• শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
  • ||

শহীদ মিনারে লিলি চৌধুরীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

প্রকাশ:  ০২ মার্চ ২০২১, ১৭:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সহধর্মিণী নাট্যাভিনেত্রী লিলি চৌধুরী প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টায় লিলি চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে সেখানে শিক্ষক, লেখক, সাহিত্যিক, অভিনেতা, নাট্যনির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বলেন, বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সহধর্মিণী লিলি চৌধুরী নাট্যজগতের একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। সাম্প্রদায়িকতাকে উপেক্ষা করে তিনি সংস্কৃতিজগতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে লিলি চৌধুরীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘শহীদ মুনির চৌধুরী ও লিলি চৌধুরী দম্পতি নানাভাবে আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের দেখানো পথ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়েছি আমরা, আমাদের তরুণ সংস্কৃতি কর্মীরা। এই দম্পতি অফুরন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। অনেক সংগঠন তাকে (লিলি চৌধুরী) পুরস্কৃত করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সরকার, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সরকারও লিলি চৌধুরীকে কোনো পুরস্কার দেননি। তিনি একুশে পদক পাননি, স্বাধীনতা পদক পাননি। দুর্ভাগ্য আমাদের একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল তাদের স্বাধীনতার পদক এখনো রয়ে গেছে। এই শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে সরকারের কাছে আমার দাবি এই বছর স্বাধীনতা পদকের তালিকায় লিলি চৌধুরীর নাম থাকবে।’

শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজনে নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মঞ্চনাটকের পথ যারা করে দেন, তাদের অন্যতম লিলি চৌধুরী। স্মৃতিচারণা করে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘প্রিয়জন হারানোর দুঃখ নিয়ে বেঁচে ছিলেন লিলি চৌধুরী। আমরা যেন লিলি চৌধুরীর অবদানকে ভুলে না যাই।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘লিলি চৌধুরী এমন সময়ে অভিনয়ে এসেছিলেন, যখন আমাদের সমাজব্যবস্থায় নারীদের এই অভিনয়ে আসাটা ছিল লড়াইয়ের মতো। সাম্প্রদায়িকতা উপেক্ষা করে যে কয়েকজন সংস্কৃতিতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্যে লিলি চৌধুরী অন্যতম। তিনি অন্যদের অনুপ্রাণিত করেছেন। নারীদের অভিনয়জগতের পথপ্রদর্শক তিনি।’

নাট্যজগতে লিলি চৌধুরীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণ যখন অস্বস্তিকর সময় পার করছিল, তখন বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন লিলি চৌধুরীর মতো মানুষেরা। মুনীর চৌধুরী ও লিলি চৌধুরীর কাছে জাতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের সন্তানেরাও সমাজে অবদান রাখছেন।

লিলি চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার মা পরিবারের ছায়া হয়ে ছিলেন। মানুষ যেন লিলি চৌধুরী সম্পর্কে আরও জানতে পারে, তারা সে চেষ্টা করবেন।

লিলি চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহাসহ প্রমুখ।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে লিলি চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বনানীর বাসায় ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন লিলি চৌধুরী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

শ্রদ্ধা,লিলি চৌধুরী,শহীদ মিনার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close