• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

পাঁঠা স্বল্পতায় হুমকিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল

প্রকাশ:  ০২ মার্চ ২০২১, ০১:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অন্য জাতের শংকরায়ণের কারণে হুমকিতে সম্ভাবনাময় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল। পাঁঠার অভাবে অন্য জাত দিয়ে শংকরায়ণ করছেন অনেক খামারি। এতে করে ব্ল্যাক বেঙ্গলের জাত বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ জাতের সঠিক সম্প্রসারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও জানিয়েছে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস বিশ্বজুড়ে কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত, যা বিশ্বের অন্যতম সেরা ছাগলের মাংস হিসেবে সমাদৃত। ২০১৮ সালে এই ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। এর আগে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) ও আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা সংস্থা থেকে বিশ্বের ১০০টি ছাগলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি গবেষণা করে। তাতে বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ইয়াহিয়া খন্দকার জানান, এই ছাগলের গায়ের রং মূলত কুচকুচে কালো। এটি আকারে বেঁটে, কিন্তু শরীরের কাঠামো শক্তপোক্ত ও পেশিবহুল। এর গায়ের লোম খাটো এবং শিং ছোট হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছাগল বা পাঁঠার ওজন হয় ২২ থেকে ৩০ কেজি, ছাগির ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি হয়।

তিনি আরো জানান, বহু বছর ধরে এ অঞ্চলে আবাস হবার কারণে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের জিনগত বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে গেছে। যে কারণে মূলত বাংলাদেশেই তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর এ কারণে সরকারেও উচিত এই জাত সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করার।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমাল নিউট্রিশন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তৃণা বিশ্বাস জানান, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ১৪ মাসে দুইবার বাচ্চা দেয়, প্রতি বারে অন্তত দুইটি, সর্বোচ্চ ৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে একবারে। এই ছাগল দুধ কম দিলেও মাংশ ও চামড়া বিখ্যাত। একটু সমস্যা এদের আছে তা হলো ঠাণ্ডজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তবে ওভার-অল প্রোডাকশন ভালো। সবচেয়ে বড় ব্যাপার বাংলাদেশের একমাত্র নিজস্ব ব্রিড এই ব্ল্যাক বেঙ্গল। ফলে সরকারের উচিত ব্ল্যাক বেঙ্গলের দিকে নজর দেয়ার।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বে ছাগলের জাতের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল। অধিক বাচ্চা উৎপাদনের সক্ষমতার পাশাপাশি সুস্বাদু মাংসের জন্য জনপ্রিয়। তবে দেশের আবহাওয়া ব্ল্যাকবেঙ্গল উৎপাদন উপযোগী হলেও বাণিজ্যিকভাবে তেমন প্রসার হয়নি। কারণ ব্ল্যাক বেঙ্গলের বংশ বৃদ্ধির জন্য দেশে পাঁঠা ছাগলের স্বল্পতা রয়েছে। তাই খামারিরা অন্য জাতের শংকরায়ণের সুযোগ নেয়ায় এর সংখ্যা বাড়েনি।

বাকৃবির অধ্যাপক ইয়াহিয়া খন্দকার জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের জিনের গুনাগুণ, বিশেষ করে প্রজনন ক্ষমতার গুনগত মান হ্রাস পেয়েছে। এর বড় কারণটি হচ্ছে দেশে এই জাতের পাঁঠার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গায়ে দুর্গন্ধ হয় হয় বলে লোকে পাঁঠা পালন করতে চায় না। এর ফলে পাঁঠা হিসেবে ছাগলে জন্ম হলেও সেগুলোকে খাসি করে দেয়া হয় । তাছাড়া বাংলাদেশে পাঁঠার মাংসের চাহিদাও নেই- যে কারণে পাঠার সংখ্যাও কম।

এদিকে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক শরিফুল হক জানান, ব্ল্যাকবেঙ্গল জাতের ছাগল উৎপাদন বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। খামারিদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে উৎপাদিত উন্নত জাতের পাঁঠা। সারা দেশে ছাগল ২ কোটি ৮০ লাখ। যার ৬০ ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের বলেও তিনি জানান।

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০০০ সালের দিকে কৃত্রিম প্রজননের ওপর গবেষণা শুরু করে। এখান থেকে গবেষণাগারে উৎপাদিত উন্নত জাতের পাঁঠা খামারিদের মধ্যে দেয়া হয়, তবে সে সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

পিপি/জেআর

পাঁঠা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close