• শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

যে কারণে প্রেমিককে ৫ টুকরো করেন এই নারী

প্রকাশ:  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাম তার শাহনাজ, বয়স ৫০। প্রেম করতেন নিজের চেয়ে ১৮ বছরের ছোট সজীব নামের এক তরুণের সঙ্গে। মূলত পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এই দু’জন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সজীবের খণ্ড খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সজীবের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানার নারায়নকান্দি (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামে। তিনি রাজধানীর সায়েদাবাদে শ্যামলী বাসের একটি কাউন্টারে কাজ করতেন। এছাড়াও তিনি শাহনাজ পারভীনের বুটিকসের ব্যবসায়ও সহযোগিতা করে আসছিলেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।

শাহনাজ স্বামীবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তার দুই ছেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং একমাত্র মেয়ে কলেজে পড়েন। নিহত সজীবের সঙ্গে শাহনাজের চার-পাঁচ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। তারা একটি বাসায় মাঝে মাঝে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সায়েদাবাদের কে এম দাস লেনের ৬ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন শাহনাজ ও বাসের টিকিট কাউন্টার কর্মী ৩২ বছরের সজীব।

এদিকে, স্ত্রী নিখোঁজ থাকায় মঙ্গলবার ওয়ারি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শাহনাজের স্বামী। বৃহস্পতিবার সকালে শাহনাজ তার স্বামীকে ফোন দিয়ে বলেন তিনি বিপদে আছেন। এ ফোন পেয়ে স্বামী পুলিশ নিয়ে হাজির হন ওই বাসায়। এসময় দেখতে পান সজীবের ৫ খণ্ড মরদেহের পাশে বসে আছে তার স্ত্রী শাহনাজ।

জানা গেছে, সজীবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন শাহনাজ। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের ঘটনাও ছিল। স্বামী বৃদ্ধ হওয়ায়, ১৮ বছরের ছোট প্রেমিক সজিব হাসানকে জুটিয়ে নেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী।

শাহনাজের সঙ্গে পরকীয়া থাকাকালীন তার মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন সজীব। সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে অর্থ লেনদেন নিয়ে তর্কবিতর্ক হওয়ায় যুবক বয়সী প্রেমিকের বুকে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করেন এই দুর্ধর্ষ নারী। পরে প্রেমিকের হাত পা কেটে ৫ টুকরো করেন তিনি। দুই হাতের অংশ এবং দুই পায়ের অংশ বাথরুমে ঢুকিয়ে রাখেন এবং মাথাসহ শরীরের বাকি অংশ রুমের মধ্যেই মেঝেতে উপুড় করে ফেলে রাখেন। যা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। ওই বাসায় গিয়ে একই অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন ১৭/১ কে এম দাস লেনস্থ হোল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায়।

স্থানীয়রা বলছেন, গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শাহনাজ পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) কামরুল ইসলাম জানান, ওয়ারী থানাধীন ১৭/১ কে এম দাস লেন হোল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় ঘটনায় নিহত সজীব হাসানকে হত্যা করা হয়। প্রেমিকা শাহানাজ সজীবের ছুরি দিয়ে বুকের নিচে পাড় দেয়। পরবর্তীতে তার দু’হাত এবং দু’পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৫/৬ বছর আগে থেকে সজীব সাথে শাহানাজের অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছিল। গত ২ দিন আগে হত্যাকারী শাহানাজ তার প্রকৃত স্বামীর ঘর সংসার ছেলে মেয়ে রেখে স্বর্ণাংলকার কাপড় চোপড় ও টাকা পয়সা এবং লাগেজ নিয়ে বাড়ি হতে বের হয়ে সজীবের সঙ্গে দেখা করে এবং তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সজীবের বাসায় অবস্থান করতে শুরু করে।

ওই নারী পুলিশের কাছে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সজীব তার টাকা পয়সা ও স্বর্ণাংলকার নিয়ে বিক্রি করতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরেই সজীব তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করতে চাইলে ছুরি কেড়ে নিয়ে উল্টো তার বুকের নিচে পেটের উপরি ভাগে পাড় দেন শাহনাজ। হত্যাকারী শাহানাজ প্রেমিক সজিবের তুলনায় শারীরিক গঠনে খুবই ভালো। হত্যা শেষে ছুরি দিয়ে সজীবের দু’হাত, দু’পা বিছিন্ন করা হয়। এ কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও শীল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই নারীকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহনাজ পারভীনকে আসামি নিহতের খালু নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে টিকাটুলির কে এম দাস লেন একটি বাসায় ডেকে নিয়ে শাহনাজ পারভীন ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তাকে।

ওয়ারী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে শাহনাজ পারভীনের স্বামী জসীম উদ্দীন ওয়ারী থানায় স্ত্রী নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটুলির ওই বাসা থেকে সজীবের মরদেহসহ শাহনাজ পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়।

জসীমউদ্দীন স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিল কিনা বা বিষয়টি জানতো কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা, এ বিষয়ে জানতে পরিবারের যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ বলে জানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি স্বামী জসীম উদ্দীনকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে আসছিল সজীব। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করায়, কৌশলে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় সজীবকে‌। ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ ৫ টুকরা করে শাহনাজ পারভীন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ঝিনাইদহ,পরকীয়া,রাজধানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close