• সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

ঝর্ণার সন্ধান পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা

প্রকাশ:  ১১ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫২ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক টিম সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমান একটি গণমাধ্যমের কাছে তিনটি ডায়েরি নিয়ে কথা বলার পর থেকেই ঝর্ণার ফোন নম্বরও বন্ধ পাচ্ছেন তার সন্তানেরা। উদ্বিগ্নতায় কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।

অন্যদিকে, বর্তমানে ঝর্ণার তিনটি ডায়েরিই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হস্তগত হয়েছে। এ ব্যাপারে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ডিবি পুলিশ। এ ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, আসলে তিনটি ডায়েরিসহ আরও কিছু ডকুমেন্টস আমাদের কাছে এসেছে। এগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। তবে তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

গত ৩ এপ্রিল এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে অবকাশ যাপনের সময় আটক হন হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হক। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ঘটনার পর প্রায় এক ডজন অডিও-ভিডিও ফাঁস হয়েছে।

জানা গেছে, রয়েল রিসোর্ট কান্ডের পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার ২৩/৩, নর্থ সার্কুলার রোডে থাকলেও বর্তমানে ঝর্ণার কোনো হদিস পাচ্ছেন না তার পরিবারের লোকজন। আগে সন্তানদের সঙ্গে কথা বললেও গত তিন-চার দিন ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন না ঝর্ণা। তবে কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় বসবাস করছেন বলে একটি খবর এলেও সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

জান্নাত আরা ঝর্ণা দীর্ঘদিন ধরে নর্থ সার্কুলার রোডের ওই বাসার চতুর্থ তলায় সাবলেট থাকতেন। অবিবাহিত পরিচয়ে জান্নাত আট-নয় মাস ধরে তাদের বাসায় সাবলেট রয়েছেন। সর্বশেষ প্রায় আট দিন আগে গত শনিবারের আগের শনিবার তিনি বাসায় ছিলেন। আগে পার্লারে চাকরি করতেন ঝর্ণা। তবে কিছুদিন আগে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঝর্ণা বাড়ির মূল ভাড়াটিয়া সালমা খানমের কাছ থেকে সাবলেট নিয়েছিলেন। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

আরো পড়ুন: মামুনুল হকের আরেক প্রেমিকার সন্ধান

ডায়েরিতে যা লিখেছেন ঝর্ণা: হাফেজ শহীদুল ইসলাম এবং জান্নাত আরা ঝর্ণার ঘরে আবদুর রহমান ও তামীম নামে দুই পুত্র সন্তান আছে। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট খুলনার মাদরাসা শিক্ষক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় জান্নাত আরা ঝর্ণার। পরবর্তীতে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তার কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। এবার তার লেখা ২০০ পৃষ্ঠার তিনটি ডায়েরি ডিবির হাতে এসেছে। এসব ডায়েরিতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

ওই ডায়েরিগুলোতে ঝর্ণা তার জীবনের অনেক ঘটনাই লিপিবদ্ধ করেছেন। একটি অংশে লিখেছেন, কিছুদিন বাবার বাড়িতে থাকার পর হেফাজত নেতা মামুনুল হকের জিম্মায় অবিবাহিতা উল্লেখ করে ঢাকার নর্থ সার্কুলার সড়কের একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় সাবলেট ভাড়া নেন। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত জান্নাতের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন তিনটি ডায়রিতে।

প্রথম ডায়রিতে জান্নাত লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। শরীরের দাবিদার আছে।’ এরপর লিখেছেন, ‘মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ সব জেনে মামুন সাহেব যা করেছেন আমি শুধু তার টাকা ফেরত দিতে চাই,... আল্লাহ কবুল করো।’

দ্বিতীয় ডায়েরিতে জান্নাত লিখেছেন, ‘আমার প্রতি কখনো কারও মায়া জন্মায়নি। শুধু প্রেমে পড়েছিল, কেউ কখনো সত্যিকারে ভালোবাসেনি। আমাদের সঙ্গে শুধু প্রেম হয়েছিল। কোনো ভালোবাসা ছিল না, ছিল শুধু ক্ষণিকের আবদার পূরণের আমেজ।’

দ্বিতীয় ডায়েরির শেষ পাতায় লিখেছেন, এম, ২০/০২/১৯, এগ্রিম্যান্ট স্টার্ট। এই সংক্ষিপ্ত লেখার ব্যাখ্যা তৃতীয় ডায়েরিতে দেন জান্নাত। সেখানে লিখেন, স্বপ্নে দেখলাম হেল্প চাচ্ছি। বাট সে হাতটা বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরেছে। ভাবছিলাম ঘুমের মাঝে বিয়ে না করে জড়িয়ে কেন ধরেছে? ‘এবার বাস্তবতা শুরু ঠিক ফেব্রুয়ারির ১৯ বা ২০ হবে এখন চলছে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি তাকে খুব ঘৃণা করি। আবার কখনো মনে হয় ভালোবাসি, তবে হ্যাঁ আমার লাইফটা নরক বানিয়ে ফেলেছে।’

এরপর জান্নাত লিখেছেন, সাদা সাদা জামা পরলে আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না। মুখোশধারিও হয়। মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ?

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জান্নাত লিখেছেন, ‘টাকা দিয়ে আমার দেহ কিনেছিলেন। আজ আপনার টাকা আমি ফেরত দিতে চাই। শুধু আমার সময় ফেরত চাই। কেন করেছিলেন এমন। আপনার অনেক টাকা ছিল, পাওয়ার ছিল তাই?’ বিবাহবহির্ভূত মেলামেশার অনুশোচনার কথাও উঠে এসেছে ঝর্ণার ডায়েরিতে। ডায়েরির পাতায় পাতায় রয়েছে মামুনুলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আর্তনাদ। ডায়েরিতে ঝর্ণা লেখেন, আমি তাকে ভালোবাসি না ঘৃণা করি বুঝতে পারছি না। কিন্তু সে আমার জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলছে।

কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান মামুনুল হক। সেখানে তিনি স্বীকার করেন গত কয়েক দিনে ফাঁস হওয়া ফোনালাপ তারই ছিল। আত্মপক্ষ সমর্থন করে মামুনুল বলেন, ‘স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করা যায়।’

আরো পড়ুন: উনি পুরা ফাঁইসা গেছে, মামুনুল হক প্রসঙ্গে রিসোর্টের নারীসঙ্গী

বিয়ে নয়, খরচ দিয়ে চুক্তিতে ঝর্ণাকে ভোগ করতেন মামুনুল

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

হেফাজতে ইসলাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close