• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

উন্নত দেশের গণমাধ্যমও বাংলাদেশের মতো স্বাধীন নয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:  ৩০ মার্চ ২০২১, ১৫:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বাংলাদেশে গণমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে অনেক উন্নত দেশও এই পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে না।’

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘৫০ বছরে গণমাধ্যমের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে একটি ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে ১৬৭ বছরের পুরোনো পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড, যেটি এক সময় বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বিবিসিকে পৃথিবীর প্রথম সারির গণমাধ্যম হিসেবে ধরা হয়, সেখানে একজন এমপির বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ পরিবেশনের প্রেক্ষিতে মামলা হয়। সেজন্য বিবিসির প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু অসত্য বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশের কোনো সংবাদপত্র বন্ধ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে প্রতিনিয়ত ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে অসত্য সংবাদ, ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয় না এটি কেউ বলতে পারবে না; প্রচুর হয়। কিন্তু এ অসত্য বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনো সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দেশে কোনো একজনের বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশন করা হলে সংবাদটি প্রথম পেজে দিলেও প্রতিবাদটি ছাপা হয় তৃতীয় পেজে ছোট করে। টিভিতে কোনো অসত্য প্রতিবেদন হলে তার প্রতিবাদ তো কোনোভাবেই সেখানে যায় না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আইন সারাদেশের মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। এটা কোনও গোষ্ঠীর জন্য নয়। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হন করা হয়, কিংবা তার পরিবার সম্পর্কে লেখা হয় তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন? এই আইনে তিনি প্রতিকার পাবেন। এই আইন একজন লেখক, গৃহিণী, কৃষক, চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ সবার ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। যখন ডিজিটাল বিষয়টি ছিল না তখন এই আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। বাংলাদেশে এই আইনের যেই ধারা নিয়ে কথা হচ্ছে, ভারতেও ইনফরমেশন টেকনোলোজি অ্যাক্টে একই ধারা ৬৬ ধারা। একই ধরনের আইন আছে পাকিস্তানে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ফ্রেইম ওয়ার্ক ল করেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য। এছাড়া সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরনের আইন হচ্ছে।‘

তিনি আরো বলেন, ‘এই আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আমি। এখানে যাতে কোনও সাংবাদিক অহেতুক নিপীড়িত না হয়, সেটি নিয়ে আমিও আপনাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকি। এখানে যে জামিন হয় না তা নয়। আমি নিজেই অনেকের জন্য জামিনের চেষ্টা করেছি। এখানে আরও কী করা যায় সেটি আলোচনার বিষয়। এই আইনে কারও ওপর যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সেটির জন্য আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

৫০ বছরের গণমাধ্যমে ব্যাপক বিকাশ হয়েছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ৫০ বছরের খতিয়ান দেবো না। আমি গত ১২ বছরের খতিয়ান দিতে চাই। ১২ বছর আগে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ৪৫০, এখন ১২৫০। ১২ বছর আগে টেলিভিশন ছিল ১০টি। এই বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব পাওয়ার পর। এখন অন এয়ারে আছে ৩৪টি এবং আরও অন এয়ারে আসার অপেক্ষায় আছে ১১টি। অনলাইন গণমাধ্যম আগে হাতে গোনা কয়েকটি ছিল। এখন কয়েকশ কিংবা কয় হাজার সেটি একটি পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ হাজার আবেদন জমা পড়েছে নিবন্ধনের জন্য। আমরা ইতোমধ্যে কয়েকশ দিয়েছি, আরও কয়েকশ দেওয়া হবে। এভাবে গণমাধ্যমের এক্সপটেনশিয়াল গ্রোথ (দ্রুত বৃদ্ধি) হয়েছে বাংলাদেশে। এই গ্রোথের সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনও একজনের বিরুদ্ধে একটি বক্তব্য দেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ জানান। ভুল সংবাদ প্রথম পাতায় বড় করে আর প্রতিবাদটি তৃতীয় পাতায় ছোট্ট করে ছাপানো হয়। কিছু পত্রিকার ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম আছে। আর টেলিভিশনে যদি অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হয় সেটার প্রতিবাদ সেখানে কোনোভাবেই যায় না। এটি বাস্তবতা। গণমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে যাতে আমার স্বাধীনতা যেন অপরের স্বাধীনতাকে হরণ না করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে উপমহাদেশে কোনও সাংবাদিকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান কোথাও দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশে করোনাকালে সাংবাদিককল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে ইতোমধ্যে তিন হাজার সাংবাদিককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আরও এক হাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি আমরা দিতে পারবো।’

ডিআরইউ’র সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শওকত মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিটি ব্যাংক-ডিআরইউ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

তথ্যমন্ত্রী,আওয়ামী লীগ,ড. হাছান মাহমুদ,ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close