে এখানে ভর্তি করেন। তার আত্মীয়স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। একা থাকতে থাকতে তার মানসিক সমস্যাও হয়েছিল।

ঘটনাস্থল থেকে হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, হাসিব ইকবাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের ১১তলায় ভর্তি ছিলেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ১১তলা থেকে তিনি লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসআই শরিফুল বলেন, তার রুমে এক পাতার সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেটাতে ‘আমি স্বেচ্ছায় আত্মহননের পথ বেছে নিলাম। আমাকে মুসলিম রীতিতে দাফন করা হোক,’ লেখা ছিলো। তার পরিবারে কেউ নেই। সৎ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আসছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে হাসপাতালের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সুইসাইড নোটটি একাধিক পৃষ্ঠার ছিল। অনেকে পুলিশ আসার আগে এটি পড়েছে। তবে পরে পুলিশ এসে বলল মাত্র এক পৃষ্ঠার এক লাইনের নোট।

জানতে চাইলে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএস

আত্মহত্যা,করোনা রোগী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close